মাটির নীচে ঘুমন্ত দৈত্য ও আমাদের অস্থির পৃথিবী

শেষ আপডেট:

দেবদূত ঘোষঠাকুর

এই কম্পনের জন্য নির্দিষ্ট কোনও মাস লাগে না। সকাল কিংবা বিকেল লাগে না। যখন-তখন যেখানকার বাড়িঘর থরথর করে কাঁপতে থাকে। রাস্তায় ফাটল ধরে যায়। শীতের রাতে নেপালের পাহাড়ের নীচে কাছাকাছি চলে গেল মাটির নীচের প্লেট। একটা প্লেট ঢুকে গেল অন্যটির নীচে। শিলিগুড়ি, আলিপুরদুয়ারের বাড়ি দেশলাইয়ের বাক্সের মতো দুলতে শুরু করল। মধ্যরাতে কাঁপতে কাঁপতে ভয়ার্ত মানুষ নেমে এল রাস্তায়। শিলংয়ের কোথাও বা মাটির নীচে অস্থিরতা। বহুতলের শহর গুয়াহাটিতে বেজে উঠল শাঁখ। ব্রহ্মপুত্র নদের জলে বিশাল বিশাল ঢেউ পাড়ে আছাড় খেয়ে পড়তে শুরু করল। মানুষ উদ্ভ্রান্তের মতো নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ছুটতে শুরু করল। বাংলাদেশের সাতক্ষীরায় মাটির তলে তীব্র কম্পন। বসন্তের ভরদুপুরে কলকাতায় এক বহুতলের গৃহিণীর হাত থেকে পড়ে গেল বাসন। জলের বোতল টেবিল থেকে গড়িয়ে পড়ল মেঝেতে। ততক্ষণে আশপাশের ফ্ল্যাটের বাসিন্দারা দুড়দাড় করে সিঁড়ি দিয়ে নামতে শুরু করে দিয়েছেন।

২০০৪ সালের ডিসেম্বর শেষের এক ভোরে আন্দামান সাগরের নীচে একটি প্লেট অন্য একটি প্লেটের খুব কাছাকাছি এসে পিছলে অন্য প্লেটটির নীচে ঢুকে গেল। তৈরি হল রিখটার স্কেলে প্রায় ৯ মাত্রার ভূমিকম্প। এই প্রক্রিয়ায় নির্গত বিশাল শক্তির কারণে সমুদ্রের জল তুলে এনে চারতলা বাড়ির সমান জলস্তম্ভের সৃষ্টি করল। তা পাড়ে আছড়ে পড়ে কাউকে কিছু বুঝতে পারার আগেই সমুদ্রের কয়েক কিলোমিটারের মধ্যে যা কিছু ছিল সব ভাসিয়ে নিয়ে গেল। এটি ছিল অতি শক্তিশালী ভূমিকম্প। কিন্তু নেপাল, সিকিম, মেঘালয়ের পাহাড়ে দুই থেকে পাঁচ মাত্রার ছোট ও মাঝারি ভূমিকম্প প্রায়শই হয়ে থাকে। পাহাড়ের মানুষের কাছে তা গা সওয়া হয়ে গিয়েছে। ২০০৪ সালের সুনামি কিংবা ২০০৫ সালে এক মাসের মধ্যে নেপালে দুটি মাঝারি মানের ভূমিকম্পে তছনছ হয়ে গিয়েছিল ওই পাহাড়ি দেশ। ওই সব ভূমিকম্পের কোনও আগাম সতর্কবার্তা ছিল না। ভূমিকম্পপ্রবণ হিসেবে চিহ্নিত ওই সব এলাকায় রক্ষা পাওয়ার কিছু উপায় নির্ধারণ করা থাকলেও বেপরোয়া মানুষ এবং প্রশাসন তা আমল দেয়নি। ফলে বিপদের শঙ্কা নিয়েই দিন গুনছে ওই সব এলাকার মানুষ।

