ভাস্কর শর্মা, ফালাকাটা: শীতের মধ্যেও পানীয় জল নিয়ে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে আলিপুরদুয়ারের (Alipurduar) দক্ষিণ ফালাকাটায়। প্রায় ৩ মাস ধরে পুরসভার ১৪ ও ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের একাংশে ঠিকমতো জল আসছে না। পিএইচই দপ্তরের রাস্তার পাশে থাকা ট্যাপকল থেকে ওই জল মিলছে (Drinking Water Crisis) না বলে বাসিন্দারা জানিয়েছেন। ফলে রোজ জলের পাত্র নিয়ে কলের সামনে দাঁড়িয়েও নিরাশ হয়ে ফিরছেন বাসিন্দারা। অন্তত ৫ হাজার মানুষ পানীয় জলের সমস্যায় ভুগছেন।
বিষয়টি নিয়ে এলাকার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার অচিন্ত্য রায় বলেন, ‘শুনেছি পাইপলাইনের সমস্যার জন্য ট্যাপকলগুলি থেকে জল পড়ছে না। বিষয়টি পুরসভার চেয়ারম্যানের মাধ্যমে পিএইচই দপ্তরের নজরে আনা হবে।’
বাসিন্দারা জানিয়েছেন, দক্ষিণ ফালাকাটার ১৪ ও ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের ভরসা পিএইচই দপ্তরের ট্যাপকলের পানীয় জল। অনেকের বাড়িতে জলস্বপ্ন প্রকল্পের পাইপলাইন আছে। কিন্তু এখনও প্রচুর মানুষের ভরসা রাস্তার পাশের ওই পিএইচই’র (PHE Water Supply) ট্যাপকল। দক্ষিণ ফালাকাটার মশল্লাপট্টি, মহাকালপাড়া, যাদবপল্লি, সারদানন্দপল্লির প্রায় ৫ হাজার মানুষের ভরসা ওই ট্যাপকলের পানীয় জল। সারাদিনে অন্তত ৩ বার এই কলগুলি থেকে জল আসে। অভিযোগ, দীর্ঘ প্রায় ৩ মাস ধরে কলগুলি থেকে ঠিকমতো জল পড়ছে না।
কোনও এলাকায় মাঝেমধ্যে জল এলেও তার পরিমাণ কম। আবার কোনও এলাকায় তো একদমই জল আসে না। এলাকার এক বাসিন্দা পার্থ সূত্রধর বলেন, ‘প্রায় ৩ মাস ধরে আমাদের এলাকায় জল আসে না। শুনেছি একটি মোবাইল টাওয়ার বসানোর জন্য পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তার পর থেকেই আর জল পড়ে না এলাকার কলগুলিতে। বিষয়টি পুরসভায় জানানো হয়েছে।’ এলাকার আরেক বাসিন্দা সঞ্জয় সাহার কথায়, ‘আগে মাঝেমধ্যে পিএইচই’র কল থেকে জল পড়ত না। আর এখন একেবারেই জল পড়ে না। বিশেষ করে আমাদের সারদানন্দপল্লিতে তো জলই আসে না। জানি না কবে এই জল সমস্যার সমাধান হবে।’
পুরসভার ১৪ ও ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ ফালাকাটার মানুষ প্রায় ৩ মাস ধরে পানীয় জল পাচ্ছেন না। এর অন্যতম কারণ নাকি একটি মোবাইল টাওয়ার। মহাকালপাড়া এলাকায় একটি বেসরকারি সংস্থার মোবাইল টাওয়ার বসানো হয়। তা-ও প্রায় ৩ মাস আগে। ওই টাওয়ার বসানোর পর পাতা হয় তার। অভিযোগ, ওই তার পাতার সময় পানীয় জলের পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বহু জায়গায় পাইপলাইন ফাটিয়ে ফেলা হয়। ফলে ঠিকমতো আর জল এখন পৌঁছায় না। বিশেষ করে সারদানন্দপল্লির সব এলাকাতেই আগের মতো জল মিলছে না। যা নিয়ে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে বাসিন্দাদের মধ্যে।

