উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্কঃ সল্টলেকের দত্তাবাদের স্বর্ণব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যা খুনের ঘটনায় রাজগঞ্জের বিডিও প্রশান্ত বর্মনের চারদিকে আইনি ফাঁস ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। কলকাতা হাই কোর্টের বেঁধে দেওয়া ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও আত্মসমর্পণ না করায়, এবার তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা (Warrant) জারি করল বিধাননগর আদালত।
৭২ ঘণ্টার ডেডলাইন মিস: গত সোমবার হাই কোর্টের বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, প্রশান্ত বর্মনকে তিন দিনের মধ্যে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে। কিন্তু সেই সময়সীমা পার হয়ে গেলেও তিনি আত্মসমর্পণ করেননি। এরপরই বিধাননগর কমিশনারেটের পুলিশ আদালতের দ্বারস্থ হয়। পুলিশের দাবি, এই খুনের ঘটনার ‘কিংপিন’ হলেন খোদ বিডিও। তাঁকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা তদন্তের স্বার্থে অত্যন্ত জরুরি।


বারাসত আদালতের জামিন ও হাই কোর্টের ধাক্কা: এর আগে বারাসত আদালত বিডিও-কে আগাম জামিন দিলেও হাই কোর্ট তা খারিজ করে দেয়। বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, কেস ডায়েরি ঠিকমতো না দেখেই কেন তাঁকে জামিন দেওয়া হল? উল্লেখ্য, গত ২৯ অক্টোবর নিউ টাউনের যাত্রাগাছি থেকে স্বপন কামিল্যার দেহ উদ্ধার হয়। অভিযোগ, নীলবাতি লাগানো গাড়ি নিয়ে গিয়ে তাঁকে অপহরণ করে পরে খুন করা হয়েছে। এই মামলায় ইতিমধ্যেই পাঁচজন গ্রেপ্তার হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টে আবেদন, কিন্তু নেই রক্ষাকবচ: গ্রেপ্তারি এড়াতে প্রশান্ত বর্মন ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছেন। তবে বর্তমানে শীর্ষ আদালতে বড়দিনের ছুটি চলায় আগামী ৫ জানুয়ারির আগে নিয়মিত বেঞ্চ বসার সম্ভাবনা কম। অবকাশকালীন বেঞ্চে তাঁর শুনানি হবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। অন্যদিকে, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়ায় যে কোনও মুহূর্তে তাঁকে গ্রেপ্তার করতে পারে পুলিশ। অফিসের কাজ ছেড়ে বিডিও আপাতত ‘আত্মগোপন’ করে আছেন বলেই খবর।

