নৃসিংহপ্রসাদ গঙ্গোপাধ্যায়, বারবিশা: পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন স্কুল চত্বরজুড়ে রকমারি সবুজের সমাহার। নতুন করে গাছ লাগানোর একচিলতে জায়গাও নেই। এই অজুহাতে সবুজায়নের কর্মসূচিতে অংশ নেবে না কুমারগ্রাম ব্লকের বারবিশা গার্লস হাইস্কুলের ছাত্রীরা? এদিকে, আবার গরমের দিনে দোতলার ক্লাসরুমে পড়াশোনা করা দায় হয়ে পড়ে। ক্লাসরুমগুলো ‘ঠান্ডা’ করতে স্কুলের ছাদে গড়ে উঠেছে আস্ত একটি বাগান। সেই ছাদবাগান দেখভালের জন্য একাধিক শ্রেণির পড়ুয়াদের নিয়ে বিদ্যালয়ে ৫০ সদস্যের ইকো ক্লাবও গঠিত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিষ্কার এবং সবুজ চেতনা তৈরি করে চলেছেন বিদ্যালয়ের টিআইসি তপতী সরকার।
তপতী সরকার জানান, প্রচণ্ড গরমে দোতলার ক্লাসরুমগুলোতে টেকা দায় হয়ে পড়েছিল। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ছাদবাগান তৈরির পরিকল্পনা মাথায় আসে। বললেন, ‘মাসখানেক আগে বিডিও অফিস কর্তৃপক্ষ ৪০টি হাইব্রিড চারাগাছ দেয়। স্কুল চত্বরে নতুন করে চারাগাছ লাগানোর জায়গা নেই। তাই এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে পূর্ব পরিকল্পনামতো ছাদবাগান গড়ে তোলা হয়। নার্সারি থেকে আরও ৫০টি চারাগাছ কিনে ছাদবাগান তৈরি করা হয়েছে। এখন দোতলার ক্লাসরুমগুলোতে গরম অনেকটা কমেছে।’ ধাপে ধাপে ছাদবাগানে গাছের সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে বলে তিনি জানান।
কী নেই সেই ছাদবাগানে? আম, লিচু, কমলালেবু, সবেদা, পেয়ারা, ড্রাগনফ্রুট, কামরাঙা, তেঁতুল, আমলকী থেকে রকমারি ফুল, পাতাবাহার। বিভিন্ন সময়ে স্কুলের ভবন রং করার পর খালি ড্রাম, বালতি, মিড-ডে মিলের সর্ষের তেলের খালি ড্রামগুলো মজুত করে রাখা হয়েছিল। সেগুলোই মাপে মাপে কেটে উচ্চফলনশীল চারাগাছ রোপণের টব তৈরি করেছে ছাত্রীরা। মিড-ডে মিল রান্নাঘরের পাশে থাকা কম্পোস্ট পিট থেকে জৈব সারযুক্ত মাটি, ডিমের খোসার গুঁড়ো ব্যবহার করা হয়েছে টবে। সূর্যের অতিরিক্ত তাপ থেকে বাঁচাতে বাঁশের কাঠামোয় গ্রিন নেটের শেড দেওয়া হয়েছে।
সপ্তম শ্রেণির মৌমিতা শর্মা অন্যতম সক্রিয় সদস্য। স্কুল ছুটির দিনগুলোতে ছাদবাগানে অভিনব পদ্ধতিতে জল দেওয়া হয়। এই পদ্ধতির কথা প্রথম তাদের মাথাতেই এসেছিল। সে বলল, ‘২ লিটার জলের বোতলে ‘ড্রিপার’ লাগিয়ে ছাদবাগানে সেচের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সবুজায়নের বার্তা দিতে আমরা বাড়ির আশপাশেও গাছ লাগিয়েছি। লেখাপড়ার ফাঁকে সেগুলোর যত্ন আমরাই করি।’ সপ্তম শ্রেণির নিবেদিতা দাস, অষ্টম শ্রেণির কেয়া সূত্রধর, সাথি সূত্রধররা জানাল, ইকো ক্লাব গড়ে প্রাকৃতিক সম্পদ এবং পরিবেশ সংরক্ষণে পরিবেশবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে সচেতনভাবে পরিবেশগত সমস্যা কাটিয়ে ওঠার পাঠ দিয়েছেন শিক্ষিকারা।
বিদ্যালয় পরিচালন কমিটির সভাপতি রাজীব তিরকি শিক্ষিকা এবং পড়ুয়াদের এই উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন। বললেন, ‘নির্বিচারে গাছ কাটার কারণে পৃথিবীজুড়ে অস্বাভাবিক মাত্রায় গরম বাড়ছে। সেই পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমাদের বেশি করে গাছ লাগানো জরুরি। এই কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সচেতন হচ্ছে।’

