রাজু সাহা, শামুকতলা: একসময় আদিবাসী সম্প্রদায়ের বিয়েতে ধামসা, মাদলের (Adivasi Wedding Dhamsa Madal) তালে গান ও নাচ অপরিহার্য অঙ্গ ছিল। বর্তমানে সেই জায়গা দখল করে নিয়েছে হিন্দি গানের সঙ্গে চটুল নাচ। তবে শামুকতলার এক আদিবাসী বিয়ের অনুষ্ঠান এই হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে আনল। শনিবার গভীর রাত পর্যন্ত সেই বিয়েতে ধামসা, মাদলের তালে আদিবাসী নৃত্য চলে। তরুণ, তরুণী থেকে শুরু করে প্রবীণরা সেই তালে কোমর দোলালেন। নিজেদের সংস্কৃতিকে এভাবে ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা অতিথিদের নজর কেড়েছে।
শনিবার শামুকতলা-আলিপুরদুয়ার রাজ্য সড়কের পাশে আদিবাসী দম্পতি সুনীল হাঁসদা ও সুষন্না মুর্মুর একমাত্র ছেলে সানি হাঁসদার বিয়ের প্রীতিভোজ অনুষ্ঠান ছিল। গত ২২ তারিখ কার্তিকা ক্যাথলিক চার্চে সানির সঙ্গে ফাঁসখাওয়া চা বাগানের মেরিগ্রেস ভেংরার বিয়ে হয়। শনিবার প্রীতিভোজে আমন্ত্রিত হয়ে এসেছিলেন আলিপুরদুয়ার ডিস্ট্রিক্ট প্রাইমারি স্কুল কাউন্সিল (ডিপিএসসি)-এর চেয়ারম্যান পরিতোষ বর্মন। তিনি বলেন, ‘আমি রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষ। আমাদের সম্প্রদায়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে গান ও নিজস্ব সংস্কৃতির নাচের প্রচলন ছিল। কিন্তু ধীরে ধীরে সেই সংস্কৃতি হারিয়ে যাচ্ছে। ধামসা, মাদলের জায়গা নিয়েছে সাউন্ড বক্স। এখনকার বিয়েতে হিন্দি গানের তালে চটুল নাচ চলে। এই পরিস্থিতিতে সানির বিয়েতে আদিবাসী সংস্কৃতিকে যেভাবে তুলে ধরা হল সেটা মনে ভীষণ আনন্দ দিয়েছে। সব সম্প্রদায়কে এভাবে নিজস্ব সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখার উদ্যোগ নিতে হবে।’


শামুকতলা (Shamuktala) গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান আজেন মিঞ্জ, জেলা পরিষদ সদস্য বাবুলাল মারান্ডি, ও রাহাবিয়াম কিসকুরা এই বিয়েতে আমন্ত্রিত ছিলেন। ধামসা, মাদলের তালে নাচ দেখে তাঁরা নিজেদের ধরে রাখতে পারেননি। তিনজনেই মাদল ও ধামসা কাঁধে নিয়ে বাজাতে শুরু করেন। অনেকক্ষণ সেই তালে নাচেন। বাবুলালের কথায়, ‘আগে বিয়ের অনুষ্ঠানে যেভাবে নাচ, গান চলত সেটা অনেকটাই হারিয়ে যেতে বসেছে। সানির বিয়েতে এভাবে আদিবাসী সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখার উদ্যোগ প্রশংসনীয়।’
এদিকে সুনীল ও সুষন্না অতিথিদের আনন্দ দিতে পেরে ভীষণ খুশি। সুনীলের বক্তব্য, ‘ছেলের বিয়েতে নিজস্ব সংস্কৃতিকে তুলে ধরার ইচ্ছে জেগেছিল। সেজন্য ধামসা, মাদল শিল্পীদের নিয়ে আসি। বিয়ের অনুষ্ঠানে আত্মীয়স্বজন ও অতিথিরা সবাই আদিবাসী নৃত্যে অংশ নেন। এটা আমাদের কাছে অনেক বড় পাওনা।’ আদিবাসী নাচ-গানে সবাই শামিল হওয়ায় খুশি নবদম্পতিও।

