বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০২৫

হড়পা

শেষ আপডেট:

  • সম্পা পাল

প্রথম দৃশ্য

একদিকে ভারী কালো রাত, অন্যদিকে ঘন অন্ধকার ভেদ করে মানুষের হাহাকার। উপরে গল্পকার। মানুষের শহরে যিনি সব গল্পের শুভ সমাপ্তি লিখতে পারেননি। এসব ভূমিকা, উপসংহার ছাড়িয়ে দুটো ঘোলাটে চোখ স্কুল বারান্দা থেকে তাকিয়ে আছে ধু-ধু অন্ধকারের দিকে, দু’দিন আগেও যেখানে আলো ছিল, জীবনের খোঁজ ছিল। কিন্তু আজ সেখানে কুটিল অমানিশার জয়। বয়স্ক শৈলজার চোখে আর জল আসে না; ও জানে স্রোতে ফেরা এ জীবনে আর সম্ভব নয়।

দ্বিতীয় দৃশ্য

হসপিটালের বেডে তিন বছরের মেয়েটাকে শেষ সম্বল হিসেবে বুকের মধ্যে জড়িয়ে আছে সঞ্চারী। মেয়েটা মাঝে মাঝে নড়েচড়ে উঠছে। মেয়ের কপালে আলতো করে ঠোঁট ছুঁয়ে দিয়ে ও গায়ের চাদরটা আরও ভালো করে জড়িয়ে নেয়। বিভীষিকার মতো রাতটা এখনও চোখের সামনে। সমস্ত সঞ্চয় ছেড়ে এক লহমায় ঘরছাড়া জীবন; সবটা হারিয়ে গেল, ফুরিয়ে গেল, শেষ হয়ে গেল কাদা জলে। কিচ্ছু রক্ষা করতে পারেনি। না বলা সে হাহাকার হসপিটালের বেড জুড়ে। এ হাহাকার আকারহীন, অবয়বহীন। এ হাহাকারের কোনও নবজন্ম নেই।

তৃতীয় দৃশ্য

হসপিটাল থেকে সামান্য দূরে পাহাড়ের কোলেই কোয়ার্টার। পাহাড়ি ঘ্রাণ, ঝিঁঝিপোকার আওয়াজ আর চারদিকের মায়াবী আলো- চিত্রশিল্পী এখানে অন্য অন্ধকার আঁকতে ব্যস্ত, যার নখের আঁচড়ে স্বপ্ন দেখা, হারিয়েও যাওয়া- দুটোই পরাবাস্তব। কিন্তু এখানকার একটা ঘর বড্ড অন্ধকার। এই অন্ধকারকে ফালাফালা করে বেরিয়ে যাচ্ছে মিউজিক প্লেয়ারের ‘জিন্দেগি দো পল কি’। চোখ দুটো বন্ধ করে গানের লিরিক্সটা নতুন করে বোঝার চেষ্টা করে স্বপ্নদ্বীপ। কে কে’র গান শুনেই ওর কলেজবেলা কেটেছিল। সেদিন জানত না, জীবনে মুহূর্তের  সংখ্যা ঠিক কত। কিন্তু আজ জানে। জীবন দুটো মুহূর্তেরই। অদ্ভুত এই সমাপতন!

