মানিকচক: শেষমেশ আশঙ্কাই সত্যি হল। বৃহস্পতিবার রাতে পশ্চিম রতনপুরের সদ্য নির্মিত রিং বাঁধ ভেঙে জল ঢুকতে শুরু করেছে ভূতনির বিস্তীর্ণ এলাকায়। তবে গঙ্গার জলস্রোতে বাঁধ ভাঙেনি, রাতের অন্ধকারে ইচ্ছাকৃতভাবে কাটা হল নতুন রিং বাঁধ বলে অভিযোগ। একদল তরুণ ইচ্ছাকৃতভাবে বালির বস্তা সরিয়ে বাঁধ কেটে নদীর জল লোকালয়ে ঢোকানোর চেষ্টা চালাল বলে অভিযোগ। আর ওই ভিডিও বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। যদিও ওই ভিডিও’র সত্যতা যাচাই করেনি উত্তরবঙ্গ সংবাদ। ভাইরাল ওই ভিডিও নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তর্জা। সেচ দপ্তরের তরফে ভাইরাল ওই ভিডিওর সত্যতা স্বীকার করা হয়েছে। মালদা জেলার সেচ দপ্তরের এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার শিবনাথ গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, ‘এই বিষয়ে ইতিমধ্যেই রতুয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত ওই কাণ্ডে জড়িত দুজনকে আটক করেছে রতুয়া থানার পুলিশ। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ করে জল আটকানো গিয়েছে।’
সিপিএম ও বিজেপি ষড়যন্ত্র করে এই কাণ্ড ঘটিয়েছে বলে দাবি শাসকদলের। যদিও শাসকদলের নেতাদের কাটমানি ও সেচ দপ্তরের চরম ব্যর্থতায় বাঁধের এই হাল বলে সিপিএম পালটা দাবি করেছে। দুই-একটি বালির বস্তা সরিয়ে বাঁধ কাটা যায় তা একপ্রকার মানতে নারাজ সিপিএম নেতা দেবজ্যোতি সিনহা। বরং কীভাবে পুলিশ প্রশাসনের নাকের ডগায় বাঁধ কাটা হল তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
দুই মাস আগে প্রায় ছয় কোটি টাকা ব্যয়ে পশ্চিম রতনপুর থেকে কেশরপুর পর্যন্ত প্রায় ২৪০০ মিটার দীর্ঘ রিং বাঁধ নির্মাণ করে সেচ দপ্তর। কিন্তু নির্মাণের কয়েকদিন পর থেকেই ভাঙনের কবলে পড়ে নতুন রিং বাঁধ। রতুয়া ব্লকের পশ্চিম রতনপুর অংশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যে কোনও মুহূর্তে বাঁধ ভেঙে গঙ্গার জল লোকালয়ে ঢোকার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। বেগতিক বুঝে তড়িঘড়ি নতুন রিং বাঁধ থেকে প্রায় ২০০ মিটার দূরে পশ্চিম রতনপুর থেকে কালুটোনটোলা পর্যন্ত প্রায় ৬০০ মিটার বল্লা পাইলিংয়ের মাধ্যমে বালির বস্তা দিয়ে নতুন বাঁধ নির্মাণ করা হয়। বৃহস্পতিবার রাতে একদল তরুণ সেই বল্লা পাইলিংয়ের বাঁধের বালির বস্তা সরিয়ে ভূতনি সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় নদীর জল ঢোকানোর চেষ্টা চালায় বলে অভিযোগ।
গত ১৩ অগাস্ট দক্ষিণ চণ্ডীপুরের সদ্য নির্মিত বাঁধ রাতের অন্ধকারে সিপিএম ও বিজেপির ষড়যন্ত্রে কাটা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছিলেন খোদ মানিকচকের বিধায়ক সাবিত্রী মিত্র। বৃহস্পতিবার রাতের ঘটনায় আবারও শাসকদলের নিশানায় সিপিএম ও বিজেপি। তৃণমূল জেলা নেতা আশিস সিনহা বলেন, ‘সিপিএম ও বিজেপি ষড়যন্ত্র করে এই কাণ্ড ঘটিয়েছে।’
যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিজেপি নেতা গৌড়চন্দ্র মণ্ডল। তাঁর দাবি, ‘সিপিএম বা বিজেপি নয়, বাঁধ ভেঙে ভূতনিতে বন্যা হলে সবচেয়ে বেশি লাভ তৃণমূলের। তৃণমূল নেতাদের নির্দেশে রাতের অন্ধকারে বালির বস্তা সরিয়ে বাঁধ কাটা হয়েছে।’
চিকিৎসার জন্য সাবিত্রী বাইরে থাকায় তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে পুরো ঘটনায় আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন সেচ প্রতিমন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন। তিনি বলেন, ‘ভূতনিজুড়ে ব্যাপক ভাঙন হচ্ছে এটা সত্যি। ভাঙন রুখতে হাজারো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে রাজ্য সরকার। সেচ দপ্তর দিনরাত এক করে কাজ করছে। কিন্তু আমরা ওই এলাকার মানুষদের কাছ থেকে সহযোগিতা পাচ্ছি না।’
রাজনৈতিক তর্জার মধ্যে এদিকে বাঁধ ভেঙে জল ঢুকে পড়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে ভূতনিজুড়ে। একে তো দক্ষিণ চণ্ডীপুর বাঁধ ভেঙে ফুলহরের জল ঢুকে জলবন্দি দশা ভূতনির বিস্তীর্ণ এলাকার। এরমধ্যে এলাকায় গঙ্গার জল ঢুকে পড়লে গত বছরের তুলনায় আরও দুর্বিষহ অবস্থা হবে আশঙ্কায় ঘুম উড়েছে ভূতনিবাসীর। তবে শুক্রবার সকাল থেকেই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ শুরু করেছে সেচ দপ্তর। যে অংশে বাঁধ কাটা হয়েছিল তা ইতিমধ্যেই মেরামতি করে জল আটকানো সম্ভব হয়েছে।

