দিনহাটা: বহু প্রতীক্ষিত জল জীবন মিশন প্রকল্পে রিজার্ভার তৈরি হয়েছে কয়েক মাস আগেই। ফেব্রুয়ারি মাসে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনও হয়েছে। ঘরে ঘরে পরিস্রুত পানীয় জল পাবেন বলে আশা করেছিলেন দিনহাটা-১ ব্লকের ভেটাগুড়ি-১ পঞ্চায়েতের দুটি গ্রামের বাসিন্দারা। কিন্তু বাস্তবে সেই আশা পূরণ হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দা রবিন মহন্তের কথায়, ‘ছয় মাস হল রিজার্ভার উদ্বোধন হয়েছে। ওই শেষ। বাড়ি বাড়ি জল পৌঁছানোর কথা থাকলেও এখনও জলের পাইপলাইনের কাজ সম্পন্ন হয়নি।’
স্থানীয় সূত্রে খবর, জলকষ্টে ভুগছে রুইয়েরকুঠি ও খারিজা বালাডাঙ্গা গ্রামের প্রায় ১৮টি বুথের বাসিন্দা। কিছু বাড়িতে পাইপলাইন টানার কাজ শেষ হলেও জল সরবরাহ কার্যত বন্ধ। অনেক জায়গায় আবার পাইপলাইনের কাজ সম্পূর্ণ হয়নিও বলে অভিযোগ। এই পরিস্থিতিতে গ্রামবাসীদের প্রতিদিনই জল সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। কোনও কোনও বাড়ির সদস্য কয়েক কিলোমিটার দূরের পুকুর কিংবা টিউবওয়েল থেকে জল টেনে আনছেন। গরমে জল সমস্যা আরও বেড়েছে।


বাসিন্দাদের অভিযোগ, কাজ শেষ হওয়ার পরও কেন জল সরবরাহ শুরু হচ্ছে না তার কোনও স্পষ্ট জবাব পাচ্ছেন না তাঁরা। এক বাসিন্দার কথায়, ‘রিজার্ভার হয়েছে। পাইপলাইন বসানো হয়েছে। উদ্বোধনও হয়ে গিয়েছে। কিন্তু জল কোথায়? শুধু নাম কা ওয়াস্তে প্রকল্প হলে মানুষের উপকার হবে না।’ যদিও স্থানীয় প্রশাসনের তরফে জানা গিয়েছে, কিছু কারিগরি সমস্যার কারণে জল সরবরাহে দেরি হচ্ছে। তবে কবে নাগাদ সমস্যা মিটবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি দপ্তরের অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার সুব্রত ধরকে ফোন করা হলে তাঁকে ফোনে পাওয়া যায়নি।
পঞ্চায়েত সদস্য বুলবুলি বর্মন বলেন, ‘বিভিন্ন জায়গায় আমরা পানীয় জলের জন্য দাবি জানিয়েছি। কিন্তু কাজ সম্পন্ন হলেও জল না পাওয়াটা খুব দুর্ভাগ্যের।’
প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ার সময় গ্রামবাসীরা আশা করেছিলেন, এবার পরিস্রুত জল পেলে তাঁদের আর জলবাহিত রোগের চিন্তা থাকবে না। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি উলটো ছবি তুলে ধরেছে। উদ্বোধনের এতদিন পরেও প্রকল্পের কোনও সুফল গ্রামে পৌঁছায়নি। স্থানীয় বাসিন্দা রাজু মহন্ত ক্ষোভের সুরে বলেন, ‘কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার বাড়ি বাড়ি জল পৌঁছে দেওয়ার প্রকল্প তৈরি করলেও আদতে তারা ব্যর্থ। দীর্ঘদিন যাবৎ জলের আশা দিয়ে থাকলেও গ্রামের বেশিরভাগ বাড়িতে পানীয় জলের সুবিধা পৌঁছায়নি। ২০২৬ সালের নির্বাচনে হয়তো নতুনভাবে জলের কথা বলে দু’পক্ষই ভোট চাইবে।’
প্রশ্ন উঠছে, বহু প্রচার সত্ত্বেও জল জীবন মিশন প্রকল্প কি শুধু কাগজেই সীমাবদ্ধ রয়ে গেল? গ্রামবাসীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান কবে হবে?

