বালুরঘাট: অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের (WB Election 2026) লক্ষ্যে কমিশনের কড়া নজরদারির মধ্যেই উত্তপ্ত হয়ে উঠল বালুরঘাট (Balurghat)। ললিত মোহন আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে পোস্টাল ব্যালট (Postal Ballot Issue) ভোট গ্রহণকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার তৈরি হয় চরম উত্তেজনা। নিয়ম না মেনে ব্যালট বাক্স খোলা রাখা এবং মোবাইল নিয়ে বুথে প্রবেশের মতো একাধিক অভিযোগে কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় গোটা এলাকা।
এদিন ভোট দিতে আসা সরকারি কর্মী এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের এজেন্টদের অভিযোগ, যে বাক্সে পোস্টাল ব্যালট জমা পড়ছে, তাতে কোনো সিল বা গালার ব্যবহার করা হয়নি। ফলে ইচ্ছামতো সেখান থেকে ব্যালট বের করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি, বুথের ভেতর ভোটার ও অন্যান্য ব্যক্তিদের অবাধে মোবাইল হাতে ঘুরতে দেখা যায়, যা নির্বাচনের গোপনীয়তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।


বিশৃঙ্খলা চরমে পৌঁছালে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন ভোট দিতে আসা কর্মীরা। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান নির্বাচনের অবজার্ভার (Observer), বালুরঘাট থানার আইসি সুমন্ত বিশ্বাস এবং ডিএসপি (হেড কোয়ার্টার) বিক্রম প্রসাদ। সঙ্গে ছিল কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিশাল জওয়ান। পুলিশ ও প্রশাসনিক কর্তারা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন।
ঘটনার খবর পেয়েই কেন্দ্রে হাজির হন বিজেপি প্রার্থী বিদ্যুৎ কুমার রায় ও জেলা সাধারণ সম্পাদক বাপি সরকার। তাঁদের অভিযোগ, প্রশাসনকে হাতিয়ার করে তৃণমূল অবৈধভাবে ভোট করাচ্ছে। অন্যদিকে, বালুরঘাট টাউন তৃণমূলের সহ-সভাপতি সুরজিৎ সাহা ও নেতা অমরনাথ ঘোষ পাল্টা দাবি করেন, বিজেপি নির্বাচন কমিশনকে কাজে লাগিয়ে ভোটের নামে প্রহসন চালাচ্ছে।
দুই পক্ষের বাদানুবাদে এলাকায় দীর্ঘক্ষণ উত্তেজনা বজায় ছিল। শেষ পর্যন্ত প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও পোস্টাল ব্যালট প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েই গেল।

