আলিপুরদুয়ার: প্রায় এক মাস ধরে এলাকায় দেখা মিলছে না ক্ষিতেন বর্মনের। তিনি আবার তৃণমূলের আলিপুরদুয়ার-১ ব্লকের পাতলাখাওয়া অঞ্চল কমিটির চেয়ারম্যানও বটে। যদিও তাঁর বাড়ির লোকের দাবি, কোনও কাজে দীর্ঘদিন কলকাতায় রয়েছেন তিনি। উল্লেখ করার মতো ব্যাপার হল, ক্ষিতেনের নামে এক শিক্ষকের সঙ্গে প্রতারণা করে ১৮ লক্ষ টাকা হাপিস করার অভিযোগও উঠেছে। এব্যাপারে পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগ, তারপর থেকেই এলাকায় পাত্তা নেই ক্ষিতেনের।
গত মে মাসে ফালাকাটার হরিনাথপুরের এক শিক্ষক ফালাকাটা থানায় ক্ষিতেনের নামে প্রতারণার অভিযোগ করেছিলেন। ওই শিক্ষকের স্ত্রীর নামে বালি, পাথরের রয়্যালটি ব্যবসা শুরু করার নামে ১৪ লক্ষ টাকা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনার তদন্তে নেমে ক্ষিতেনের বাড়িতেও পৌঁছে যায় পুলিশ।
ওই শিক্ষকের অভিযোগ, ‘করোনার সময় সামাজিক কাজ করতে গিয়ে আমাদের পরিচয় হয়েছিল। বালি-পাথরের ব্যবসার নামে আমার কাছে ২০২১ সালে তিন দফায় ১৪ লক্ষ টাকা নিয়েছিল ও। টাকা ফেরত চাইলে কয়েকবার সেটা দেওয়ার আশ্বাস দেয়। কিন্তু আমি টাকা আর পাইনি। বাধ্য হয়েই অভিযোগ করি। আমি যে ওই ব্যক্তিকে টাকা দিয়েছি সেটার সমস্ত তথ্য রয়েছে।’ এদিন বিষয়টি নিয়ে কয়েকবার ক্ষিতেনের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু তাঁর মোবাইল বন্ধ থাকায় সেটা করা সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে, ঘটনার তদন্ত চলছে বলে জানাচ্ছে ফালাকাটা থানার পুলিশ। ওই তৃণমূল নেতার বাড়িতে অভিযান করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। পুলিশ সূত্রে খবর, ওই শিক্ষকের অভিযোগের ভিত্তিতে একাধিক ধারায় মামলা শুরু করা হয়েছিল। মে মাসে মামলা শুরু হয়। এই মামলার খবর জানার পর জুলাই মাসে কলকাতা হাইকোর্টের জলপাইগুড়ির সার্কিট বেঞ্চে আগাম জামিনের আবেদন করেন ক্ষিতেনের আইনজীবীরা। সূত্রের খবর, সেই জামিনের আবেদন বাতিল হওয়ার পর থেকেই এলাকায় দেখা যাচ্ছে না ক্ষিতেনকে।
ইতিমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে পাতলাখাওয়া এলাকায় জোর চর্চা চলছে। কয়েক মাস আগেই পাতলাখাওয়া অঞ্চল তৃণমূলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পেয়েছিলেন ওই নেতা। পেশায় তিনি একটি প্রাথমিক স্কুলের পার্শ্বশিক্ষক। এছাড়াও দীর্ঘদিন থেকে শিলতোর্ষা নদীতে বালি, পাথরের ব্যবসাও করেন তিনি। প্রাথমিক স্কুলের ওই শিক্ষক যে অভিযোগ করেছেন, সেখানে আবার ওই তৃণমূল নেতার সঙ্গে আরেক সিপিএম নেতার নামও জড়িয়েছে। সিপিএমের আলিপুরদুয়ার পশ্চিম এরিয়া কমিটির সদস্য তপন বর্মন ওই টাকার লেনদেনের মধ্যস্থতা করেছেন বলে অভিযোগ। যদিও তপন বলছেন এটা ভিত্তিহীন অভিযোগ। তাঁর কথায়, ‘আমি ওই টাকাপয়সার লেনদেনের বিষয়ে কিছুই জানতাম না। পরে শুনেছি ওই দুজনের মধ্যে টাকাপয়সা নিয়ে কিছু সমস্যা হয়। যে শিক্ষক অভিযোগ করেছেন, তিনি তো ক্ষিতেনের বাড়ি থেকে কিছু সামগ্রী উঠিয়ে নিয়ে গিয়েছেন বলে শুনেছি।’ এই অভিযোগ আবার উড়িয়ে দিয়েছেন অভিযোগকারী সেই শিক্ষক।
অঞ্চল তৃণমূলের চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতিতে দলের বিভিন্ন কর্মসূচি সামলাচ্ছেন অন্য নেতারা। তৃণমূলের আলিপুরদুয়ার-১ ব্লক কমিটির সভাপতি তুষারকান্তি রায়ের এই নিয়ে বক্তব্য, ‘অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত শুনিনি। খোঁজ নিয়ে দেখব। তবে যেটুকু শুনেছি, সেটা পুরোটাই ব্যক্তিগত বিষয় শুনেছি। এসবের সঙ্গে দলের কোনও সম্পর্ক নেই।’ আইন আইনের মতো চলবে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

