মণীন্দ্রনারায়ণ সিংহ, আলিপুরদুয়ার: দীপক-সুমনের পর এবার বারলা (John Barla) ভার্সেস সুমন (Suman Kanjilal)! আলিপুরদুয়ারের (Alipurduar) উন্নয়ন নিয়ে তোপ-পালটা তোপ দাগার পালা চলছে। বারলার কথায়, বিজেপিতে থাকাকালীন নাকি সুমন কাজ করতে পারছিলেন না। এখন তৃণমূলে গিয়ে তিনি কোন উন্নয়নটা করছেন বলে প্রশ্ন তোলেন আলিপুরদুয়ারের সাংসদ। অন্যদিকে, বিজেপির বিধায়ক বারলাকে ভোটপাখি বলে কটাক্ষ করে জানালেন, এতদিন তো এলাকায় তাঁর টিকিটাও দেখা যেত না। এখন তাহলে কেন বাড়ি বাড়ি ঘুরছেন?
রবিবার আলিপুরদুয়ারে বঞ্চুকামারি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় নদীর ভাঙনগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করতে গিয়েছিলেন আলিপুরদুয়ারের বিজেপি সাংসদ জন বারলা। সেখানে সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের মুখে বারলা এই অনুন্নয়ন নিয়ে কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন আলিপুরদুয়ারের বিধায়ককে। বারলা বলেন, ‘বিজেপি বিধায়ক থাকার সময় নাকি এলাকার মানুষের জন্য কোনও কাজ করতে পারতেন না সুমন। এখন তৃণমূল কংগ্রেসে গিয়ে উনি কোন কাজটা করছেন? এলাকার বিধায়ক হিসেবে উনি রাস্তা, কালর্ভাট, নদীভাঙন সমস্যা দেখতে পাচ্ছেন না?’ সাংসদের আক্রমণের পালটা জবাবে সুমন জানান, প্রায় পাঁচ বছরে একদিনও তো জেলা শহরের এমনকি আশপাশের এলাকার মানুষের কোনও সমস্যার কথা সাংসদ শোনেননি। প্রশাসন কাজ করতে দিচ্ছে না, একথা বলে এতদিন কাটিয়ে দিলেন। তাঁর বক্তব্য, ‘সামনেই লোকসভা ভোট। এখন ভোট আসতে উনি কাউন্সিলার, গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যদের মতো পাড়ায় পাড়ায় ঘুরছেন। ভোটপাখিটা কে, জেলার মানুষের বুঝতে আর বাকি নেই।’


কয়েকদিন আগে আলিপুরদুয়ার শহরে ডুয়ার্সকন্যার সামনে পথসভায় ফালাকাটার বিধায়ক দীপক বর্মন তাঁর একসময়ের সতীর্থ সুমনকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। এদিকে, লোকসভা ভোটের আগে বারলার এই ‘অতি তৎপরতা’ দেখে তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি প্রকাশ চিকবড়াইক তাঁকে তোপ দেগেছেন। তিনি বলেন, ‘আলিপুরদুয়ারের সাংসদ একটা চাপাকলও বসাতে পারেননি।’ বারলার বিরুদ্ধে প্রচার করতে নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এর জবাবে বারলা বলেছেন, ‘সাংসদ হিসেবে এলাকার জন্য কী করেছি, সেটা সময় হলেই জানিয়ে দেব। কাজের সাইনবোর্ডও প্রশাসনের আধিকারিকরা লাগাতে দেয় না। বাধা সত্ত্বেও অনেক কাজ করেছি।’ দিল্লিতে গিয়ে রেলমন্ত্রীর সঙ্গে আলিপুরদুয়ারের হাসপাতালের বিষয়ে কথা বলবেন। তারপর শিলান্যাস অনুষ্ঠান হবে।

