শেখ পান্না, রতুয়া: সরকারি হাসপাতালগুলিকে যেন নিজেদের খাস জমিদারি বানিয়ে ফেলেছেন অ্যাম্বুল্যান্সচালকরা। সোমবার তার প্রমাণ মিলেছে রতুয়া গ্রামীণ হাসপাতালে (Ratua Rural Hospital)। অভিযোগ, হাসপাতালের তালিকাভুক্ত এক অ্যাম্বুল্যান্সের (Ambulance) চালক সময়মতো মালদা নিয়ে না আসায় প্রাণ হারাতে হয়েছে এক সদ্যোজাতকে (Newborn Death)। এনিয়ে এদিন উত্তপ্ত হয়ে ওঠে হাসপাতাল চত্বর। যদিও পুলিশের তৎপরতায় বড়সড়ো কোনও ঘটনা ঘটেনি। ওই অ্যাম্বুল্যান্সচালকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ খতিয়ে দেখে পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছেন রতুয়া-১ ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক।
রবিবার বিকেলে রতুয়া গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন স্থানীয় মহাদেবপুর গ্রামের ময়না শাহজাদি খাতুন। প্রসবযন্ত্রণা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। চিকিৎসকরা তাঁকে পরীক্ষা করে জানিয়ে দেন, রাতেই তাঁর প্রসবের সম্ভাবনা রয়েছে। শেষ পর্যন্ত সোমবার ভোর পাঁচটা নাগাদ সন্তান প্রসব করেন ময়না। প্রসবের পর তিনি সুস্থ থাকলেও সদ্যোজাতের শারীরিক পরিস্থিতি ভালো ছিল না। তাই মা ও সদ্যোজাতকে তখনই মালদা মেডিকেলে রেফার করে দেন চিকিৎসকরা। ময়নার পরিবারের সদস্যরা বাইরে থাকা অ্যাম্বুল্যান্স ইউনিয়ন অফিসে যোগাযোগ করেন। অভিযোগ, বিনা পয়সায় এই পরিষেবা পাওয়ার কথা থাকলেও তাঁদের কাছে ৮০০ টাকা দাবি করা হয়। সদ্যোজাতের কথা ভেবে পরিবারের তরফে সেই দাবি মেনে নেওয়া হয়। তাঁদের জানানো হয়, দু’মিনিটের মধ্যেই অ্যাম্বুল্যান্স চলে আসবে। কিন্তু তারপরেও মেলেনি অ্যাম্বুল্যান্স। এক ঘণ্টা পর যখন অ্যাম্বুল্যান্স আসে, ততক্ষণে মৃত্যু হয়েছে সদ্যোজাতের। ময়নার পরিবারের সদস্যরা তাকে ফের নিয়ে যান রতুয়া গ্রামীণ হাসপাতালেই। কিন্তু চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেন। এরপরেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে হাসপাতাল চত্বর। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে চলে আসে রতুয়া থানার পুলিশ। পুলিশের হস্তক্ষেপে বড়সড়ো কোনও ঝামেলা বাধেনি। ময়নার দাদা শেখ ছোটন বলেন, ‘গতকাল বোনকে ভর্তি করার পর আমরা কেউ বাড়ি যাইনি। আজ ভোরে বোন সন্তান প্রসব করে। কিন্তু বাচ্চা না কাঁদায় চিকিৎসকরা বোন আর ওর বাচ্চাকে মালদা মেডিকেলে রেফার করে দেন। আমি বাইরে বেরিয়ে অ্যাম্বুল্যান্সের খোঁজ করি। বলা হয়, দু’মিনিটের মধ্যে অ্যাম্বুল্যান্স চলে আসবে। কিন্তু চালক আসতে টালবাহানা শুরু করে। এক ঘণ্টারও বেশি সময় পর যখন সে গাড়ি নিয়ে আসে, ততক্ষণে সব শেষ। বাচ্চাকে ফের ওই হাসপাতালে নিয়ে যাই। কিন্তু তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। এখানে চিকিৎসকদের কোনও দোষ নেই। তাঁরা ভালোই কাজ করেছেন। সব দোষ অ্যাম্বুল্যান্স চালকের। তারা সরকারি হাসপাতালকে নিজেদের জমিদারি ভেবে ফেলেছে।’


এনিয়ে রতুয়া-১ ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক রাজেশ কুমার জানান, ‘দুঃখজনক ঘটনা। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। অ্যাম্বুল্যান্স চালকের দোষ প্রমাণিত হলে যথাযথ পদক্ষেপ করা হবে।’

