উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশকারী ৩ জনকে চোর সন্দেহে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ উঠল ত্রিপুরায় (Tripura) । এনিয়ে ক্ষুব্ধ ঢাকা। গত ১৫ অক্টোবর ত্রিপুরার খোয়াই জেলার কারেঙ্গিছড়া এলাকায় ৩ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে ধরে ফেলে স্থানীয় জনতা। অভিযোগ, চোর সন্দেহ করে তাদের গণপিটুনি দেওয়া হয়। এমনকি তাঁদের তির মেরে হত্যা করা হয় বলে জানা গেছে। পরে পুলিশ দেহ উদ্ধার করে। ওই তিনটি মৃতদেহই খোয়াই পাহারমুড়া সীমান্তের ১২ নং গেট দিয়ে চাম্পাহাওর থানার পুলিশ ১০৪ নং ব্যাটেলিয়ান বিএসএফের মাধ্যমে বাংলাদেশের ৫৫ নং ব্যাটালিয়ান বিজিবি ও চুনারুঘাট থানার ওসির হাতে হস্তান্তর করে।
এরপরই এনিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করে প্রতিবাদ জানায় ঢাকা। ঢাকার তরফে বলা হয়েছে, এই জঘন্য ঘটনা মানবাধিকার ও আইনের শাসনকে গুরুতরভাবে লঙ্ঘন করছে। চোর সন্দেহে খুনের ঘটনার স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছে বাংলাদেশ। এমনকি এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর পদক্ষেপের দাবিও জানানো হয়েছে। ঢাকার তরফে জানানো হয়েছে, সীমান্তের যে প্রান্তেই থাকুক না কেন, জাতীয়তা নির্বিশেষে প্রত্যেক ব্যক্তিরই নিজের সুরক্ষা মানবাধিকারের মধ্যে পড়ে। তাই স্রেফ সন্দেহের বশে মারধর, খুনের মতো ঘটনা অত্যন্ত অসংবেদনশীল।
যদিও বাংলাদেশের বক্তব্য খারিজ করে বিদেশ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যে ঘটনাটি ভারতের ভূখণ্ডের তিন কিলোমিটার ভেতরে ঘটেছিল, যেখানে অবৈধ অভিবাসীরা বিদ্যাবিল গ্রাম থেকে গরু চুরি করার চেষ্টা করেছিল। স্থানীয়দের মুখোমুখি হলে তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে আক্রমণ করে, যার ফলে স্থানীয়রা আত্মরক্ষা করতে বাধ্য হয়। প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ পৌঁছানোর সময়, দুই অভিবাসী মারা গিয়েছিল, তৃতীয়জন পরের দিন হাসপাতালে আহত অবস্থায় মারা যায়। সমস্ত মৃতদেহ বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সীমান্ত শান্তির প্রতি ভারতের অঙ্গীকারের উপর জোর দিয়ে চোরাচালান রোধের লক্ষ্যে সীমান্ত কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের উদ্যোগকে সমর্থন করার জন্য বাংলাদেশকে আহ্বান জানান।

