অনুপ সাহা, ওদলাবাড়ি: ঈশ্বর যেন প্রজাপতি সংরক্ষণের জন্যই ডালিমটারকে (Dalimtar) বেছে নিয়েছেন। সেখানেই পরিবেশপ্রেমী সংগঠন ন্যাফ-এর উদ্যোগে গত ৯ মে থেকে তিনদিনব্যাপী প্রজাপতি পর্যবেক্ষণ শিবির অনুষ্ঠিত হল। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় চার হাজার ফুট উচ্চতায় কালিম্পং জেলার গরুবাথান ব্লকের শান্ত ও নিরিবিলি গাছগাছালিতে ভরা পাহাড়ি গ্রাম এই ডালিমটার। রবিবার শিবির শেষে নিজেদের দারুণ উপলব্ধির কথা শোনালেন রাজ্যের বিশিষ্ট প্রকৃতিবিদ যুধাজিৎ দাশগুপ্ত, প্রজাপতি বিশেষজ্ঞ মহুয়া সিনহা প্রমুখ। মহুয়া বললেন, ‘ডালিমটারে আয়োজিত শিবিরে প্যারিস পিকক, চকোলেট অ্যালবাট্রস, ব্লু টাইগার, ক্যাবেজ হোয়াইট, মরমন এসব ধরনের প্রজাপতি তো দেখেইছি। কিন্তু তার পাশাপাশি আর যেগুলো দেখেছি বা ছবি তুলে রেখেছি সেই প্রজাতির প্রজাপতি সাধারণত দেখা যায় না। বিরল প্রজাপতির ওই তালিকায় হিমালয়ান কমন টিনসেল, লার্জ ইয়োমন, অটাম লিফ, রাজা যেমন রয়েছে তেমনই ইস্টার্ন কোর্টিয়ারও দেখতে পেয়েছি।’
অন্যদিকে যুধাজিতের বক্তব্য, ‘প্রজাপতি সংরক্ষণের জন্য একেবারে আদর্শ জায়গা ডালিমটার। এলাকায় আরও বেশি করে নেকটার প্ল্যান্ট, হোস্ট প্ল্যান্ট ফুলের গাছ লাগিয়ে জায়গাটিকে প্রজাপতি সংরক্ষণকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।’ রবিবারই শিবির শেষ হয়েছে। তাই এখনও পর্যন্ত চেকলিস্ট তৈরি করা হয়নি বলে জানিয়েছেন ন্যাফ-এর মুখপাত্র অনিমেষ বসু। তাঁর কথায়, ‘গত তিনদিনে সংখ্যা ও ভ্যারাইটির দিক থেকে প্রায় ৭০ ধরনের প্রজাপতির দেখা পাওয়া গিয়েছে। যার মধ্যে বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ আইন ১৯৭২ অনুযায়ী শিডিউল ১ শ্রেণিভুক্ত হোয়াইট স্পটেড কোর্টিয়ারও রয়েছে।’ সবমিলিয়ে শুধুই পর্যটনের জন্য নয়, স্থানীয় মানুষকে সঙ্গে নিয়ে নৈসর্গিক সৌন্দর্যে অসাধারণ ডালিমটারকে প্রজাপতি সংরক্ষণকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হলে বাস্তুতন্ত্রে নিশ্চিতভাবেই তার একটি ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলেই সকলের মত।



