নয়াদিল্লি: কেরল দখল করে কংগ্রেস মুখরক্ষা করল বটে। কিন্তু পাঁচ বিধানসভার ভোটে (Assembly Election Results 2026) তিন রাজ্য দখল করে বিজেপি বুঝিয়ে দিয়েছে, ‘জো জিতা উওহি সিকন্দর।’ অন্যদিকে কেরল থেকে সিপিএম, পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল ও তামিলনাডুতে ডিএমকে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ায় জাতীয় স্তরে ফের প্রশ্নের মুখে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের ভবিষ্যৎ।
সারা দেশের নজর পশ্চিমবঙ্গের দিকে থাকলেও বিশেষ করে তামিলনাডুর ছবি বিস্মিত করেছে। সুপারস্টার অভিনেতা থালাপতি বিজয়ের (Thalapathy Vijay) হাত ধরে তামিলনাডুতে ধরাশায়ী ডিএমকে-কংগ্রেস জোট। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, দক্ষিণের এই রাজ্যের ২৩৪টি আসনের মধ্যে থালাপতি বিজয়ের টিভিকে ১০০-র ওপর আসন পেলেও একক গরিষ্ঠতা থেকে দূরে রয়েছে। তবু আচমকা দল তৈরি করে এই সাফল্য নজর কাড়ছে বৈকি।


এর আগে কমল হাসান দল তৈরি করে ব্যর্থ হয়েছিলেন। শাসক ডিএমকে-র রথ এবার থমকে গিয়েছে ৫৯টি আসনে। ডিএমকে-র শরিক হিসাবে কংগ্রেসের ঝুলিতে গিয়েছে ৫টি। খুব দূরে নয় এআইএডিএমকে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতার দলটি ৪৭টি আসন অন্তত পেতে পারে। বিজেপি জিতেছে মাত্র ১টি আসন। এই পরিস্থিতিতে জোট করার জন্য কংগ্রেসকে প্রস্তাব দিয়েছে টিভিকে। কংগ্রেস প্রস্তাব গ্রহণ করবে কি না, করলে ডিএমকে-র হাত ছেড়ে দেবে কি না, তা অবশ্য স্পষ্ট নয়।
তবে বিপুল জয়ের জন্য বিজয়কে শুভেচ্ছাবার্তা পাঠিয়েছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধি। শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও। কেরলে সিপিএমের নেতৃত্বাধীন এলডিএফকে সরিয়ে কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইউডিএফের ক্ষমতা দখল কিংবা অসমে হিমন্ত বিশ্বশর্মার (Himanta Biswa Sarma) নেতৃত্বে বিজেপির ক্ষমতায় ফেরার হ্যাটট্রিক অথবা পুদুচেরিতে এনডিএ-র প্রত্যাবর্তনের ব্যাপারে একপ্রকার নিশ্চিত ছিল রাজনৈতিক মহল। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির নেতৃত্বে পরিবর্তনের পরিবর্তনেও আশা সফল হয়েছে।
কোলাথুরে টিভিকে-র প্রার্থীর কাছে পরাজিত হয়েছেন তামিলনাডুর খোদ মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্ট্যালিন। ত্রিশঙ্কু তামিলনাডুতে শেষপর্যন্ত টিভিকে-র ‘হুইসল’-এ ফুঁ দিতে কে এগিয়ে আসে, সেটাই এখন দেখার। একমাত্র অ্যাক্সিস মাই ইন্ডিয়া ছাড়া আর কোনও বুথফেরত সমীক্ষক সংস্থা টিভিকে-র জয়ের পূ্র্বাভাস দিতে পারেনি। তবে ওই সংস্থাটির পাশাপাশি প্রায় সমস্ত বুথফেরত সমীক্ষা জানিয়েছিল, কেরলে বামেদের হটিয়ে ইউডিএফ ক্ষমতায় আসতে চলেছে। সেটাই ঘটল।
কেরলের ১৪০টির মধ্যে ইউডিএফ জিতেছে ৯৯টি আসনে। কংগ্রেস একাই পেয়েছে ৬৩টি। এলডিএফ জিতেছে মাত্র ৩৫টি আসন। তার মধ্যে সিপিএমের সাফল্য ২৬টিতে। বিজেপির জয় ৩টি আসনে। মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন ধর্মাদম আসনে জয়ী হয়েছেন। কংগ্রেস ও ইউডিএফের জয়ের পর কেরলের বাসিন্দাদের অভিনন্দন জানিয়েছেন রাহুল গান্ধি এবং প্রিয়াংকা গান্ধি ভদরা। পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরা থেকে বামেরা আগেই ক্ষমতাচ্যুত হয়েছিল। এবার কেরলে পরাজিত হওয়ার পর দেশের রাজনীতিতে আরও অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়ল সিপিএম।
৩০ আসনের পুদুচেরিতেও সরকার গড়তে চলেছে এনডিএ। অসমে যে বিজেপি হ্যাটট্রিক করবে, তার পূর্বাভাস ছিলই। হিমন্ত বিশ্বশর্মার নেতৃত্বে বিজেপি ৮২টি আসন জিতে নিরঙ্কুশ ক্ষমতা নিয়ে ফের সরকার গড়তে চলেছে অসমে। কংগ্রেস মাত্র ১৯টি আসন পেয়েছে উত্তর-পূর্বের এই রাজ্যটিতে।

