Alipurduar | তৃণমূলের দুর্দিনের কাণ্ডারি এখন অবসাদে! অভিমানে রাজনীতি থেকে ‘সন্ন্যাস’ নিলেন ধীরেশ রায়

শেষ আপডেট:

বামেদের দুর্ভেদ্য ঘাঁটি কুমারগ্রাম ব্লকে ফুটিয়েছিলেন ঘাসফুল। অন্য দল থেকে তৃণমূলে আসা নেতাদের জন্য এখন অনেকটাই ব্যাকফুটে চলে গিয়েছেন। মিটিং, মিছিল বাদ দিয়ে তাই মন দিয়েছেন ব্যবসায়।

নৃসিংহপ্রসাদ গঙ্গোপাধ্যায়, কুমারগ্রাম: কট্টর বামপন্থী পরিবারের ছেলে হয়েও ছাত্রজীবন থেকে ডানপন্থী রাজনীতির প্রতি একটা আলাদা টান ছিল খোয়ারডাঙ্গার ধীরেশচন্দ্র রায়ের। আলিপুরদুয়ার (Alipurduar) কলেজে পা রেখে বাবলু করের সঙ্গে পরিচয়। তারপর মৃদুল গোস্বামীর সান্নিধ্যে আসা। তৃণমূল কংগ্রেসের জন্মলগ্ন থেকেই দলটা করেন।

বিভিন্ন সময় সাংগঠনিক নানা পদে দায়িত্ব সামলে ২০১৯ সালে দলের কুমারগ্রাম (Kumargram) ব্লক সভাপতি হন। ছন্দপতন ঘটে ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে। দল সুদয় নার্জিনারিকে ব্লক সভাপতির দায়িত্ব দেওয়ার পর থেকে ধীরেশ রাজনীতি থেকে একপ্রকার ‘সন্ন্যাস’ নেন। মিটিং, মিছিল, সভা ভুলে নিজের কাঠমিলের ব্যবসায় মন দেন।

বাম জমানায় তৎকালীন শাসকদলের নেতাদের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে স্রোতের প্রতিকূলে বুক চিতিয়ে ডানপন্থী রাজনীতি করতেন ধীরেশ। সেই সুবাদে ২০০১ সালে খোয়ারডাঙ্গা-১ ও ২ অঞ্চল আহ্বায়ক, ২০০২ সালে ব্লক সাধারণ সম্পাদক হন ধীরেশ। কঠিন লড়াই করে ২০০৩ সালে পঞ্চায়েত নির্বাচনে খোয়ারডাঙ্গা-২ গ্রাম পঞ্চায়েতে প্রথমবার তৃণমূলের তিন প্রার্থীর জয়লাভের কৃতিত্বও এই রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক ধীরেশের। এরপর থেকে দলে তাঁর গুরুত্ব বাড়তে থাকে। ২০০৭ সালে ব্লক সহ সভাপতির দায়িত্ব পান। ২০০৮ সালে দলের টিকিটে ভোটে লড়ে পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সিপিএম প্রার্থী তারামণি কার্জিকে হারিয়ে ফের নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দেন।

তাঁর নেতৃত্বে ২০১৩ সালে তৃণমূল নিরঙ্কুশ ভোটে জয়ী হয়ে খোয়ারডাঙ্গা-২ গ্রাম পঞ্চায়েত দখল করে। সেবার তাঁর স্ত্রী বিউটি দেবনাথ রায় তৃণমূলের টিকিটে পঞ্চায়েত সমিতির আসনে জয়ী হন। ২০১৮ সালে ব্লকের ওয়ার্কিং প্রেসিডেন্ট পদ পান। ২০১৯ সালে লোকসভা নির্বাচনে আলিপুরদুয়ার কেন্দ্রে দলীয় প্রার্থীর ভরাডুবির পর দায় স্বীকার করে দুলাল দে অব্যাহতি চাইলে দল ধীরেশকে ব্লক সভাপতির আসনে বসায়। এরপর ২০২৩ সালে দলের টিকিটে জয়ী হয়ে কুমারগ্রাম পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ হন।

দুর্দিনে দলকে সময় দিয়েছেন। আর এখন তো দল ক্ষমতায় রয়েছে। তাহলে আচমকা রাজনীতি থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিলেন কেন? ধীরেশের সাফ জবাব, ‘২০১৬ সালে আরএসপি ছেড়ে মোহন শর্মার হাত ধরে তৃণমূলে আসেন বিপ্লব নার্জিনারি। ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে দলের রাশ তাঁর হাতে থাকায় আদি তৃণমূলের কেউই ভোটে লড়ার টিকিট পায়নি। অভিমানে আমার মতো দলের অনেকেই নির্দল প্রার্থী হিসেবে লড়াই করেছিল।’

আক্ষেপের সুর স্পষ্ট ধীরেশের গলায়। বললেন, ‘দলে থেকে নব্য তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে সংগঠনকে শক্তিশালী করা যায় না। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশমতো জেলা এবং ব্লক স্তরে সাংগঠনিক কাজকর্ম কেন হচ্ছে না, বুঝতে পারছি না।’ ২০২৪ সালের লোকসভায় জেলা চেয়ারম্যান গঙ্গাপ্রসাদ শর্মার বুথে তৃণমূল ৯৩টি ভোট পেয়েছে। আর অঞ্চলে ৮ হাজার ভোটে পিছিয়ে। এই দায়ভার কার? দলকে কী দিয়েছেন নবাগত গঙ্গাপ্রসাদ? প্রশ্ন তুললেন ধীরেশ।

Sushmita Ghosh
Sushmita Ghoshhttps://uttarbangasambad.com/
Sushmita Ghosh is working as Sub Editor Since 2018. Presently she is attached with Uttarbanga Sambad Digital. She is involved in Copy Editing, Uploading in website and various social media platforms.

Popular

More like this
Related

Vagabond Murder | দিনহাটায় নৃশংসতা! ভবঘুরেকে খুন করে মাংস খাওয়ার পরিকল্পনা, ধৃত নেশাগ্রস্ত যুবক

দিনহাটা: বলিউডের থ্রিলার ছবির গল্পকেও হার মানানো এক নৃশংস...

Chanchal | অপারেশন থিয়েটারেই চিরঘুম মা ও গর্ভস্থ সন্তানের! গাফিলতির অভিযোগে উত্তাল চাঁচল

চাঁচল: চিকিৎসার গাফিলতিতে প্রসূতি ও গর্ভস্থ সন্তানের মৃত্যুকে (Maternal...

Patiram | মানসিক ভারসাম্যহীন ভাই–বোনের তাণ্ডব! আতঙ্কে পতিরামের উত্তর রায়পুর পাড়া

পতিরাম: মানসিক ভারসাম্যহীন দুই ভাই–বোনের তাণ্ডবে কার্যত আতঙ্কের পরিবেশ...

Kumarganj | বিদ্যুতের বিল মেটাতে জমি বিক্রি আদিবাসী দম্পতির! পাশে দাঁড়াল কুমারগঞ্জ প্রশাসন

কুমারগঞ্জ: বিদ্যুতের বিপুল বিল মেটাতে জমি বিক্রি করতে বাধ্য...