উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে তৃণমূল কংগ্রেসের ‘রণ সংকল্প যাত্রা’য় উত্তরবঙ্গ সফরে এসে কোচবিহারের মাটিতে দাঁড়িয়ে বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee Cooch Behar)। নিশীথ প্রামাণিককে (Nishith Pramanik) ‘আবর্জনা’ আখ্যা দিয়ে কোচবিহারবাসীকে ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি, আসন্ন নির্বাচনে বিজেপির অন্যান্য ‘পরিযায়ী’ নেতাদেরও ‘প্রাক্তন’ করার ডাক দিলেন তিনি।
অভিষেক বলেন, “কোচবিহারের মানুষকে ধন্যবাদ, তাঁরা আবর্জনা বিদায় করেছেন। এবার ভোটে আবর্জনা সাফ করার লড়াই।” নিশীথ প্রামাণিকের নাম না করে তাঁকে ‘ছাইপাশ’ ও ‘পরিযায়ী সাংসদ’ বলে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “বাকিগুলোকেও প্রাক্তন করতে হবে। কী ঔদ্ধত্য মাটিতে পা পড়ত না। দিল্লিতে থাকত। মাঝে একদিন আসত আর চলে যেত।”
কোচবিহারের মানুষের আবেগ উস্কে দিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, ‘বিজেপি রাজবংশীদের আঘাত দিয়ে কোচবিহারকে বিহারে পরিণত করতে চায়। আর আমরা কোচবিহারকে তার সংস্কৃতি দিয়ে কোচবিহার রাখতে চাই। যারা কোচবিহারের মানুষকে বাংলাদেশি বলে দাগিয়ে দিয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।’
অনন্ত মহারাজের প্রসঙ্গ টেনে বিজেপিকে আক্রমণ করে অভিষেক বলেন, ‘অনন্ত মহারাজকে আমি ধন্যবাদ জানাই। উনি প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সার্টিফিকেট নেই বলছেন। উনি বলছেন এই বিজেপি সবাইকে ডিটেনশন ক্যাম্পে নিয়ে যাবে।’ দিল্লির বকেয়া আদায়ের লড়াইয়ে ফের দিল্লি যাওয়ার ডাক দেন অভিষেক। তিনি বলেন, ‘একশো দিনের কাজ নিয়ে দিল্লি গিয়েছিলাম মনে আছে তো? আমাদের অধিকারের লড়াই আবার লড়তে যেতে হবে দিল্লিতে। আজ যে লোক দেখছেন তার এক তৃতীয়াংশ লোক গেলে ওরা বুঝে যাবে। ওদের ঘুম উড়ে যাবে।’
তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। চতুর্থ বার মুখ্যমন্ত্রী হবেন তিনি।’ বন্যার সময় মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকার প্রশংসা করে এবং বিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘দুই মাস আগে এই সব জেলার বন্যায় কটা বিজেপি নেতা এসে কাজ করেছে? কাজ তো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় করেছেন। মাত্র দশ দিনের ব্যবধানে দুই বার এসেছেন।’ শেষে তিনি বলেন, ‘বাংলার মানুষের সঙ্গে পাঙ্গা নেবেন না। পাঙ্গা নিলে চাঙ্গা হয়ে যায়।”

