অভিজিৎ ঘোষ, আলিপুরদুয়ার: আলিপুরদুয়ার (Alipurduar) জেলার পাঁচ আসনে মনোনয়নপর্ব শেষ হয়েছে। মঙ্গলবার মনোনয়নপত্র স্ক্রুটিনি হয়। বড় দলগুলি ছাড়াও ছোট দল কিংবা নির্দল প্রার্থীরা কে কে মনোনয়নপত্র জমা দিলেন, সেইদিকে নজর দিয়েছে সব দলের নেতৃত্ব। বিভিন্ন আসনে ছোট দল বা নির্দল প্রার্থীরা ভোট কেটে অন্য দলকে সমস্যায় ফেলতে পারে। এবছর রাজবংশী, আদিবাসী, গোর্খা ভোট বিভিন্ন আসনে কাটাকাটি হতে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিভিন্ন দলের ভিতরেও হিসেবনিকেশ শুরু হয়েছে। জেলায় পাঁচটি আসনে লড়াই করবেন ৪৭ জন প্রার্থী। ৪৮ জন মনোনয়নপত্র জমা করলেও কালচিনির এক নির্দল প্রার্থী হলফনামা জমা না দেওয়ায় তাঁর মনোনয়নপত্র এদিন বাতিল করা হয়। তৃণমূল, বিজেপি, বাম ও কংগ্রেস জেলার পাঁচটি আসনে প্রার্থী দিয়েছে। আগামী ৯ এপ্রিল পর্যন্ত মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময় রয়েছে। তাদের সঙ্গে লড়াইয়ে রয়েছে ছোট দলগুলিও।
জেলার সবথেকে বেশি প্রার্থী রয়েছেন কুমারগ্রাম আসনে। প্রার্থীর সংখ্যা ১২। এছাড়াও আলিপুরদুয়ার ও মাদারিহাট আসনে লড়াইয়ে ১০ জন করে প্রার্থী থাকছেন। কালচিনি ও ফালাকাটায় রয়েছেন ৮ জন করে। কুমারগ্রাম আসনে চারটি বড় দলের প্রার্থী ছাড়াও চারটি ছোট দলের প্রার্থী রয়েছেন। আর চারজন নির্দল থেকে ভোটে দাঁড়াবেন। নির্দল প্রার্থীরা ছাড়াও হুমায়ুন কবীরের আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রভাব কতটা থাকতে পারে সেইদিকে নজর থাকবে। আলিপুরদুয়ার আসনে প্রার্থী দিয়েছেন হুমায়ুন। অন্যদিকে, আলিপুরদুয়ার ও ফালাকাটা আসনে তৃণমূল ও বিজেপির মাথাব্যথার কারণ হতে পারে কামতাপুর পিপলস পার্টি (ইউনাইটেড)। এই দুই বিধানসভায় রাজবংশীদের বড় ভোট রয়েছে। রাজবংশী ভোট কাটায় কোন ফুলের ওপর প্রভাব পড়বে সেটাই এখন দেখার।
অন্যদিকে, ফালাকাটা আসেন বিজেপির আরেক মাথাব্যথার কারণ দলেরই পঞ্চায়েত সদস্য দিলীপ বর্মন। জটেশ্বর-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য বিক্ষুব্ধ হয়ে আলাদা লড়াই করছেন। এর জেরে বিজেপির ভোট কিছুটা কমতে পারে। যদিও পদ্ম নেতাদের দাবি, ভোট হবে প্রতীকে। এদিন এই নিয়ে জেলা বিজেপির সভাপতি মিঠু দাস বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য তৃণমূলকে হারানো। বিজেপির ভোট পদ্ম ফুলে পড়বে। বাকি কে কী করল তাতে কোনও প্রভাব পড়বে না।’ মাদারিহাট ও কালচিনি আসনেও নির্দল প্রার্থীরা রয়েছেন। তৃণমূলের জেলা সভাপতি প্রকাশ চিকবড়াইকের মতে, ‘সাধারণ মানুষ এখন সব বোঝেন। কেউ ভোট নষ্ট করবেন না। আমরা ভালো ভোট পাব সেটাও নিশ্চিত।’

