শনিবার, জানুয়ারি ২১, ২০১৭


Find us on

রক্ত পরীক্ষার ভুল রিপোর্টে বিপাকে রোগী

জলপাইগুড়ি, ১৬ নভেম্বর ঃ  জলপাইগুড়ি শহরের একটি প্যাথোলজিক্যাল ল্যাবের ভুল রিপোর্টের জেরে কিডনির কঠিন রোগে আক্রান্ত এক ব্যক্তি বিপাকে পড়েছেন। রিপোর্টে ওই ব্যক্তির রক্তে হিমোগ্লোবিন-এর পরিমাণ ০.৯ g/dl উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু  চিকিত্সকদের মতে, কোনো জীবিত ব্যক্তির রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কোনোভাবেই ০.৯ g/dl হতে পারে না। জলপাইগুড়ির মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ জগন্নাথ সরকার বলেছেন, কিভাবে একজন প্যাথোলজিস্ট এই রিপোর্ট দিলেন, তা আমার বোধগম্য হচ্ছে না।

জলপাইগুড়ি শহরের বাবুপাড়ার বাসিন্দা অমিত গঙ্গোপাধ্যায় কিডনির রোগে আক্রান্ত। চিকিত্সকের পরামর্শে অমিতবাবু শহরের বেগুনটারি এলাকার মহাত্মা গান্ধি রোডের হেলথ কেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টার-এ গত ২২ অক্টোবর রক্ত পরীক্ষা করান। রিপোর্ট হাতে পেয়ে অমিতবাবু দেখেন হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ ০.৯ g/dl উল্লেখ করা হয়েছে। অমিতবাবু দীর্ঘদিন মেডিকেল রিপ্রেজেনটেটিভ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাই রিপোর্ট দেখে তিনি হতবাক হয়ে যান।

অমিতবাবু এখন জলপাইগুড়ি জেলা হাসপাতালে চিকিত্সাধীন। হাসপাতালের শয্যায় শুয়ে তিনি অভিযোগ করেন, ভুল রিপোর্টের ব্যাপারে ডায়াগনস্টিক সেন্টার কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলাম। কিন্তু  সেন্টারের কর্তৃপক্ষ দুঃখ প্রকাশ তো করেইনি, উলটে দুর্ব্যহার করে বলেছে, যা করার আপনি করে নিন। আমি এটা ভেবেও আশ্চর্য হয়ে যাচ্ছি যে, একজন চিকিত্সকই বা কিভাবে এমন ভুল রিপোর্টে স্বাক্ষর করলেন। বিভিন্ন মহল থেকে শুনেছি চিকিত্সকদের একাংশ নাকি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ফাঁকা প্যাডে আগাম স্বাক্ষর করে রাখেন। পরে সেই প্যাডে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের তরফে রিপোর্ট টাইপ করে দেওয়া হয়ে। আগাম স্বাক্ষরের জেরেই কি বিষয়টি চিকিত্সকের নজর এড়িয়ে গিয়েছে ? আমি মেডিকেল রিপ্রেজেনটেটিভ হিসেবে কর্মরত ছিলাম। তাই ভুল রিপোর্ট সহজে চিহ্নিত করতে পেরেছি। কিন্তু  গরিব নিরক্ষর রোগীদের ক্ষেত্রে কি হবে ?

ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কর্ণধার সৈকত চট্টোপাধ্যায় বলেন, টাইপ করার সময় ভুলবশত এটা হয়েছে। তবে রোগীর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়নি।  অমিতবাবুর রিপোর্টে স্বাক্ষর করেছেন ডাঃ দেবারতি দে এমডি (প্যাথো)। ভুল রিপোর্টের বিষয়ে তিনি বলেন, রিপোর্ট টাইপ করার সময় ভুলবশত এমনটা হয়েছে। রিপোর্টে স্বাক্ষর করার সময়ে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ ০.৯ g/dl লেখা রয়েছে, তা আমার চোখ এড়িয়ে গেছে।

জলপাইগুড়ি ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশনের সম্পাদক সঞ্জয় চক্রবর্তী বলেন, শহরে ব্যাঙের ছাতার মতো ডায়াগনস্টিক সেন্টার খুলেছে। এই সেন্টারগুলি কীভাবে কাজ করছে, তাদের রিপোর্টের সত্যতা কতটা, এসব নিয়ে জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের সেভাবে কোনো নজরদারি যে নেই, অমিতবাবুর ঘটনাই তার প্রমাণ। ভুল রিপোর্ট দিয়ে যারা এভাবে ক্ষমাহীন অপরাধ করছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া প্রয়োজন।

জলপাইগুড়ি জেলা ক্রেতা সুরক্ষা সমিতির সাধারণ সম্পাদক অখিলবন্ধু সরকার বলেন, জলপাইগুড়ি শহরের ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলির একটি বড়ো অংশই ভুল রিপোর্ট দেয়। এই ঘটনা তার সাম্প্রতিক সংযোজন। এভাবে রোগী এবং রোগীর পরিবারের সদস্যদের বিপাকে ফেলা হচ্ছে।

মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক বলেন, অভিযোগটি গুরুতর। এ ব্যাপারে রোগী রিপোর্টের প্রতিলিপি সহ অভিযোগ করলে জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর অবশ্যই ব্যবস্থা নেবে।