দিনহাটা: স্টেশন মাস্টার সহ বিধানসভা ভোটের ডিউটিতে ডাক পড়েছে ১১ জনের। এমন পরিস্থিতিতে পরিষেবা বজায় রাখার ক্ষেত্রে চিন্তায় রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন কোম্পানির দিনহাটা ডিভিশন। এখানকার আধিকারিক ও কর্মীদের বক্তব্য, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা অনুসারে জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্তদের ভোটের ডিউটি দেওয়া যায় না। এমনকি, এমন পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত গাড়িও ব্যবহার করা যায় না। কিন্তু কমিশনের নির্দেশ থাকার পরেও ভোটের ডিউটি দেওয়া হয়েছে তাঁদের ডিভিশনের ১১ জনকে।
দিনহাটা ডিভিশন সূত্রে খবর, ডিভিশনের মূল অফিসে রয়েছেন ১২ জন কর্মী এবং সাপ্লাই বিভাগে রয়েছেন সাতজন। অর্থাৎ সবমিলিয়ে ১৯ জন কর্মী। এর মধ্যে ১১ জনের ভোটের ডিউটি পড়ায় পরিষেবা বজায় রাখার ক্ষেত্রে চিন্তায় পড়ছেন কর্মী-আধিকারিকরা। দিনহাটা কলেজেই তৈরি হয়েছে ভোটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ডিসিআরসি। এখানে ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পরিষেবা বজায় রাখতে হবে। এছাড়াও দিনহাটা ডিভিশনের অধীনে রয়েছে দুটি সাব-স্টেশন। ফলে প্রাকৃতিক বিপর্যয় যদি ঘটে, তবে বিদ্যুৎ পরিষেবা চালু করার ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়তে হতে পারে ভোটের ডিউটির বাইরে থাকা কর্মীদের। একই ঘটনা ঘটতে পারে সাব-স্টেশন দুটিতে কোনও সমস্যা দেখা দিলে। সাব-স্টেশন ম্যানেজার বাপ্পা দাসের বক্তব্য, ‘ট্রান্সমিটার খারাপ হলে বা লাইন পরিষেবা বিঘ্নিত হলে, সেক্ষেত্রে অফিসের নির্দেশ মোতাবেক ফিল্ডে কাজ হয়। একই অফিসের এতজন যদি ভোটের ডিউটি করেন, তবে জরুরি পরিষেবা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়। আমার নিজেরও ভোটের ডিউটি পড়েছে।’
দিনহাটা ডিভিশনের ডিভিশনাল ম্যানেজার কল্যাণবর সরকারের কথায়, ‘আমরা জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত। ফলে একসঙ্গে এতজনকে ভোটের ডিউটি দেওয়ায়, সুষ্ঠু পরিষেবা বজায় রাখা নিয়ে আমরাও বেশ চিন্তিত। তাই বিষয়টি প্রশাসনের ভেবে দেখা উচিত।’ ভোট চলাকালীন পরিষেবা সংক্রান্ত কোনও সমস্যা হলে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে বলে আশঙ্কা তাঁর। ফোন না ধরায় মহকুমা শাসক ভরত সিংয়ের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
রাজ্যের বাকি অংশের সঙ্গে দিনহাটাতেও চলছে ভোটের প্রশিক্ষণ। প্রশিক্ষণে যোগ দিচ্ছেন বিদ্যুৎ দপ্তরের কর্মীরা। বিঘ্ন ঘটছে পরিষেবা। যে কারণে ভোটের সময় যদি ১১ জনই নির্বাচনি কাজে অংশ নেন তাহলে পরিষেবা ঠিক থাকবে কি না, তা নিয়ে সংশয়ে অনেকেই।