আটের দশক আর নয়ের দশকের সন্ধিক্ষণে চার বছর কর্মসূত্রে সাত বোনের দেশে ছিলাম। গুয়াহাটিকে কেন্দ্র করে ঘুরে বেড়াতাম লাগোয়া ছয়টি রাজ্যও। তারও দশ বছর আগে ১৯৭৮ সালে বেড়াতে গিয়েছিলাম গুয়াহাটি এবং শিলং। মেঘালয়ের রাজধানী শিলংয়ের সেই পুরোনো ছবিটাই মনে গেঁথে ছিল। ১৯৮৮ সালে কর্মসূত্রে গুয়াহাটি পৌঁছে শিলং গিয়ে বিমর্ষ হয়ে পড়েছিলাম। পাহাড়ের গাছ কেটে সেখানে কংক্রিটের পিলার তুলে বসতি হয়েছে। দোতলা, তিনতলা বাড়ি। ১৯৭৮ সালে গিয়ে দেখেছিলাম পুলিশ বাজারের আশপাশ লাবাং লাইমুখড়ার মতো আপাত সমতল জায়গা ছাড়া কোথাও দোতলা বাড়ি পর্যন্ত নেই। দশ বছরে গোটা এলাকা বদলে গিয়েছিল। একদিকে কয়লা খাদান, অন্যদিকে গাছ কেটে কংক্রিটের জঙ্গল খাসি আর জয়ন্তিয়া পাহাড়ে মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে এমন আশঙ্কা ভূবিজ্ঞানীরা বহুদিন ধরেই করে আসছেন। কিন্তু সেই সতর্কবার্তা কেউ শুনলে তো!

মেঘালয়ের পাহাড়ের কোল বেয়ে উঠতে উঠতে শিলং নিয়ে কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের ‘অবনী বাড়ি আছো’ কবিতার দুটি লাইন আমি বিড়বিড় করতাম। বৃষ্টি পড়ে এখানে বারো মাস। এখানে মেঘ গাভির মতো চরে। ১৯৭৮ সালে মেঘের দেশে গিয়ে মনে হয়েছিল এক্কেবারে ঠিক লিখেছিলেন শক্তিদা। নয়ের দশকের গোড়ায় ওই কবিতা উদ্ধৃত করে একটি প্রতিবেদনে লিখেছিলাম মেঘালয়ে মেঘ চাই। তখনই মেঘ খুঁজতে যেতে হত শিলং টপে। কলকাতার অফিসে দেখা হতেই শক্তিদা কাছে ডেকে জিজ্ঞেস করেছিলেন তুই যা লিখেছিস সেটা কি সত্যি! খবরের ব্যাপারে উন্নাসিক শক্তিদা আমার লেখাটা পড়েছেন শুনে নিজেকে ধন্য যেমন মনে করেছিলাম তেমনই ওঁর প্রশ্নটা শুনে বুঝে গিয়েছিলাম শিলংয়ের ওই পরিবর্তনটা তাঁকেও ব্যথিত করেছিল।

১৯৯৭–৯৮ সালের পরে আর শিলং যাওয়া হয়নি। কিন্তু জিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ায় কর্মরত একাধিক ভূবিজ্ঞানীর সঙ্গে কথা বলে আমি মনে মনে ওই শৈল শহরের অবস্থাটা কল্পনা করে শিউরে উঠেছি। বিশেষ করে ২০০৪ সালের সুনামির পরে নানা ভূবিজ্ঞানীর সুচিন্তিত মতামতে যে বিষয়টি উঠে এসেছে তা হল উত্তর–পূর্ব ভারত এই মুহূর্তে এতটাই ভূকম্পপ্রবণ হয়ে উঠেছে যে সেখানে অদূর ভবিষ্যতে ৯.২ মাত্রার অতি তীব্র ভূমিকম্প হতে পারে বলে আশঙ্কা। ২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর সুমাত্রায় সমুদ্রের তলায় ৯.৩ মাত্রার যে ভূমিকম্প সুনামির জন্ম দিয়েছিল উত্তর–পূর্বে সেই মাপের ভূকম্পন কী বিপুল পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি করবে তা ভাবতে গিয়েই শিউরে উঠছেন ভূবিজ্ঞানীরা। উত্তর–পূর্ব ভারত বরাবরই ভূকম্পপ্রবণ। নগরায়ণ করতে গিয়ে মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও সুখী করতে গিয়ে আমরা নিজেদের আরও বেশি করে বিপদের দিকে ঠেলে দিচ্ছি।