****

এই দিন সাতেকের জ্বরে আক্রান্ত হয়ে বহু শিশু হসপিটালে ভর্তি হয়েছে। এরা প্রত্যেকেই হড়পায় ভেসে যাওয়া কোনও না কোনও গ্রামের বাসিন্দা। এদের মধ্যে ২১ নম্বর বেডের তিন বছরের গিনির জ্বর কমার লক্ষণ নেই। ওর মধ্যে হয়তো সেদিন রাতের ভয়টাই চেপে বসে আছে বিভীষিকার মতো। স্বপ্নদ্বীপ কাছে এসে ডাক দিতেই গিনি চোখ খোলে। চোখ দুটো অদ্ভুত মায়াবী, প্রথম দিন থেকেই চোখ দুটোকে সমস্ত যন্ত্রণার নিরাময় বলে মনে হয় ওর। ওকে স্পর্শ করলে কোথাও যেন আত্মার সঙ্গে আত্মার যোগাযোগ ঘনিষ্ঠ হয়, ওর বুকে স্টেথোস্কোপ ছোঁয়ালে মহাসাগর পেরোনো অজানা সব ঢেউয়ের শব্দ কানে এসে পৌঁছায়। কিন্তু অচেনা অজানা জায়গায় জুড়ে যাওয়া এ সম্পর্কের নাম স্বপ্নদ্বীপ জানে না।

সকাল হতেই শৈলজা হসপিটালে আসে। সঞ্চারীর চোখের নীচে কালো দাগটা এখন বেশ ঘন। শৈলজা বুঝতে পারে ও আজও ঘুমোয়নি। দুজনেই দুজনের দিকে তাকায়, খোলা আকাশ আর হতাশা ছাড়া ওদের আর কোনও ছাদ নেই। দুজনের চোখে না বলা কত কথার ভিড়। একসময় সঞ্চারী বলে ওঠে, ‘সরকার কি পুনর্বাসন দেবে?’ শৈলজা শুকনো গলায় বলে, ‘চিন্তা কোরো না মা, একটা ব্যবস্থা হবেই।’ শেষ কথাটায় একটা আশার আলো স্পর্শ করে সঞ্চারীকে। এই মানুষটা ছিল তাই সঞ্চারীর বেঁচে ওঠা। যার মুখে এক টুকরো হাসি দেখলে ও চলার রাস্তা খুঁজে পায়। মেয়েটাকে শৈলজার কোলে দিয়ে দু’চোখ ভরে দেখে নেয়, তারপর সঞ্চারী নার্সারির উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। ওদের এই নার্সারিতে অর্কিড থেকে শুরু করে কয়েকশো পাহাড়ি গাছ বিক্রি হয়। এটা ওদের এই তিনটে জীবনের একমাত্র ভরসা। দেশ-বিদেশ থেকে বহু পর্যটক আসে নার্সারিতে। সঞ্চারী জানে, কিছু গাছ একদিন মহীরুহ হবে– পৃথিবীকে ছায়া দেবে, বৃষ্টি দেবে। দহন দিনের শেষে মানুষ সেখানে দাঁড়াবে।

****

আজকাল খুব অল্পেতেই স্বপ্নদ্বীপ হাঁফিয়ে ওঠে। তিন বছর ধরে ক্যানসারের সঙ্গে ওর লড়াই। ভাবতে পারেনি ‘জিন্দেগি দো পল কি’। আজকাল চোখ বন্ধ করলে কিছু রং দেখতে পায়, যেগুলোর সঙ্গে বাস্তবের কোনও রং মেলে না। তখন নিজেই নিজেকে প্রশ্ন করে– মৃত্যুর রং কি এমনই? চোখ বেয়ে নেমে আসে যন্ত্রণার সংলাপ। হায় রে, চলে যাওয়া মানুষটিকে যদি কোনও সন্ধ্যায় খুঁজে পাওয়া যেত! তবে এতকিছুর পরেও কাজ থেকে বিরতি নেয়নি স্বপ্নদ্বীপ, বরং বদলির নির্দেশ পাওয়া মাত্র নিঃশব্দে শহর ছেড়ে চলে এসেছে এই পাহাড়ে। ও জানে ভয়ংকর রাতের সমাপ্তি হবে এই পাহাড়েই।

