Find us on

প্রথমে কৃষক পরে চিকিত্সক, পুলিশের জালে ভুয়ো ডাক্তার
উত্তরবঙ্গ
জলপাইগুড়ি

ধূপগুড়ি, ১৪ জুলাইঃ কৃষিজীবী থেকে সরাসরি চিকিৎসক। অনেক চেষ্টা করেও শেষরক্ষা হল না বিনয় রায়ের। পুলিশের জালে ধরা পড়ে অভিযুক্ত ভুয়ো চিকিৎসকের আশ্রয় হল শ্রীঘরে। শুক্রবার সকালে ধূপগুড়ি ব্লকের সাকোয়াঝোড়া ১ নম্বর গ্রামের বাঙ্কুয়াবাজার এলাকা থেকে ধূপগুড়ি থানার পুলিশ বিনয় রায় নামে ওই ভুয়ো চিকিৎসককে গ্রেফতার করেছে।

জানা গিয়েছে, ধূপগুড়ি ব্লকের স্বাস্থ্য অধিকর্তা ডাঃ সব্যসাচী মন্ডল প্রাথমিক তদন্তের পর বিনয় রায়ের বিরুদ্ধে ধূপগুড়ি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে শুক্রবার তাঁকে গ্রেফতার করে জলপাইগুড়ি আদালতে তোলা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারাই প্রথমে বিনয় রায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন। অভিযোগ, চিকিৎসক না হয়েও বিনয় রায় তার নামের সঙ্গে ডাঃ (চিকিৎসক) লেখা প্যাড ব্যবহার করত। চিকিৎসার পদ্ধতি দেখে সন্দেহ দানা বাঁধে সকলের। এরপরই জলপাইগুড়ি জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের কর্তাদের কাছে বিষয়টি জানায় স্থানীয় বাসিন্দারা।

জানা গিয়েছে, সাকোয়াঝোড়া ১ নম্বর গ্রামের বাঙ্কুয়াবাজার এলাকায় গত সাত বছর ধরে নিজের চেম্বার খুলে চিকিৎসা চালাত বিনয় রায়। এই কাজের আগে বিনয় নিজেদের জমিতে কৃষিকাজ করতেন বলেও জানা গিয়েছে।

পুলিশি জেরায় তিনি জানান, ২০০৬ সালে গয়েরকাটা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় অনুত্তীর্ন হয়ে ফের ২০০৯ সালে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় বসেন। এরপর ২০১০ সালে ডাক্তারির জন্য কোচবিহার জেলার খাপরাইল ডাঙ্গা থেকে কমিউনিটি মেডিক্যাল সার্ভিসে(সিএমএস) ডিপ্লোমা করেন। এরপরই চিকিৎসক হিসেবে নিজের কর্মজীবন শুরু করেন বিনয়। পুলিশ জানায়, এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে ব্যবসা খুলেছিল বিনয়।

বিনয় রায়ের দাবি, তার কমিউনিটি মেডিক্যাল সার্ভিস এর ডিপ্লোমা রয়েছে। রেজিষ্টার্ড মেডিক্যাল প্রাক্টিশনার হিসেবেই তার স্বীকৃতি রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। একইসঙ্গে গ্রেফতারির পর প্রেসক্রিপশনে ডাঃ শব্দটি ভুল করে ব্যবহার করেন বলেও দাবি করেন বিনয় রায়। ধৃত ডাক্তারের বিরুদ্ধে ৪১৯ এবং ৪২০ ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।

ধূপগুড়ি থানার আইসি সঞ্জয় দত্ত বলেন, স্বাস্থ্য দপ্তরের করা অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে ওই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *