Find us on

অত্যাচার থেকে মুক্তি পেতেই খুন, গ্রেফতার দম্পতি
আলিপুরদুয়ার
উত্তরবঙ্গ

শামুকতলা, ৩১ জানুয়ারিঃ যুবক খুনের এক সপ্তাহের মধ্যেই ওই ঘটনার কিনারা করল শামুকতলা থানার পুলিশ। গত শনিবার রায়ডাক চা বাগানের ২৩ নম্বর সেকশনে নালায় মোটে রাই নামে এক যুবকের রক্তাক্ত মৃতদেহ উদ্ধারের পর ঘটনার তদন্তে নামে পুলিশ। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করতে পুলিশের পক্ষ থেকে গত কয়েকদিন ধরেই ব্যাপক তল্লাশি চালানো হয় এলাকায়। শেষপর্যন্ত তথ্যপ্রমাণ হাতে আসার পরই ওই খুনের ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে মঙ্গলবার রাতে গ্রেফতার করা হয় রায়ডাক চা বাগানেররই বাসিন্দা এক চা শ্রমিক দম্পতিকে। ধৃতদের নাম অঞ্জু ওরফে পুকু খড়িয়া (৩২) এবং বিমল ওরফে সুখলাল খড়িয়া (৩৮)। শামুকতলা থানার পুলিশ জানিয়েছে, বুধবার ধৃতদের এসিজেএম কোর্টে পেশ করা হয়েছে।

পুলিশের জেরায় অঞ্জু খড়িয়া জানিয়েছেন, চা বাগানের স্থানী শ্রমিক অঞ্জু ৩ ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে থাকতেন। স্বামী বিমল খড়িয়া কর্মসূত্রে মহারাষ্ট্রের পুনেতে থাকতেন। স্বামীর অনুপস্থিতিতে মোটে রাই মদ্যপ অবস্থায় বাড়িতে ঢুকে কুপ্রস্তাব দেওয়ার পাশাপাশি নানাভাবে অত্যাচার চালাতেন। এমনকি ছেলেমেয়েরাও তার নির্যাতনের হাত থেকে রেহাই পেত না। বহুবার মানা করা হলেও সে শোনেনি। গত শুক্রবার রাতে ফের বাড়িতে এসে অত্যাচার শুরু করে। ছেলেমেয়েদের সামনেই অকথ্য ভাষার গালমন্দ করে ফের কুপ্রস্তাব দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন অঞ্জু খড়িয়া। ঘটনাচক্রে কয়েকদিন আগেই বাড়িতে ফিরেছিলেন বিমল খড়িয়া। ঘটনার সময় পাশের বাড়িতে পিকনিকে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। স্ত্রী ও ছেলেমেয়েদের চিত্কার শুনে ছুটে আসেন তিনি। বাড়ির উঠোনে ওই যুবককে মদ্যপ অবস্থায় দেখে স্বামী-স্ত্রী দু’জনেই ওই যুবকের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। হাতের কাছে জ্বালানি কাঠ দিয়েই মদ্যপ ওই যুবকের মাথায় এবং পায়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন। এরপর গলায় ফাঁস লাগিয়ে আধমরা করার পর যুবকের মাথায় পাথর দিয়ে আঘাত করেন। পরে দেহটি চা বাগানের নালায় ফেলে দেন তারা।

অত্যাচার থেকে মুক্তি পেতেই খুন, গ্রেফতার দম্পতি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *