উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী তথা এনসিপি (NCP) নেতা অজিত পাওয়ারের (Ajit Pawar) আকস্মিক মৃত্যুতে উত্তাল দেশের রাজনীতি। সম্প্রতি পুনের বারামতীর কাছে বিমান দুর্ঘটনায় ৬৬ বছর বয়সি এই দাপুটে নেতার প্রয়াণ কেবল এনসিপিতে শূন্যতা তৈরি করেনি, বরং এর পেছনে গভীর ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে আসরে নেমেছে বিরোধী শিবির। শিবসেনা (ইউবিটি) (Shiv Sena) এবং কংগ্রেসের (Congress) দাবি, এই দুর্ঘটনার নেপথ্যে কোনো ‘রহস্য’ লুকিয়ে রয়েছে।
শিবসেনা সাংসদ সঞ্জয় রাউত এই মৃত্যুকে ‘রহস্যজনক’ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর দাবি, এনসিপির দুই শিবিরের পুনর্মিলনের জল্পনা চলাকালীনই কেন এমন ঘটল? রাউত বলেন, ‘অজিত পাওয়ারের কাছে বিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে কিছু ফাইল ছিল বলে শোনা যাচ্ছিল। তিনি এনডিএ ছাড়ার পরিকল্পনাও করেছিলেন। এর মাঝেই এই দুর্ঘটনা নানা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। আমি সংসদে এই ইস্যুটি তুলব।’


অন্যদিকে, মহারাষ্ট্রের কংগ্রেস নেতা বিজয় ওয়াদেত্তিওয়ার অভিযোগ করেছেন, এনসিপির দুই গোষ্ঠীকে এক হওয়া থেকে আটকাতেই এই ‘চক্রান্ত’ করা হয়েছে। পাওয়ারের মৃত্যুর পর অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে তাঁর স্ত্রী সুনেত্রা পাওয়ারকে উপমুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করানো নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তাঁর মতে, রাজনীতির স্বার্থে এই পুরো বিষয়টিকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
তবে বিরোধীদের এই আক্রমণকে ‘নিম্নরুচির রাজনীতি’ বলে কটাক্ষ করেছে বিজেপি। বিজেপি নেতা উজ্জ্বল নিকম সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘একজন প্রয়াত মানুষকে নিয়ে রাজনীতি করা লজ্জাজনক। এটি একটি নিছক দুর্ঘটনা মাত্র, এর মধ্যে কোনও ষড়যন্ত্র নেই।’
যদিও বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অজিত পাওয়ারের মৃত্যু নিয়ে প্রথম প্রতিক্রিয়াতেই প্রশ্ন তুলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘এক সূত্রে জানতে পেরেছিলাম, বিরোধী কোনও নেতা বলেছিলেন বিজেপি ছাড়তে চেয়েছিলেন অজিত পাওয়ার। সেই পরিস্থিতিতে এই দুর্ঘটনা খুবই সন্দেহজনক।’ সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে প্রকৃত তদন্তের দাবিও জানিয়েছিলেন তিনি সেদিন। কিন্তু এটিকে ‘নিছক দুর্ঘটনা’ বলে ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব খারিজ করেছিলেন অজিতের কাকা তথা প্রবীণ নেতা শরদ পাওয়ার। কিন্তু বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর পর এবার একই বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তুলল বাকি বিরোধী দলগুলিও।

