অরুণ ঝা, ইসলামপুর : ইসলামপুরের সুরের পালকে জুড়ে গেল আরও একটি নাম। বছর উনিশের আয়ুষ গুপ্ত গানের জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘সারেগামাপা’-এর মূল পর্বে গান গাওয়ার সুযোগ পেলেন। বাবার কাছেই গানে হাতেখড়ি। মাধ্যমিক পাশ করার আগে পর্যন্ত কারও কাছে প্রথাগত শিক্ষা নেননি। তাঁর বন্ধুদের কথায়, আয়ুষের জীবনজুড়ে শুধু গান আর গান! এত বড় মঞ্চে সুযোগ পেয়ে কেমন লাগছে? আয়ুষের কথায়, ‘পরিবার বরাবর আমাকে সমর্থন করেছে। তাঁদের উৎসাহ না থাকলে আমার পক্ষে গান নিয়ে এগোনো সম্ভব ছিল না।’
শনিবার ছিল প্রতীক্ষার সেই রাত। টিভির পর্দার সামনে বসেছিল গোটা গুপ্ত পরিবার। আয়ুষের বাবা ও মা যদিও মঞ্চে হাজির ছিলেন। সঞ্চালকের মুখে ‘এবারে মঞ্চে আসছে উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুর থেকে আয়ুষ গুপ্ত’ শুনতেই মা রেখা গুপ্ত চোখ বন্ধ করে প্রার্থনা শুরু করে দেন। বলিউডের একটি সুপারহিট গান গেয়ে অবশ্য কয়েক মিনিটেই বিচারকদের মন জয় করে নেন আয়ুষ।
রেখার কথায়, ‘আমার কাছে অনুভূতি প্রকাশের ভাষা নেই। ইসলামপুরের মতো ছোট শহরে থেকেও জেদে অনড় থাকলে যে স্বপ্ন সত্যি হয়, আয়ুষ তা করে দেখিয়েছে। এখনও অনেকটা পথ চলা বাকি। ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবছি না। এই মুহূর্তটা উপভোগ করতে চাই।’
আয়ুষের বাড়ি ইসলামপুর বাজার সংলগ্ন এলাকায়। মাধ্যমিক পাশ করার পর তিনি চলে গিয়েছিলেন দাদুর বাড়ি শিলিগুড়ির মাল্লাগুড়িতে। নাতির সাফল্যে খুশি দাদু নবলকিশোর শা। শিলিগুড়িতে আসার পর আয়ুষ কিছুদিন গানের প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন বলে জানালেন তাঁর বাবা মনোজ গুপ্ত। তিনি বললেন, ‘আয়ুষের যখন ছয় বছর বয়স, তখন বুঝতে পারি ওর গানের প্রতি ঝোঁক রয়েছে। সবসময় ও গানের সাধনায় মগ্ন থাকত।’
আয়ুষ উচ্চমাধ্যমিক পাশ করলেও এখনও কলেজে ভর্তি হননি। স্কুলের ক্লাসরুম হোক বা টিউশন সেন্টার, এমনকি মাঠের আড্ডাতেও গুনগুন করে গান গাওয়া আয়ুষের স্বভাব বলেই বন্ধুদের বক্তব্য। এখন তাঁদের একটাই চাওয়া, আয়ুষ বিজয়ী হয়ে ঘরে ফিরুক। আয়ুষের ঠাকুরদা ধূলিচাঁদ গুপ্ত তাঁকে সবসময় সাহস জুগিয়ে গিয়েছেন বলে জানালেন মনোজ। ধূলিচাঁদ বলেন, ‘আয়ুষ গান নিয়ে জীবনে অনেক বড় হবে, এটা আমার দৃঢ় বিশ্বাস। ওর সাফল্য বৃদ্ধ বয়সে আমার জীবনীশক্তি বাড়িয়ে দিয়েছে।’

