কৃষ্ণপ্রিয় ভট্টাচার্য
নৃতত্ত্ব, সমাজতত্ত্ব ও জনজাতি জীবন-সংস্কৃতির সংসারে আকণ্ঠ নিমজ্জিত হলেও বাংলা ভাষার ভিন্ন উচ্চারণের কবি। নিজের তৈরি সমাজবিজ্ঞানের মেঘে কবিসত্তা লুকিয়ে রাখা তাঁর স্বভাব। কলকাতায় জন্মের পর এক বছর বয়সে মায়ের কোলে করে ডুয়ার্সের কামাখ্যাগুড়িতে আসা এবং বেড়ে ওঠা। আলিপুরদুয়ারে কলেজ জীবন। উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিকম এবং পরে সমাজবিদ্যা ও সামাজিক নৃতত্ত্বে বিএ। আশির দশক থেকে সাংবাদিকতা, লিটল ম্যাগাজিনের সঙ্গে কবিতাযাপন শুরু। উত্তরবঙ্গের জনজাতি জীবন নিয়ে গবেষণার বয়স ৪০ বছর পেরিয়েছে। জনজাতি-গবেষক হিসেবে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মহলে পরিচিত হলেও বাংলা কবিতার ভুবনে এক স্বতন্ত্র পরিচিতি আছে। ২০১০-এ ‘লুফুন কাম্বাং চাই’ দিয়ে শুরু করে ‘ডায়নাকাফে’, ‘কার্পাসভ্যালি’, ‘দ্বিতীয় ব্রাজিল’, ‘শিলটঙে ঠুংরির রাত’, ‘ভোরের মইশাল’-এর মতো এ পর্যন্ত তাঁর ১০টি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত। তোর্ষা নদীকে নিয়ে লেখা ‘আমোচু’ (২০২১) তাঁর ব্যতিক্রমী বাংলা উপন্যাস।
মা হাঁটছেন
মা হাঁটছেন যেন মারফি রেডিয়োর একদিন
মা হাঁটছেন যেন সেকালের ব্যাকরণ কৌমুদী
এই মা, বেতারজগৎ আর এই মারফি অচল
সিকি যেমন আধুলি যেমন মায়ের কাঁচাটাকা
তবু শুধু পানের ডাবর খোয়া গেছে বলে
তবু শুধু আমাদের আনকোরা মাটির উঠান
লেপে দিয়ে যাবেন বলে মা হাঁটছেন…
শুধু তাঁর নিজের শুকতারাটিকে ভাগ-বাঁটোয়ারা
করে দিয়ে যাবেন বলে মা হাঁটছেন…
মা হাঁটছেন মুগের পুলির ভাস্কর্য বানাবেন বলে
আভাপিসিকে সঙ্গে নিয়ে দেয়ানেয়া দেখবেন বলে
মা হাঁটছেন যেন জীবনটা সকরিগলিঘাটের বালিয়াড়ি
মা হাঁটছেন আবর ব্যাকরণের কালো বারান্দায়
মা হাঁটছেন যেন আমাদের নেফা সুন্দরী নেফা…

