উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: পাকিস্তানের সামরিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরকে আনুষ্ঠানিকভাবে দেশের প্রথম ‘চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস’ (CDF) হিসেবে নিয়োগ করল শেহবাজ শরিফ সরকার (Shehbaz Sharif)। ৫ বছরের মেয়াদে এই দায়িত্ব গ্রহণের ফলে মুনির একই সঙ্গে দেশটির সেনাপ্রধান (COAS) পদেও বহাল থাকছেন। এই নিয়োগের মাধ্যমে কার্যত তিনি এখন পারমাণবিক শক্তিধর পাকিস্তানের একক ও সর্বোচ্চ সামরিক ক্ষমতাধর ব্যক্তিত্বে পরিণত হলেন।
প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সুপারিশক্রমে প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি (Asif Ali Zardari) এই নিয়োগে অনুমোদন দেন। প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের এক্স (পূর্বের টুইটার) পোস্টে জানানো হয়েছে, ফিল্ড মার্শাল মুনির ৫ বছরের জন্য সিওএএস (COAS)-এর পাশাপাশি সিডিএফ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করবেন।
নতুন সিডিএফ (CDF) পদটি স্থলসেনা, বিমানসেনা এবং নৌসেনা—এই ৩ বাহিনীকেই কার্যত তাঁর একক নেতৃত্বের অধীনে নিয়ে এল। এই পরিবর্তনগুলো মুনিরের ক্ষমতাকে অনেক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। তিনি ২০৩০ সাল পর্যন্ত ৫ বছরের জন্য এই পদে বহাল থাকবেন বলে জানা গিয়েছে। তিনি এখন কার্যত দেশের পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবস্থারও একক দায়িত্বে। এর পাশাপাশি সিডিএফ, প্রেসিডেন্টের সমতুল্য আইনি সুরক্ষা পাবেন। অর্থাৎ, আজীবন যেকোনও আইনি প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে সুরক্ষা কবচ পাবেন তিনি। এই সুরক্ষা বিমানবাহিনী এবং নৌবাহিনীর প্রধানদের ক্ষেত্রেও ধার্য করা হয়েছে।
এই পরিবর্তনের ফলে তিন বাহিনীর ওপর সামগ্রিক নিয়ন্ত্রণ প্রেসিডেন্ট ও ক্যাবিনেটের হাত থেকে সিডিএফ-এর হাতে চলে এসেছে। সূত্রের খবর, ভাইস চিফ অব আর্মি স্টাফ (VCOAS) পদের জন্য সুপারিশ করার ক্ষমতাও এখন সিডিএফ-এর হাতেই থাকবে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সংশোধনী পাকিস্তানে সামরিক বাহিনীর প্রভাবকে আরও গভীরভাবে প্রোথিত করল। নতুন এই পদটি সংবিধানের ২৭তম সংশোধনীর মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে, যা পূর্বে থাকা ‘চেয়ারম্যান, জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফ কমিটি’ (CJCSC) পদটিকে বিলুপ্ত করে সামরিক কমান্ডকে এককেন্দ্রিক করল।
এই নিয়োগ এমন এক সময়ে ঘটল যখন মুনিরের ক্ষমতা বাড়ানো প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের ‘দ্বিধা’ নিয়ে বিস্তর জল্পনা চলছিল। তবে এই আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমে সেই জল্পনার যেমন অবসান ঘটল তেমনই এও নিশ্চিত হল যে, এখন থেকে পাকিস্তানের যাবতীয় সামরিক ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকবেন আসিম মুনির।

