আয়ুষ্মান চক্রবর্তী, আলিপুরদুয়ার: ছোটবেলা থেকেই নৃত্যে খুব আগ্রহ ছিল আলিপুরদুয়ার (Alipurduar) শহর লাগোয়া কালকূট বনবস্তির বাসিন্দা অপ্সরা এক্কার। শুরুটা হয়েছিল আদিবাসী ঘরানার নৃত্য দিয়ে। এরপর অপ্সরা কত্থক নৃত্য শেখে (Kathak Dance)। আর তাতে পারদর্শী হয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের স্কলারশিপ পেয়ে গেল সে। গত বছরের নভেম্বরে কলকাতায় এই স্কলারশিপের জন্য পরীক্ষা দিয়েছিল অপ্সরা। শুক্রবার কেন্দ্রীয় সরকারের সিটিএসএসএস জুনিয়ার ন্যাশনাল স্কলারশিপের ফলাফল বের হয়। তাতে অপ্সরার নাম থাকায় স্বাভাবিকভাবেই খুব খুশি তার অভিভাবক, নৃত্যগুরু, স্থানীয় নৃত্যশিল্পী সহ সকলে।
১৪ বছর বয়সি অপ্সরা নির্মলা গার্লস হাইস্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী। পড়াশোনার পাশাপাশি সে প্রায় পাঁচ বছর ধরে কত্থক শিখছে আলিপুরদুয়ারের রুদ্রাক্ষ পারফর্মিং আর্টস সেন্টারে। তবে কত্থক শেখার আগে অপ্সরা আদিবাসী নৃত্যের অনুষ্ঠান করত। অপ্সরার বাবা বুধুয়া এক্কা আদিবাসী সম্প্রদায়ের একটি নাচের দলের লিডার। একদিন ওই বনবস্তিতে কত্থক নৃত্যের অনুষ্ঠান দেখে অপ্সরার এতটাই ভালো লেগে যায় যে, তা রপ্ত করেই ছাড়ে। অপ্সরা জানাল, নাচের ক্লাস বাদে রোজ ১ ঘণ্টা নিজেই অনুশীলন করে থাকে। কত্থক নিয়ে ভবিষ্যতে এগোনোর ইচ্ছে রয়েছে। তার সংযোজন, ‘এরকম একটা সুযোগ পাব ভাবতে পারিনি। আরও ভালোভাবে নাচ শিখব ও পরিবেশন করব।’


অপ্সরার বাবা বলেন, ‘ওর সাফল্যে আমরা খুবই খুশি। কত্থক নৃত্য খুব ভালোভাবে শিখছে ও। এই স্কলারশিপ ওকে আরও এগিয়ে দেবে। আমাদের দলের অনুষ্ঠানেও মাঝেমধ্যে যোগ দেয়।’ নৃত্যগুরু দেবজয়া সরকারের মন্তব্য, ‘আমরা কালকূট বনবস্তিতে গ্রাম-শহরের মেলবন্ধন বলে একটা অনুষ্ঠান করতাম। সেখানে অপ্সরা নৃত্য পরিবেশন করত। এরপর কত্থক নৃত্য দেখে খুব ভালো লেগে যায় ওর এবং শেখার ইচ্ছে প্রকাশ করে। নাচের ক্ষেত্রে খুবই পরিশ্রমী ও মনোযোগী। আমরা খুবই খুশি। জীবনে আরও উন্নতি করুক।’

