শিলিগুড়ি: বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে চ্যালেঞ্জ ছোঁড়াটা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) ভাষণের একটা অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। সোমবারও শিলিগুড়ি তরাই তারাপদ আদর্শ বিদ্যালয়ের মাঠ থেকে শিলিগুড়ির বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষকে (Shankar Ghosh) কড়া ভাষায় চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন সন্ধ্যায় গৌতম দেবের সমর্থনে আয়োজিত জনসভায় অভিষেক বলেন, ‘শঙ্করবাবু তো প্রধানমন্ত্রী বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সেলফি পোস্ট করেন। আমি তাঁকে চ্যালেঞ্জ করছি, গত ১২ বছরে নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi) এই অঞ্চলের জন্য কী করেছেন তার পরিসংখ্যান নিয়ে আসুন। আর আমি গত ১৫ বছরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নের খতিয়ান নিয়ে বসব। মুখোমুখি আলোচনায় ১০-০ গোলে ল্যাজেগোবরে করতে না পারলে আমার নাম অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নয়।’
এদিনের সভায় শিলিগুড়ি ছাড়াও মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি ও ফাঁসিদেওয়ার তৃণমূল প্রার্থীরাও উপস্থিত ছিলেন। প্রায় ৩০ মিনিটের ভাষণে কিছুটা আক্ষেপের সুরে অভিষেক মনে করিয়ে দেন যে, ২০১৬ বা ২০২১-এ শিলিগুড়ি তৃণমূলকে জেতায়নি। তা সত্ত্বেও রাজ্য সরকার প্রতি মাসে শিলিগুড়ির ৬০ হাজার মহিলার জন্য মাসে ১০ কোটি টাকার ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ দিচ্ছে। তিনি বলেন, ‘এটাই বিজেপির সঙ্গে আমাদের পার্থক্য। বিজেপি মানুষকে রান্নার গ্যাস বা নোটবন্দির লাইনে দাঁড় করিয়েছে, আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরিষেবা পৌঁছে দিয়েছেন।’
আগামী বছরের পুরনিগম নির্বাচনকে পাখির চোখ করে দলীয় নেতা-কর্মীদের কড়া বার্তাও দিয়েছেন অভিষেক। তিনি স্পষ্ট জানান, পুরনিগমে এমন প্রতিনিধি আনা হবে যারা কেবল উন্নয়নের কাজ করবেন। কাউন্সিলর ও ওয়ার্ড সভাপতিদের কাজের ওপর তাঁর নিজস্ব অফিস সরাসরি নজরদারি চালাবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। পাশাপাশি অশোক ভট্টাচার্যের ‘বাম ভোট রামে যাওয়া’ সংক্রান্ত মন্তব্যকে হাতিয়ার করে অভিষেক বলেন, তৃণমূলকে জব্দ করতে গিয়ে বামেরা নিজেরাই আজ অস্তিত্বহীন হয়ে পড়েছে।