আইআইটি খড়্গপুরের ভূবিজ্ঞান বিভাগ হিমালয় সংলগ্ন অঞ্চলের ভূকম্পপ্রবণ এলাকাগুলিকে চিহ্নিত করার কাজ করছে বেশ কয়েক বছর ধরে। সমীক্ষকদের বক্তব্য কোথায় কত মাত্রায় ভূমিকম্প হওয়ার আশঙ্কা আছে সেটা জানতে পেরে উদ্বেগ বাড়ছে। ভূবিজ্ঞানীরা বলছেন এই অঞ্চলে চারটি ক্ষেত্র থেকে ভূমিকম্প তৈরি হতে পারে। সেগুলি হল শিলং অঞ্চল আরাকান খাত মিসমি ব্লক এবং পূর্ব হিমালয় অঞ্চল। সমীক্ষকদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী মিসমি ব্লক থেকে ৯.২ মাত্রার ভূমিকম্প তৈরি হতে পারে। অন্য তিনটি ক্ষেত্র থেকে ৮.৭ মাত্রার ভূমিকম্পের জন্ম হতে পারে। পূর্ব হিমালয় খাতে ৮.৭ মাত্রার ভূমিকম্প হলে গোটা উত্তরবঙ্গের উপরে তার মারাত্মক প্রভাব পড়বে। কয়েক বছর আগে সিকিমে ৬.৯ তীব্রতার ভূমিকম্পে দার্জিলিং এমনকি শিলিগুড়িতেও বাড়িঘরের ক্ষতি হয়েছিল। সেই ক্ষতি দেখেই সমীক্ষকেরা জানিয়েছেন ৮.৭ তীব্রতার ভূমিকম্পের অবস্থা সহজেই অনুমেয়। উত্তর-পূর্ব ভারতের ভূকম্পপ্রবণ ক্ষেত্রগুলির মধ্যে আরাকান খাত সবথেকে অস্থির। ওই অঞ্চলে ইন্ডিয়ান প্লেট ঢুকে যাচ্ছে বার্মা প্লেটের নীচে। এই পরিস্থিতিতে যে কোনও ধরনের ভারসাম্যের বড় পরিবর্তন বড় ধরনের ভূমিকম্পের জন্ম দিতে পারে।

কলকাতা এবং তার সংলগ্ন এলাকায় ভূমিকম্পের আশঙ্কা কতটা? খড়্গপুর আইআইটির সমীক্ষা অনুযায়ী কলকাতা সহ গোটা দক্ষিণবঙ্গ মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পের শিকার হতেই পারে। অদূর ভবিষ্যতে কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় ৬.৮ মাত্রার ভূমিকম্প হতে পারে। বঙ্গোপসাগরের উপকূলবর্তী দুই বাংলার এলাকায় মাটির সাড়ে চার থেকে পাঁচ কিলোমিটার নীচে ইয়োসিন হিঞ্জ নামের একটি খাত রয়েছে যেখান থেকে মাঝেমধ্যেই কম্পন তৈরি হচ্ছে। ইতিমধ্যেই সেখানে ৫.৪ থেকে ৫.৬ মাত্রার কয়েকটি ভূমিকম্প সৃষ্টি হয়েছে এবং সেখান থেকে সর্বোচ্চ ৬.৮ তীব্রতার ভূমিকম্প তৈরি হতে পারে। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের সাতক্ষীরায় ৫.৪ মাত্রার ভূমিকম্পে কলকাতা কেমন কেঁপেছিল তা আমরা দেখেছি। তবে ৬.৮ মাত্রার ভূমিকম্প কবে হবে তার উৎস কোথায় হবে সে ব্যাপারে কোনও পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব নয়। যত্রতত্র মাটির নীচ থেকে জল তুলে নেওয়া এবং জলাভূমি ভরাট করার ফলে কলকাতার ভূস্তরের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। তাই মাঝারি মানের কোনও ভূমিকম্পই মহানগরীর বিপদ ঘটাতে পারে।

