উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: পাকিস্তানের যে কোনও প্ররোচনার যোগ্য জবাব দিতে ভারত শুধু আকাশপথে নয়, স্থলপথেও বড়সড়ো সামরিক অভিযানের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত ছিল। মঙ্গলবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছেন ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী। গত বছর মে মাসে চলা ‘অপারেশন সিঁদুর’ (Operation Sindoor)-এর কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, ভারতীয় সেনাবাহিনী এমনভাবে মোতায়েন করা হয়েছিল যে পাকিস্তান সামান্য ভুল করলেই শুরু হয়ে যেত পুরোদস্তুর স্থলযুদ্ধ।
এদিন সেনাপ্রধান জানান, পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার জবাবে শুরু হওয়া এই অপারেশনের ৮৮ ঘণ্টা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আগে ধারণা করা হত যে পারমাণবিক যুদ্ধের আশঙ্কায় প্রচলিত যুদ্ধের সুযোগ কমে আসছে। কিন্তু অপারেশন সিঁদুর প্রমাণ করে দিয়েছে যে ভারত তার সামরিক সক্ষমতা এবং যুদ্ধের পরিধি অনেকটাই বাড়িয়ে নিয়েছে। জেনারেল দ্বিবেদী বলেন, ‘এবার আমরা যে পদক্ষেপ নিয়েছি, বিশেষ করে জম্মু ও কাশ্মীরে যে ধরনের গুলি বিনিময় হয়েছে এবং আমরা যেভাবে তার মোকাবিলা করেছি, তা দেখিয়েছে যে আমরা প্রচলিত সামরিক অভিযানের ক্ষেত্রকে প্রসারিত করেছি।’ তিনি আরও বলেন যে, ‘আমরা পাকিস্তানের ১০০ জন সেনাকর্মীকে খতম করেছিলাম এবং স্পষ্ট করে দিয়েছিলাম যে ভারতের ধৈর্যের সীমা পেরিয়ে গেলে ফলাফল হবে মারাত্মক।’
উল্লেখ্য, গত বছরের ৭ মে শুরু হওয়া এই অভিযানে পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরে(PoK) থাকা একাধিক জঙ্গি শিবির গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। সেনাপ্রধানের মতে, এটি ছিল স্থল, জল ও আকাশপথের এক অনন্য সমন্বয়। ভারতের এই বিধ্বংসী মেজাজ দেখে শেষ পর্যন্ত ১০ মে পাকিস্তান যুদ্ধবিরতির সমঝোতার জন্য নয়াদিল্লির সঙ্গে যোগাযোগ করতে বাধ্য হয়।
সেনাপ্রধান জানান, ২০২৫ সালে মোট ৩১ জন জঙ্গিকে খতম করা হয়েছে, যার সিংহভাগই পাকিস্তানি। বর্তমানে উপত্যকায় স্থানীয় জঙ্গির সংখ্যা এক অঙ্কের ঘরে নেমে এসেছে। তবে সীমান্তে এখনও ৮টি জঙ্গি শিবির সক্রিয় রয়েছে বলে গোয়েন্দা সূত্রে খবর। সেদিকে কড়া নজর রাখছে সেনাবাহিনী। জেনারেল দ্বিবেদী স্পষ্ট ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, সীমান্তের ওপার থেকে কোনও রকম ধৃষ্টতা দেখালে ভারত পুনরায় কঠোর পদক্ষেপ নিতে দ্বিধাবোধ করবে না।

