উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: গত ২৪ এপ্রিল রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের (WB Election Result 2026) প্রথম দফার ভোটের আগের দিন যখন আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শা (Amit Shah) দাবি করেছিলেন, “১৫২-র মধ্যে ১১০ পাবই”, তখন রাজনৈতিক মহলের অনেকেই একে নিছক ‘মনস্তাত্ত্বিক লড়াই’ বা রাজনৈতিক হুঙ্কার বলে মনে করেছিলেন। কিন্তু সোমবার ফলপ্রকাশের দিন দেখা গেল, খোদ শাহের সেই হিসাবকেও ছাপিয়ে গিয়েছে পদ্ম-শিবির।
গণনার প্রায় শেষ লগ্নে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রথম দফার সেই ১৫২টি আসনের মধ্যে বিজেপি আপাতত ১১৬টি আসনে এগিয়ে বা জয়ী হয়েছে। এটি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শায়ের দাবির চেয়েও ৬টি বেশি। অন্যদিকে, শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) এই পর্বে কার্যত ধরাশায়ী। যেখানে বিজেপি (BJP) শতরান পার করে ১১৬-তে পৌঁছেছে, সেখানে তৃণমূল আটকে গিয়েছে মাত্র ৩২টি আসনে। এ ছাড়া কংগ্রেস ১টি এবং এজেউপি (AJUP) সহ অন্যান্যরা ৩টি আসনে জয়ী হয়েছে।


নির্বাচনী প্রচার চলাকালীন অমিত শা দাবি করেছিলেন, এবার বাংলায় কোনো সাধারণ হাওয়া নয়, বরং তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভে ‘ভোটের সুনামি’ বইবে। তাঁর দাবি ছিল, নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর করা নজরদারির কারণে মানুষ এবার ভয়মুক্ত হয়ে ভোট দিতে পেরেছেন। সোমবার ইভিএম খোলার পর দেখা গেল, শাহের সেই ‘সুনামি’ তত্ত্বই বাস্তবে রূপ নিয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রথম দফার এই ফলাফলই বুঝিয়ে দিয়েছিল যে এবার পরিবর্তনের হাওয়া ছিল অত্যন্ত তীব্র। অতীতে যেসব এলাকায় ভোটারদের ভয় দেখিয়ে আটকে রাখার অভিযোগ উঠত, সেখানে নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা অবাধ নির্বাচনই বিজেপির পালে হাওয়া দিয়েছে। প্রথম দফার এই বিপুল লিডই বিজেপিকে সার্বিকভাবে ২০০-র কোটা পার করার লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছে দেওয়ার শক্ত ভিত তৈরি করে দিয়েছিল।
সামগ্রিকভাবে, অমিত শায়ের করা গাণিতিক ভবিষ্যদ্বাণী সঙ্গী করেই বাংলার মসনদ দখলের পথে কয়েক কদম এগিয়ে গেল গেরুয়া শিবির।

