ভাস্কর শর্মা, আলিপুরদুয়ার: আলিপুরদুয়ার (Alipurduar) জেলার প্রাথমিক স্কুলগুলিতে পঠনপাঠন সহ যাবতীয় কাজ পরিচালনার জন্য ফের প্রধান শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হল। জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষা সংসদের তরফে এই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। গত বছরও বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বেশিরভাগ প্রাথমিক স্কুলেই (Primary Education) প্রধান শিক্ষক নিয়োগ করা হয়েছিল। কোনও অভিযোগ না ওঠায় এবার বাকি স্কুলগুলিতেও এই নিয়োগ শুরু করতে চলছে ডিপিএসসি। স্কুলগুলির হাল ফেরাতে এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠন।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যান পরিতোষ বর্মন বলেন, ‘এর আগে আমরা ৫৫৫ জন প্রধান শিক্ষক নিয়োগ করেছিলাম। তারপর নতুন শূন্যপদ তৈরি হয়। আগের কিছু পদও খালি ছিল। সব মিলিয়ে আমরা ফের ১১২ জনের মতো প্রধান শিক্ষক নিয়োগ করতে চলছি। এই নিয়োগ হয়ে গেলে জেলার প্রায় সব স্কুল প্রধান শিক্ষক পেয়ে যাবে। নিয়োগে সব ধরনের স্বচ্ছতা বজায় রাখা হচ্ছে।’
৫ জানুয়ারি থেকেই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। চলবে ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত। এর জন্য চাকরিরত শিক্ষকদের অন্তত পঁাচ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। আবেদনকারী শিক্ষকদের খসড়া তালিকা প্রকাশ করা হবে ২১ থেকে ৩০ জানুয়ারির মধ্যে। সেখান থেকেই আবেদনকারীদের সংশ্লিষ্ট সার্কেলে প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ করা হবে।
এদিকে, ফের প্রধান শিক্ষক নিয়োগ হতে চলায় খুশি বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠন। নিখিলবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির জেলা সম্পাদক প্রসেনজিৎ রায় বলেন, ‘নিয়মিত প্রধান শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় আমরা খুশি। তবে আমাদের দাবি, আগে পুরোনো প্রধান শিক্ষকদের বদলি প্রক্রিয়া চালু করতে হবে। তারপর নতুন করে স্কুলগুলিতে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ করা হোক। না হলে আমরা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হব।’ তৃণমূল প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির জেলা সভাপতি কৌশিক সরকারের মন্তব্য, ‘অত্যন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে জেলার প্রাথমিক স্কুলগুলিতে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ করা হচ্ছে। এই নিয়োগে স্কুলগুলির পঠনপাঠন সহ যাবতীয় কাজকর্ম চালাতে সুবিধা হবে।’
আলিপুরদুয়ার জেলায় ৮৩৮টি প্রাথমিক স্কুল (West Bengal School News) আছে। পড়ুয়ার সংখ্যা প্রায় ৮৫ হাজার। পড়ুয়া-শিক্ষক অনুপাত মোটামুটি ঠিক থাকলেও বেশিরভাগ স্কুলেই প্রায় নয় বছর ধরে প্রধান শিক্ষক ছিলেন না। সমস্যা মেটাতে উদ্যোগী হন ডিপিএসসি’র চেয়ারম্যান পরিতোষ বর্মন। ফলে গত বছর প্রায় সাড়ে ৫০০ প্রধান শিক্ষক স্কুলগুলিতে নিয়োগ পান। এবার আবার ১১২ জন নিয়োগ হতে চলেছেন। ফেব্রুয়ারির মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হবে বলে খবর।