বাইরে তখন পড়ন্ত দুপুর। সব বাচ্চারাই প্রায় ঘুমিয়ে। গিনির তখন আবদার- মা কখন আসবে? শৈলজা একইভাবে বুঝিয়ে যাচ্ছে ‘মা আসবে একটু পরেই।’ স্বপ্নদ্বীপ কাছে আসতেই গিনি ওর হাতের আঙুলটা ধরে ফেলে। শান্ত দুপুরে একটা মিলমিলে অনুভূতি ওর ‘ভেতরঘরে’ পৌঁছে যায়। না চাইতেও ও গিনিকে কোলে তুলে নেয়, কোথায় যেন জীবন-জীবন গন্ধ। নিজের স্টেথোস্কোপ গিনির গলায় দিয়ে ওকে নিয়ে নিজের চেম্বারে চলে আসে।

পরবর্তী এক ঘণ্টা কীভাবে কেটে গেল স্বপ্নদ্বীপ বুঝতেই পারল না। ওকে যখন দিয়ে এল, মনে হল কী যেন বুক থেকে আলগা হয়ে গেল। অথচ হাজার হাজার শিশু নিয়ে ওর চলা; কখনও এমনটা হয়নি। রাতে কোয়ার্টারে ফিরেও একই অনুভূতি। অনেকদিন বাদে মিউজিক প্লেয়ারে রবীন্দ্রসংগীত বাজছে- ‘তুমি রবে নীরবে’। কিন্তু যে মানুষটা নীরবে ছিল, সে আজ নিখোঁজের তালিকায়। থানায় ডায়েরি, খবরের কাগজে বিজ্ঞাপন থেকে শুরু করে সবটাই করেছিল কিন্তু কিছুতেই কিছু হয়নি। বছর তিনেক আগেও এই হাতে শোভা পেত স্কচ, আইস কিউব, নারী! সেই হাতে আজ হেলথ ড্রিংকস আর একাকিত্ব। আজ নেই তো নেই, কেউ নেই– কিচ্ছু নেই। অসুখটা ধরা পড়ার পর থেকে পৃথিবীটাই যেন বদলে গেল। মেলে ধরা জীবন থেকে স্বপ্নদ্বীপ ধীরে ধীরে নিজেকে গুটিয়ে নিল খোলসের মধ্যে। জ্যাকেটের চেন গলা পর্যন্ত টেনে নিয়ে ও ব্যালকনিতে এসে দাঁড়ায়, ব্যালকনিজুড়ে রকমারি অর্কিড। দু’দিন আগেই কেয়ারটেকারের ছেলেটি নিয়ে এসেছে। প্রত্যেকটা গাছের মাথায় ও হাত রাখে, স্পর্শটা অপূর্ব।

গিনিকে কোলে নিতেই একটা মাতাল করা বডি স্প্রে-র গন্ধ সঞ্চারীর বুকের ভেতরে ধাক্কা দেয়। ওর গলাটা শুকিয়ে আসে। মেয়েটাকে শক্ত করে বুকের মধ্যে জড়িয়ে ধরে। হৃৎকম্পনটা মুহূর্তেই বেড়ে গেল। ও তড়িঘড়ি শৈলজাকে ফোন করে জানতে চায়। ওপার থেকে তৃপ্তির উত্তর আসে, ‘ডাক্তারবাবু চেম্বারে নিয়ে গিয়েছিলেন।’ সঞ্চারী স্বস্তির নিঃশ্বাস নেয়। মুহূর্তেই কেমন যেন সবটা এলোমেলো হয়ে উঠেছিল। মেয়ের মাথায় হাত বুলোতে বুলোতে ও অতীতের পাতা খোলে। শুরুটা ছিল স্বপ্নের মতো, কিন্তু শেষটা তিক্ত, বিষাক্ত।

