উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক : কৃষি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তি (India-US Trade Deal) নিয়ে রাহুল গান্ধির অভিযোগের জবাব দিতে এবার আর দলের শীর্ষ নেতৃত্ব নয়, বিজেপির যুব মোর্চার সভাপতিই যথেষ্ট— রবিবার গুজরাটের মাটি থেকে এভাবেই বিরোধী দলনেতাকে কটাক্ষ ও চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শা (Amit Shah vs Rahul Gandhi)। ইউরোপ এবং আমেরিকার সঙ্গে ভারতের সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তি (Trade Deals) নিয়ে রাহুলের অভিযোগকে ‘ডাহা মিথ্যে’ বলে উড়িয়ে দিয়ে শা এদিন কংগ্রেসের ঐতিহাসিক ভুলগুলোকেও সামনে নিয়ে আসেন।
‘মিথ্যে বলছেন রাহুল’
গুজরাটে দেশের প্রথম সেন্ট্রাল ব্যাংক ডিজিটাল কারেন্সি (CBDC) ভিত্তিক গণবন্টন বা রেশন ব্যবস্থার উদ্বোধন করতে এসে অমিত শা রাজনীতির সুর চড়ান। তিনি বলেন, “দুধের দেশে দাঁড়িয়ে রাহুল গান্ধি কৃষকদের বিভ্রান্ত করছেন। আমি আজ এই মঞ্চ থেকে দেশের কৃষকদের আশ্বস্ত করছি, মোদিজি ইউরোপ ও আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তিতে কৃষকদের স্বার্থকে বিন্দুমাত্র ক্ষুণ্ণ হতে দেননি। উল্টে তাঁদের সুরক্ষা কবচ দিয়েছেন।”
রাহুল গান্ধিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়ে শা বলেন, “রাহুল বাবা, আপনি জায়গা ঠিক করুন। আমাদের যুব মোর্চার সভাপতি গিয়েই আপনার সঙ্গে আলোচনা করে বুঝিয়ে দেবেন, কৃষকদের আসল ক্ষতি কারা করেছে।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাহুলকে বিতর্কের জন্য যুব মোর্চার সভাপতির মুখোমুখি করার কথা বলে শা আসলে বিরোধী দলনেতার রাজনৈতিক ওজন কমানোর কৌশল নিলেন।
ডাঙ্কেল ড্রাফ্ট বনাম মোদী জমানা
কংগ্রেস আমলের ‘ডাঙ্কেল প্রস্তাব’ (Dunkel Draft)-এর প্রসঙ্গ টেনে এদিন শাহ বলেন, “মনমোহন সিংয়ের সরকার ডাঙ্কেল প্রস্তাবে সই করে কৃষকদের সর্বনাশ করেছিল। ২০১৪ সালে মোদীজি ক্ষমতায় এসে সেই ভুল শুধরেছেন এবং কৃষি বাজারকে রক্ষা করেছেন।” শা পরিসংখ্যান দিয়ে দাবি করেন, ইউপিএ আমলে (UPA regime) কৃষি বাজেট ছিল মাত্র ২৬ হাজার কোটি টাকা, যা মোদী সরকার বাড়িয়ে ১ লক্ষ ২৯ হাজার কোটি টাকা করেছে। ঋণ মকুবের ‘গাজর’ না দেখিয়ে মোদী সরকার ‘পিএম কিষান’ সম্মান নিধির মাধ্যমে সরাসরি কৃষকদের অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছে দিচ্ছে।
ডিজিটাল ইন্ডিয়ার নতুন ধাপ
রাজনৈতিক আক্রমণের পাশাপাশি এদিন প্রশাসনিক সাফল্যের খতিয়ানও দেন শা। সিবিডিসি (CBDC) বা ডিজিটাল রুপির মাধ্যমে রেশন বন্টন ব্যবস্থাকে তিনি ‘লিক-প্রুফ’ বা ছিদ্রহীন বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, “১১ বছর আগে ডিজিটাল ইন্ডিয়া ছিল কল্পনার অতীত। আজ বিশ্বের প্রতি দ্বিতীয় ডিজিটাল লেনদেন ভারতেই হয়।” শায়ের মতে, প্রযুক্তি এবং মোদীর সংবেদনশীলতার এই মেলবন্ধন আগামী ৩-৪ বছরে গোটা দেশের রেশন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনবে।

