উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: সুরের জাদুকরের কণ্ঠে কি এবার রাজনীতির রণহুঙ্কার শোনা যাবে? গত ২৭ জানুয়ারি অরিজিৎ সিংয়ের (Arijit Singh) সোশ্যাল মিডিয়া (Social Media) পোস্ট ঘিরে তোলপাড় শুরু হয়েছিল গোটা দেশে। নতুন বছরের শুরুতে অনুরাগী ও সংগীত মহলে কার্যত বাজ পড়ার মতো খবর ছিল তাঁর প্লেব্যাক গান ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা। কিন্তু অরিজিৎ এরপর কী করবেন? এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, জিয়াগঞ্জের ঘরের ছেলে অরিজিৎ সিং নাকি সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে আসার কথা গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছেন।
প্লেব্যাক গানকে বিদায়: একটি যুগের অবসান
অরিজিৎ সিং তাঁর পোস্টে লিখেছিলেন, “সবাইকে শুভ নববর্ষ। দীর্ঘ সময় ধরে আমাকে এত ভালোবাসা দেওয়ার জন্য শ্রোতাদের ধন্যবাদ। আমি জানাচ্ছি যে, এখন থেকে প্লেব্যাক শিল্পী হিসেবে আর কোনো নতুন কাজ আমি নিচ্ছি না। এই যাত্রাটি অসাধারণ ছিল।” এই পোস্টের পরেই শোকের ছায়া নেমে আসে সংগীত মহলে। শ্রেয়া ঘোষাল থেকে কুমার শানু— সকলেই অরিজিতের এই সিদ্ধান্তে যেমন মুষড়ে পড়েছেন, তেমনই শিল্পীর সাহসিকতাকে কুর্নিশ জানিয়েছেন। কুমার শানুর মতে, এত অল্প বয়সে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য অসীম সাহসের প্রয়োজন।
রাজনীতির মঞ্চে ‘জিয়াগঞ্জের ভূমিপুত্র’?
সর্বভারতীয় ওই সংবাদমাধ্যমের দাবি, অরিজিৎ সিং নাকি এবার রাজনীতির ময়দানে নামতে চলেছেন। তবে বিদ্যমান কোনও রাজনৈতিক দলে নাম লেখাচ্ছেন না গায়ক। বরং অরিজিৎ নাকি নিজস্ব রাজনৈতিক দল গঠনের প্রস্তুতি শুরু করেছেন। ওই প্রতিবেদনে স্পষ্ট করে এও বলা হয়েছে যে, রাজনৈতিক দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এখনই ফাঁস করতে চাইছেন না অরিজিৎ। গায়কের ঘনিষ্ঠমহল থেকেই নাকি এমন খবর ফাঁস করা হয়েছে সর্বভারতীয় ওই সংবাদমাধ্যমের কাছে। তাঁদের দাবি, প্লেব্যাক থেকে সরে এসে এবার নিজস্ব মিউজিক কম্পোজের পাশাপাশি রাজনীতির পথে পা বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছেন অরিজিৎ সিং। নিজের শহর মুর্শিদাবাদের (Murshidabad) জিয়াগঞ্জে (Jiaganj) অত্যন্ত সাধারণ জীবনযাপন করা অরিজিৎ বরাবরই সমাজসেবামূলক কাজে যুক্ত। সম্ভবত সেই জনসেবার ইচ্ছা থেকেই রাজনীতির ময়দানে পা রাখতে চাইছেন তিনি।
সংগীত জগতের প্রতিক্রিয়া
বাদশাহ থেকে আরমান মালিক— প্রত্যেকেই অরিজিতের এই ঘোষণায় হতবাক। অরিজিৎ যদিও জানিয়েছেন, প্লেব্যাক (Playback Singing Retirement) ছাড়লেও তিনি গান বানানো বন্ধ করবেন না। স্বাধীনভাবে মিউজিক ভিডিও বা অ্যালবামে তাঁর কাজ চালিয়ে যাবেন তিনি।