****

গিনির প্রেসক্রিপশনে রিলিজ শব্দটা লিখতে গিয়ে কোথাও যেন ধাক্কা খেল স্বপ্নদ্বীপ। অথচ ছুটি দেবার জন্যই তো এত চেষ্টা! হসপিটাল থেকে ফেরার পর মন ও শরীর কোনওটাই ভালো নেই। কেমন যেন পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। গিনির স্পর্শটা জীবনের সেরা অনুভূতি। এই দশদিনে ও যা পেয়েছে, শরীরও বেশ ভালো হয়ে গিয়েছিল। দিনকয়েক রাতে ঘুমের মাঝেও গিনির নরম আঙুলের স্পর্শ পেয়েছে। অবশেষে সকাল হতেই ২১ নম্বর বেডে ঠিকানার খোঁজ শুরু হয়। প্রত্যেকের মুখে একটাই জবাব- ওরা হড়পায় ভেসে যাওয়া গ্রামের বাসিন্দা, ওদের কোনও ঠিকানা নেই। সারাদিনের অপেক্ষা শেষে খোঁজ মেলে ওরা কোনও স্কুলে আছে। গিনির জন্য পোশাক, বেবি ফুড, চকোলেট নিয়ে স্বপ্নদ্বীপ গাড়ি ঘুরিয়ে নেয় উলটো দিকের পাহাড়ি পথে।

সন্ধ্যা হলে পাহাড়ে মায়া নামে। মায়াবী পাহাড় আর প্রত্যাশা নিয়ে স্বপ্নদ্বীপের গাড়ি এসে থামে স্কুলের সামনে। ঘরহারা মানুষের ভিড় ঠেলে শুরু হয় একটার পর একটা দরজায় খোঁজ। অবশেষে এক দরজায় শৈলজাকে দেখতে পায়। গিনির কথা বলতেই শৈলজা দেখিয়ে দেয় খাবারের লাইন। ও খাবারের লাইনে তাকায়, ভীষণ চেনা এক নারীর দিকে ওর চোখ আটকে যায় এত অসহায়ভাবে বেঁচে আছে সঞ্চারী ওর কোলেই সেই গিনি! শরীরের সমস্ত শিরা-উপশিরা শীতল হতে শুরু করে, যা দেখছে তা বিশ্বাসের বাইরে। পাগলের মতো এগিয়ে যায় সঞ্চারীর দিকে। কিছু মুহূর্ত পার হলে অস্থিরভাবে বলে, ‘এতদিন কোথায় ছিলে, অনেক খোঁজ করেছি! গিনি কে? তোমার? মানে আমাদের!’ স্বপ্নদ্বীপকে সামনে দেখে সঞ্চারীর পা কেঁপে ওঠে, ওর কাঁপা স্বরে একটাই উচ্চারণ- হ্যাঁ। কিন্তু গণ্ডগোল বেধে গেল, যখন সঞ্চারী পরিষ্কার জানিয়ে দিল গিনি তার বাবার ব্যাভিচার দেখে বড় হবে না, অভাব-অনটন যাই হোক, ওকে একাই মানুষ করবে। অনেক অনুনয় বিনয় করেও যখন কাজ হল না, তখন স্বপ্নদ্বীপের মুখ থেকে বেরিয়েই এল সেই নির্মম সত্যি– মেয়েটাকে কাছে পেলে ক্যানসারের সঙ্গে লড়াইটা হয়তো সহজ হত।

