আলিপুরদুয়ার: উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক ময়দানে এবার ব্যক্তিগত আক্রমণ ও আইনি লড়াইয়ের ঘনঘটা! বারোবিষার জনসভা থেকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের করা মন্তব্যের পালটা দিয়ে এবার আদালতের দ্বারস্থ হতে চলেছেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ তথা আলিপুরদুয়ার জেলা সভাপতি প্রকাশ চিক বড়াইক। শনিবার জেলা কার্যালয়ে সাংবাদিক বৈঠক করে সুকান্ত মজুমদারকে সরাসরি আইনি নোটিস পাঠানোর কথা ঘোষণা করলেন তিনি।
বিবাদের সূত্রপাত: রেল ওভারব্রিজ ও ‘পাচার’ বিতর্ক
শুক্রবার আলিপুরদুয়ারের বারোবিষায় বিজেপির ‘পরিবর্তন যাত্রা’র মঞ্চ থেকে তৃণমূল সাংসদকে তীব্র আক্রমণ করেন সুকান্ত মজুমদার। রেল ওভারব্রিজ নির্মাণের কৃতিত্ব নিয়ে তিনি বলেন: “আমাদের সাংসদ ও বিধায়ক রেলমন্ত্রীর কাছে গিয়ে ওভারব্রিজ করল, আর ব্যাটা এত দুকান কাটা যে নিজের ছবি লাগিয়ে বলছে, আমরা ওভারব্রিজ বানিয়ে দিয়েছি। আমি নিজে রেলমন্ত্রীর সঙ্গে এই বিষয়ে কথা বলেছি।” এখানেই থামেননি সুকান্ত। প্রকাশ চিক বড়াইককে সরাসরি আক্রমণ করে তিনি আরও যোগ করেন, “বাবা তুমি ওভারব্রিজ করতে পারবে না। তুমি যেটা করছ সেটাই করো। তুমি সন্ধ্যাবেলায় গরু পাচার করো, বালি পাচার করো।”
প্রকাশ চিক বড়াইকের পালটা চ্যালেঞ্জ
সুকান্ত মজুমদারের এই মন্তব্যের পরই উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে যায়। শনিবার তার পালটা জবাব দিয়ে প্রকাশবাবু জানান, বিজেপির এই নিচু স্তরের রাজনীতি তিনি মেনে নেবেন না। তাঁর বক্তব্য:
• আইনি ব্যবস্থা: ইতিমধ্যেই সুকান্ত মজুমদারের বিরুদ্ধে আইনি নোটিস পাঠানো হচ্ছে।
• কোর্টেই প্রমাণ: প্রকাশবাবু চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন, “ওনার মতো নিচু কথা আমি বলব না। উনি যা অভিযোগ করেছেন, তা কোর্টে প্রমাণ করতে হবে। প্রমাণ করতে না পারলে আমি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত যাব।”
• সংস্কৃতি বনাম কুরুচি: তৃণমূল সাংসদের দাবি, তাঁরা কুরুচিকর ভাষা ব্যবহার করেন না এবং রাজনৈতিক লড়াই রাজনৈতিকভাবেই লড়া উচিত, ব্যক্তিগত কুৎসা দিয়ে নয়।
রাজনৈতিক সমীকরণ
২০২৬-এর নির্বাচনের আগে উত্তরবঙ্গে নিজেদের মাটি শক্ত করতে মরিয়া বিজেপি। অন্যদিকে, আলিপুরদুয়ারের মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলায় নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে মরিয়া তৃণমূল। রেল ওভারব্রিজের মতো উন্নয়নমূলক কাজের কৃতিত্ব কার—তা নিয়ে এই লড়াই এখন আদালত পর্যন্ত গড়াচ্ছে। সুকান্ত মজুমদারের ‘পাচার’ অভিযোগের সপক্ষে বিজেপি কোনো তথ্য প্রমাণ দিতে পারে কি না, এখন সেটাই দেখার।