২০০৪ সালের সুনামির জেরে সুমাত্রা থেকে আন্দামান পর্যন্ত প্রায় তেরোশো কিলোমিটার এলাকাজুড়ে সমুদ্রের তলদেশে ফাটল ধরেছিল। আন্দামানের একদিক উপরে উঠে অন্যদিক বসে গিয়ে মোট জমির পরিমাণের পরিবর্তন ঘটেছিল। সিকিমের ভূমিকম্প বিশ্লেষণ করে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক সর্বেক্ষণ সংস্থা জানিয়েছিল ২০০৪ সালের সুনামির পরে সুমাত্রার ওই এলাকায় ভারত মহাসাগরের নীচে ২০০৬, ২০০৭ এবং ২০১২ সালে আরও তিনটি বড় ভূমিকম্প হয়েছিল। কিন্তু ইন্ডিয়ান প্লেট এবং সুন্দা প্লেটের মধ্যে পাশাপাশি ঘর্ষণ হওয়ায় তেমন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

তবে সুনামির পরে ভারত সংলগ্ন এলাকায় সবথেকে মারাত্মক ভূমিকম্প দেখেছে নেপাল। ২০১৫ সালের ২৫ এপ্রিল ৭.৯ মাত্রার ওই ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ছিল নেপালের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের থেকে বহুগুণ বেশি। ভূমিকম্পের উৎসস্থল কাঠমান্ডুর আশি কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে লামজুঙের কাছে পনেরো থেকে কুড়ি কিলোমিটার গভীরে। এরপরে অন্তত পঁয়তাল্লিশটি আফটারশক আতঙ্ক তৈরি করে। কলকাতা ও তার কাছেপিঠেও কিছু ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কলকাতা এমন এক চ্যুতির ওপর বসে আছে যে সামান্য কম্পনেও ধূলিসাৎ হতে পারে এই মহানগরী।

গত ২০০ বছরে হিমালয় পর্বতমালার অর্ধেক বিস্তৃতিজুড়ে অন্তত সাতটি উচ্চমাত্রার ভূমিকম্প ঘটেছে। ১৮০৩, ১৮৩৩, এবং ১৯৩৪ সালে নেপালে, ১৮৯৭ সালে শিলং, ১৯০৫ সালে কাংড়া, ১৯৫০ সালে অসম এবং ২০০৫ সালে কাশ্মীরে বিধ্বংসী ভূমিকম্প ঘটে। আরও পুরোনো ভূমিকম্পের ইতিহাস জানতে ভূবিজ্ঞানীরা পুরা ভূকম্পন বিদ্যার সাহায্য নেন। শিলাস্তরের রেডিওকার্বন ডেটিং করে জানা গিয়েছে ১১২৫, ১৪০০, ১৫০৫ এবং ১৫৫৫ সালেও তীব্র ভূকম্পন হয়েছিল। এই পদ্ধতি অবলম্বন করেই ২০১৫ সালের আগেই এক বিজ্ঞানী মধ্য নেপাল অঞ্চলে তীব্র ভূকম্পনের আভাস দিয়েছিলেন।

হিমালয় এক তরুণ ও সক্রিয় ভঙ্গিল পর্বতমালা যার সৃষ্টি হয়েছে গত পাঁচ কোটি বছর ধরে ভারতীয় ও ইউরেশিয়ান প্লেটের সংযুক্তির ফলে। বর্তমানে ভারতীয় প্লেট বছরে দুই সেন্টিমিটার করে তিব্বতীয় প্লেটের নীচে ঢুকে যাচ্ছে। বহু দশক ধরে চলতে থাকা এই ঘর্ষণের ফলে উৎপন্ন শক্তি ভূকম্পন হিসেবে নির্গত হয়। সমগ্র হিমালয় পর্বতমালায় হিমালয়ান ফ্রন্টাল থ্রাস্ট মেন বাউন্ডারি থ্রাস্ট ও মেন সেন্ট্রাল থ্রাস্টের মতো একাধিক চ্যুতি রয়েছে। ২৫ এপ্রিলের প্রধান ভূকম্পন হয় মাটির সতেরো কিলোমিটার গভীরে সৃষ্ট এক চ্যুতি থেকে। এই চ্যুতির স্খলনের ফলে গোটা নেপাল হিমালয় ভারতীয় প্লেটের দিকে অনেকটাই এগিয়ে এসেছে। চ্যুতির মোট প্রভাবিত ক্ষেত্র আট হাজার বর্গ কিলোমিটারেরও বেশি যা কাঁপুনি ধরিয়ে দিয়েছে কাঠমান্ডু থেকে কলকাতা দিল্লি। গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ সৃষ্টির সম্পর্কও হিমালয়ের বিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত। কলকাতা দাঁড়িয়ে রয়েছে কাদামাটির প্রাচীন বন্যাসৃষ্ট সমতলের ওপরে। এর পূর্বে রয়েছে চট্টগ্রাম ত্রিপুরা পর্বতশ্রেণি আর পশ্চিম দিয়ে চলে গিয়েছে কলকাতা ময়মনসিংহ হিঞ্জ জোন। বেঙ্গল বেসিনের চারিদিকে দেবগ্রাম বোগরা ফল্ট চিটাগাং কক্সবাজার ফল্টের মতো বেশ কয়েকটি চ্যুতি ছড়িয়ে রয়েছে। সমস্যা হল এই সমস্ত চ্যুতির সম্বন্ধে আমাদের তথ্য প্রায় নেই বললেই চলে।