****

স্বপ্নদ্বীপের ঝুঁকে পড়া ছায়াটা পাহাড়ের গায়ে ক্রমশ স্পষ্ট হতে থাকে। ফেরার পথে চোখটা বারবার ঝাপসা হয়ে আসে, মুহূর্তেই স্বপ্নটা মিলিয়ে গেল পাথরের পৃথিবীতে। পাহাড়ের ধাপ বেয়ে নীচে নামতেই ওর কানে এল মহাসাগর পেরোনো ডাক- বাবা! ও পেছন ফিরে তাকায়– ঢেউয়ের মতো গিনি ছুটে আসছে ওর দিকে, আর সঞ্চারী অসহায়ভাবে খোলা আকাশের নীচে দাঁড়িয়ে। স্বপ্নদ্বীপ এক ঝটকায় গিনিকে কোলে তুলে নেয় পৃথিবী ফিরে পাবার আনন্দে, কিন্তু সঞ্চারীর দিকে তাকিয়ে ওর বুক কেঁপে ওঠে- যে শিশু ওর বুকের সঙ্গে লেগে আছে, তার মা হেঁটে যাচ্ছে খাবারের লাইনের দিকে। স্বপ্নদ্বীপ দ্রুত হেঁটে গিয়ে সঞ্চারীর হাত ধরে। বলে, ‘আমার সন্তান তোমাকে ছাড়া বড় হবে কী করে? অপরাধী আমি, আমার শাস্তি ওকে দিয়ো না। মেয়েটার সঙ্গে অনেক বড় অবিচার হবে। যার আশ্রয়ে তুমি ছিলে তাকেও আমার মেয়ের দরকার।’ সঞ্চারী ঘুরে তাকায়, এই স্বপ্নদ্বীপকেই তো ভালোবেসেছিল, রাত দুটো-তিনটে পর্যন্ত জেগে থেকে পাগলের মতো ওর বাড়ি ফেরার অপেক্ষাই করেছিল। কিন্তু ওর ধাবমান উন্নতি ওকে ঠেলে দিয়েছিল ব্যভিচারের দিকে। সুতরাং জীবনের হড়পায় ভেঙে গেছে ওদের দাম্পত্য। এক সন্ধ্যায় সঞ্চারী এমন কিছুর সাক্ষী হয়েছিল যে তারপর ওর পক্ষে আর থাকা সম্ভব হয়নি, সুতরাং বেরিয়ে পড়েছিল মুক্তির উদ্দেশ্য। গিনির অস্তিত্ব যেদিন ও প্রথম পেয়েছিল, সেদিনই ভেবে রেখেছিল গিনি বড় হলে একদিন সবকিছুর হিসেব চাইতে আসবে, তার আগে নয়। কিন্তু কার কাছে কীসের হিসেব চাইবে! খোলা আকাশের দিকে তাকিয়ে নীরবে প্রশ্ন রাখে– এ কেমন বিচার! ওই চোখে তো মৃত্যুর নোটিশ ঝুলছে, সুতরাং মন থেকে কিছু আগেই মুছে গেছে অভিমানের গাঢ় রং। শুধু মেয়েটার দিকে তাকিয়ে থাকে, হাত যতটা শক্ত করলে কাউকে পৃথিবীতে আটকে রাখা যায়, ঠিক ততটাই শক্ত করে গিনি জড়িয়ে আছে ওর জন্মদাতার সঙ্গে।

Uttarbanga Sambad
Uttarbanga Sambadhttps://uttarbangasambad.com/
Uttarbanga Sambad was started on 19 May 1980 in a small letterpress in Siliguri. Due to its huge popularity, in 1981 web offset press was installed. Computerized typesetting was introduced in the year 1985.

Share post:

Popular

More like this
Related

পরাশরবাবু হইতে সাবধান

শুভ্রদীপ চৌধুরী পরাশরবাবুর সঙ্গে দেখা হওয়া মানেই বিপদে পড়া।...

কবিতা

মাটির মহাকাব্য মৌ চট্টোপাধ্যায়   একটা আস্ত কোপাই বুকের মধ্যে হারিয়ে যাচ্ছে প্রতিদিন, এই...

বারো টাকা বাঁচাতে গিয়ে শেষমেশ ক্ষতি ৩৯০ টাকা

মানিক সাহা মিতব্যয়ী মানুষ পৃথিবীতে খুব বেশি নেই- এ কথা...

পায়ে হেঁটে বিশ্ব : অ্যানালগ যাত্রা, ডিজিটাল গন্তব্য

কুশল হেমব্রম সালটা ১৯৯৮। পৃথিবীতে তখনও স্মার্টফোনের রাজত্ব শুরু হয়নি।...