উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: ২০২৬-এর নির্বাচনি পারদ এখন তুঙ্গে। শুক্রবার বিজেপি-র ‘সংকল্পপত্র’ প্রকাশের পরেই তৃণমূল ভবন থেকে পালটা তোপ দাগলেন তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শা (Amit Shah)-কে লক্ষ্য করে অভিষেকের দাবি, “বাংলার মানুষের কাছে আগে ক্ষমা চাওয়া উচিত ছিল ওঁর।” কেন এই দাবি? তৃণমূল (TMC) সাংসদের অভিযোগ, ‘‘যে ১৫টা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিজেপি, পয়েন্ট ধরে ধরে বলব। বলেছে ভরসার শপথ। যে ভাবে গত ছ’মাস এসআইআরের নামে প্রহসন চালিয়েছে, আশা করেছিলাম, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আগে এসে বাংলার মানুষের কাছে ক্ষমা চাইবেন, তারপর বক্তব্য শুরু করবেন।’’
‘ডিজিটাল ও নিবিড়’ কারচুপির অভিযোগ


অমিত শা-র পুরোনো ‘ক্রোনোলজি’র প্রসঙ্গ টেনে অভিষেক বলেন, “‘তিনি ক্রোনোলজি, ডিটেক্ট, ডিলিট, ডিপোটের কথা বলেছিলেন। এসআইআর ডিটেক্ট করার প্রথম ধাপ! তিনি বলেন। ফেব্রুয়ারি মাসে যে প্রথম তালিকা প্রকাশিত হয়, তাতে ৫৮ লক্ষ নাম বাদ যায়। পরে সাড়ে ছ’লক্ষ নাম বাদ যায়। বিবেচনাধীন তালিকায় পরবর্তী কালে ২৭ লক্ষ নাম বাদ যায়। বাংলা থেকে এরা প্রায় ৯০ লক্ষের নাম বাদ দিয়েছে। তার মধ্যে ৬৩ শতাংশ হিন্দু বাঙালি।’’
বাংলা কি বাংলাদেশ?
অমিত শা-র একটি মন্তব্যের প্রেক্ষিতে অভিষেক প্রশ্ন তোলেন, “স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন বাংলা নাকি বাংলাদেশ থেকে পরিচালিত হওয়ার চেয়ে দিল্লি থেকে চলা ভালো। তার মানে কি কলকাতা বাংলাদেশ? বাংলাকে কেন বাংলাদেশের দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে দেখে মোদি সরকার?” একই সঙ্গে শেখ হাসিনাকে দিল্লিতে আশ্রয় দেওয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। অভিষেকের আক্রমণাত্মক প্রশ্ন, “শেখ হাসিনা অনুপ্রবেশকারী নাকি শরণার্থী? ওঁর স্ট্যাটাস কী? কোন শিল্পপতিকে বাঁচানোর জন্য দেড় বছর তাঁকে দিল্লিতে রাখা হয়েছে?”
গুজরাট থেকে পরিচালনার তত্ত্ব
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজের মুখেই স্বীকার করে নিয়েছেন যে বাংলায় বিজেপি ক্ষমতায় এলে রাজ্য পরিচালিত হবে দিল্লি এবং গুজরাট থেকে। বাংলার ক্ষমতা যে বাঙালির হাতে থাকবে না, শা-র কথাতেই তা পরিষ্কার বলে দাবি তৃণমূল নেতার। চিন্ময়ানন্দ প্রভুর ওপর অত্যাচারের সময়েও মোদি সরকার কেন নীরব ছিল, সেই প্রশ্নও এদিন পুনরায় উত্থাপন করেন অভিষেক।