তীব্র ভূমিকম্পের চোটে নেপালের ভিত নড়ে গিয়েছে। উপগ্রহ চিত্র বিশ্লেষণ করে ইউরোপীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা এবং জার্মান এরোস্পেস সেন্টার জানিয়েছে কাঠমান্ডুর দক্ষিণে বিশাল এলাকার মাটি অন্তত এক মিটার উপরে উঠে এসেছে এবং উত্তরে বিস্তর বসে গিয়েছে। ভারতীয় ভূবিজ্ঞানীরাও একমত যে বড় ভূমিকম্পে ভূমির চরিত্র পালটে যাওয়া অসম্ভব কিছু নয়। ১৮১৯ সালে গুজরাটের কচ্ছে ৭.৮ মাত্রার ভূমিকম্পে মাটি উঠে এসে আল্লাবাঁধ নামের এক কৃত্রিম বাঁধ তৈরি করেছিল। ২০০৪ সালের সুনামির সময়েও আন্দামানের ভূচরিত্র পালটে গিয়েছিল।

ভূমিকম্পের পাশাপাশি আছে পাহাড়ের লাগাতার ধস। সিকিম ও দার্জিলিং পাহাড়ে পাথরের চাইতে মাটি বেশি থাকায় জলের সঙ্গে মাটিও নীচে নামে। বছর দুয়েক আগে তুমুল বৃষ্টিতে সিকিমের লোনক লেকের দেওয়াল ফেটে তিস্তায় হড়পা আসে। সর্বগ্রাসী তিস্তা ভাসিয়ে নিয়ে যায় জনবসতি ও সেনাছাউনি। লেকের জলের পরিমাণ অত্যধিক বেড়ে যাওয়ায় এবং তার আগের দিন নেপালে ৬.২ মাত্রার ভূমিকম্পের প্রভাবে এই বিপর্যয় ঘটেছিল বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। কিন্তু আমরা সে সব বুঝেও বুঝতে চাইছি না। হিমালয়কে জেনেও অনিয়ন্ত্রিত নগরায়ণ এবং পাহাড়ি নদীকে জোর করে বাঁধার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি আমরা। আর তার ফল তো আমাদের ভুগতেই হবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
Uttarbanga Sambad
Uttarbanga Sambadhttps://uttarbangasambad.com/
Uttarbanga Sambad was started on 19 May 1980 in a small letterpress in Siliguri. Due to its huge popularity, in 1981 web offset press was installed. Computerized typesetting was introduced in the year 1985.

Share post:

Popular

More like this
Related

গ্যাসওয়ালা

শুভ্র মৈত্র এর চেয়ে বেশি মতিন কিছু চাইতেই পারে না।...

লোডশেডিং, কলিং বেল ও ভোম্বলের প্রেম

সানি সরকার মেঘলা আকাশ চিরে আচমকা এক চিলতে রোদের...

অণুগল্প

অযোগ্য সুদীপ্তা বন্দ্যোপাধ্যায়  হেডস্যর ফোন করে জানালেন, কোর্টের নিদানে অযোগ্যের তালিকায় নাম রয়েছে সৌম্যর। ফিজিক্সে মাস্টার্স...

উত্তরের সাহিত্যিক

নীতীশ বসু নীতীশ বসু শিশু সাহিত্যিক। মূলত ছোটদের জন‌্য...