মাটির মহাকাব্য
মৌ চট্টোপাধ্যায়
একটা আস্ত কোপাই বুকের মধ্যে
হারিয়ে যাচ্ছে প্রতিদিন,
এই স্থবির নগর চোখে রেখে
দূরে কোথাও যাত্রা করছে।
অরণ্য হালকা হয়ে নদী শয্যায়
মিলিয়ে যেতে যেতে হৃদয়ের
রক্তিম আভায় ‘মাটি’ পেলাম।
ক্লেদাক্ত এক তাল মাটি,
মানুষের মতো কঠিন নয়, নিষ্ঠুর নয়
সে মিশে গেছে তার প্রেমিকের বুকে,
এক শায়িত উপলব্ধির মতো।
মিশে গেছে পাঁজরের ভাঁজে-ভাঁজে,
অনাদৃত বাদল মেঘের মতো।
মিশে গেছে কুহকের ডাকে,
রহস্যময় আলেয়ার মতো।
প্রতিদিন তাকে সিঞ্চন করে,
রচিত হয় জঠরের মহাকাব্য।
আরশি
কৃষ্ণ কান্ত রায়
আরশি,
তুমি এক দূরতর দ্বীপ-
তোমার চোখে এখন অনেক স্বপ্ন,
নিভাঁজ চিঠিতে লেখা থাকে প্রিয় নাম।
এভাবেই তো-
প্রীতির কণাগুলো জড়ো করে
বুকে আগলে রেখেছ
আগুন জ্বালাবে বলে।
সময়ের নিরেট বিষবাষ্পে
তোমার হৃদয়ের যন্ত্রণাগুলো
পুড়তে থাকে
তুষের আগুনের মতো।
হে প্রিয়, আগুন জ্বালাও
পোয়াতি গাছে লাগাও
ফসলের স্তব।
ন্যায়ের হদিস
সোমনাথ গুহ
খনন কার্যে উঠে আসা তথ্য থেকে জেনেছি
সত্য চাপা থাকে
আর
বিচার বদলে যায়
খনন কার্যে উঠে আসা সত্য থেকে জেনেছি
তথ্য চাপা থাকে
আর
বিচারক বদলে যায়
এভাবে সত্য থেকে জেনেছি
তথ্য থেকে জেনেছি
এখনও চলছে
খনন কার্য
ও আমার আলোর যাত্রী
রুমি নাহা মজুমদার
খোলা ঘর থেকে বেরিয়ে পড়া
পাঠশালা মনের জলাঞ্জলি যাত্রা
জীবন পাঠে অপূর্ণ মাঠ।
জীবন মাঠের অপূর্ণ পাঠে
জলাঞ্জলি হয় সুবুদ্ধি সুচিন্তার কারুবাস
কাকে চাপা দিয়ে এগোবে কে
এই যূথঃক্রিয়ার জিনে লাগাম পরানোর দায় যাদের
তাদের হাতে বেড়ি
এখন কেবল ডিঙি বেয়ে যাওয়া।
অসূয়ার দাঁড় বেয়ে বেয়ে
গভীর থেকে গভীর হয় রাত
মান আর হুঁসের হিসেবি খয়রাতি
ভেসে যায় দরিয়ায়।
দেওয়াল ঠেকানো কাদামাখা রক্তপিঠ
এগিয়ে চলে অরোরার দিকে
খোলস থেকে খোলস পালটে
টোটেমের গান বেরিয়ে পড়ে
গাছ-আগাছায়।

