অভিজিৎ ঘোষ, আলিপুরদুয়ার: এসআইআর ঘোষণা হতেই চিন্তায় ছিলেন পরিযায়ী শ্রমিকরা। যাঁরা ভিনরাজ্যে গিয়ে কাজ করছেন, তাঁদের এসআইআরের জন্য এনুমারেশন ফর্ম কি বাড়িতে এসে পূরণ করতে হবে? এই প্রশ্ন অনেকেই করছিলেন। বৃহস্পতিবার আলিপুরদুয়ারে (Alipurduar) সেই বিষয়টি পরিষ্কার করে দিলেন রাজ্য মুখ্য নির্বাচনি আধিকারিক মনোজকুমার আগরওয়াল। তিনি বলেন, ‘কোনও বৈধ ভোটার এসআইআরে বাদ যাবেন না। সবার নাম থাকবে। পরিযায়ী শ্রমিকদের বাড়ির লোকেরা তাঁদের ফর্ম পূরণ করতে পারবেন। এছাড়াও কিউআর কোডের মাধ্যমেও ফর্ম পূরণ করা যাবে।’ এদিন মনোজ ছাড়াও সিনিয়ার ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ ভারতী সহ কমিশনের দল এসআইআর সম্পর্কিত একটি বৈঠক করে ডুয়ার্সকন্যায়। সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে মনোজ পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্তব্য করেন।
ফর্ম নিয়ে চা, পরিযায়ী শ্রমিকদের চিন্তা এতে অনেকটাই দূর হল বলে মনে করা হচ্ছে। আলিপুরদুয়ার-১ ব্লকের তপসিখাতার বাসিন্দা সুনীল দাস যেমন জয়পুরে কাজ করেন। এদিন ওই কথা শুনে তিনি বলেন, ‘এসআইআর ঘোষণা হওয়ার পর এই বিষয়টি নিয়ে চিন্তায় ছিলাম। তবে বাড়ির লোক ফর্ম পূরণ করতে পারলে আর চিন্তা নেই।’ পুনেতে শ্রমিকের কাজে থাকা নিমতির বাসিন্দা পূরণ ওরাওঁ বলেন, ‘ভেবেছিলাম এবার হয়তো বাড়ি যেতে হবে এসআইআরের জন্য। তবে এখন আর যেতে হচ্ছে না।’
‘শ্রমিক সংগঠনগুলির মধ্যে ভারতীয় মজদুর সংঘের জেলা সম্পাদক কুশল চট্টোপাধ্যায় এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তিনি জানান, তাঁদের কাছে খবর রয়েছে নির্বাচন কমিশন অনলাইন ফর্ম পূরণের ব্যবস্থাও চালু করতে পারে পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য। আইএনটিটিইউসির জেলা সভাপতি বিনোদ মিঞ্জ বলেন, ‘প্রয়োজন পড়লে আমাদের বিভিন্ন বুথের বিএলএ-২ সহ কর্মীরা গিয়ে ফর্ম পূরণ করতে সাহায্য করবেন।’
এদিন একদিকে যেমন নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য সুখবর দেওয়া হয় তেমনই আবার জেলার নির্বাচনের কাজে যুক্ত আধিকারিকদের কড়া বার্তাও দেওয়া হয়। কোনও ভুয়ো ভোটার যদি কোনওভাবে সংশোধিত ভোটার তালিকায় জায়গা পান, তাহলে সেই ভোটারের ফর্ম দেখার দায়িত্বে থাকা আধিকারিকদের শাস্তি পেতে হবে বলে জানানো হয়। ফর্ম জমা দেওয়ার সময় কোনও কাগজ জমা দিতে হবে না বলেও জানানো হয়েছে।
কোনও ভোটারের কাছেই কোনও কাগজ চাওয়া যাবে না। সব কাগজ দেখানোর প্রক্রিয়া হবে হিয়ারিংয়ের সময়। বিভিন্ন জায়গায় বিএলও-দের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের দলের তরফে জানানো হয়, জেলা নির্বাচন আধিকারিকরা সমস্যাগুলির সমাধান করবেন।

