Find us on

৪৩ বছর পর রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠক পাহাড়ে
দার্জিলিং
শিরোনাম

দার্জিলিং, ৮ জুনঃ আর কিছুক্ষণ পরেই দার্জিলিংয়ের রাজভবনে রাজ্য মন্ত্রিসভার পূর্ণাঙ্গ বৈঠক। ৪৩ বছর পর পাহাড়ে আবার মন্ত্রিসভার বৈঠক বসছে। শেষবার সিদ্ধার্থশঙ্কর রায় মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন পাহাড়ে মন্ত্রীসভার বৈঠক হয়েছিল। রাজনৈতিক মহল বলছে, গত তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে রাজ্যের শাসকদলের বিরোধিতা করে এসেছে পাহাড়ের শাসকদল। তাই এই বৈঠকের প্রশাসনিক গুরুত্ব যতটা তার চেয়েও অনেক বেশি তার রাজনৈতিক গুরুত্ব। বিশেষ করে বাংলা ভাষাকে সামনে রেখে বাংলা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার যে পুরোনো বায়না বিমল গুরুংরা নতুন করে শুরু করেছেন, তার প্রেক্ষাপটেই আজকের বৈঠকের গুরুত্ব অনেক।

সকাল থেকেই বাতাসিয়া, লেবং সহ বেশ কয়েকটি জায়গায় রাস্তা অবরোধ করে মোর্চা সমর্থকরা। লেবংয়ে এক গাড়ি চালককে পুলিশ নিগ্রহ অভিযোগ তুলে বন্ধ হয়ে যায় গাড়ি চলাচল। বন্ধ হয়ে গিয়েছে দার্জিলিংয়ের বাজারও। কার্সিয়াং ও সোনাদায় গাড়ি বন্ধ করে দেয় মোর্চা সমর্থকরা। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীকে আটকানো তো দূরের কথা, কোনো মন্ত্রীর গাড়িকে আটকানোর সাহস পর্যন্ত দেখায়নি তারা। ফলে দুপুর বারোটার আগেই রাজভবনের এক নম্বর গেটের সামনে একে একে চলে আসতে থাকেন মন্ত্রীরা। দলের সমর্থকদের স্লোগানে রাজভবনের সামনে কান পাতা দায়। সেই সিংহগর্জন যে বিমল গুরুংকে খুব একটা স্বস্তি দিচ্ছে না, তা পাহাড়ে রাজনীতি সম্পর্কে বিশেষ ধারণা না থাকা পর্যটকরাও বুঝতে পারছেন।  যদিও পালটা আন্দোলন শুরু করেছে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চাও। প্রথমে  রাজভবনের সামনে পুলিশের ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করেন মোর্চা সমর্থকরা। এরপর ভানুভক্ত ভবনের সামনে অনশন শুরু করেছেন মোর্চা সুপ্রিমো বিমল গুরুং ও অন্যরা। গোটা ঘটনার উপর নজর রাখছেন জেলাশাসক সহ  প্রশাসনের অন্য  শীর্ষ আধিকারিকরা। বিমলদের গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে পাহাড়ের সাধারণ মানুষের কিছু আসে যায় না, বরং পাহাড়ে বন্‌ধ ডাকলে তাদের রুটিরুজিতে টান পড়ে। অন্যদিকে পাহাড়ে উন্নয়ন হলে, পর্যটক এলে এখানকার মানুষেরই আর্থিক লাভ– এই কথাটাই পাহাড়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পাহাড়কে বোঝানোর চেষ্টা করে চলেছেন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *