হরষিত সিংহ, মালদা: হঠাৎ প্ল্যাটফর্ম বদলে গেল লেবার রুমে। রবিবার রাতে মালদা টাউন স্টেশনে (Baby Born at Malda Station) চিকিৎসক ও নার্সদের ব্যস্ততা দেখে হতবাক অনেকেই। কাপড় ও কম্বল দিয়ে ঘিরে অস্থায়ী লেবার রুম বানিয়ে ফেললেন রেলের চিকিৎসাকর্মী ও আরপিএফ। আর সেই ব্যবস্থাপনার মধ্যেই জন্ম নিল পুত্রসন্তান। রেলের এই তৎপরতাকে কুর্নিশ জানাচ্ছেন সকলেই। আর কৃতজ্ঞতায় ভাষা ভুলে গিয়েছেন রাহাত মণ্ডল।
মালদার ডিআরএম মণীশকুমার গুপ্তা বলেন, ‘এটা আরপিএফের (RPF) মাতৃশক্তি প্রকল্পের সাফল্য। ভালো কাজ হয়েছে। যাত্রীদের সমস্ত রকম সহযোগিতা করতে আমরা তৎপর।’
রবিবার মধ্যরাতে আপ উত্তরবঙ্গ এক্সপ্রেস স্টেশনের ৭ নম্বর প্ল্যাটফর্মে পৌঁছাতেই নামানো হয় অন্তঃসত্ত্বাকে। তারপর সেখানেই সন্তানের জন্ম দেন তিনি। প্রসবের পর প্রসূতি ও সদ্যোজাত সন্তানকে চিকিৎসার জন্য মালদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে প্রসূতি ও সেই নবজাতক চিকিৎসাধীন। মা ও ছেলে দুইজনেই সুস্থ রয়েছে বলে জানান প্রসূতির স্বামী রাহাত। রেলের এমন সহযোগিতা পেয়ে তিনি আপ্লুত। রাহাত বলেন, ‘খুব ভালো লাগছে। রেল পুলিশ ও রেলের কর্মীরা যেভাবে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন, তা ভোলার নয়। ট্রেনের হেল্পলাইন নম্বরে ফোন করে আমি এই সুবিধা পেলাম।’
উত্তর ২৪ পরগনা (North 24 Pargana) জেলার বনগাঁর গাইনপুর গ্রামের বাসিন্দা রাহাতরা। স্ত্রী ছাড়া বাড়িতে রয়েছেন অসুস্থ মা। সন্তানের জন্ম হলে দেখভালের অসুবিধা। তাই সন্তানসম্ভবা স্ত্রীকে শ্বশুরবাড়িতে রাখার পরিকল্পনা করেছিলেন। উত্তর দিনাজপুর জেলার চাকুলিয়ায় রাহাতের শ্বশুরবাড়ি। তাঁরা সেখানেই যাচ্ছিলেন। শনিবার শিয়ালদা স্টেশন থেকে আপ উত্তরবঙ্গ এক্সপ্রেস ট্রেনের স্লিপার ক্লাসে উঠেছিলেন। কিশনগঞ্জ স্টেশনে নামার কথা। তারপর সেখান থেকে চাকুলিয়া যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু যা ভাবনা, সেইমতো সবকিছু ঘটেনি। মধ্যরাতে ট্রেনটি ফরাক্কা স্টেশনে পৌঁছানোর পর হঠাৎ প্রসবযন্ত্রণা ওঠে ওই বধূর। যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকেন তিনি। সেই সময় সহযাত্রীদের সহযোগিতায় হেল্পলাইন নম্বরে ফোন করেন রাহাত। আরপিএফ, টিটি ও রেলকর্মীরা চলে আসেন। তবে ট্রেন মালদা টাউন স্টেশন না পৌঁছালে কিছু করার নেই বলে জানান তাঁরা। আরপিএফ কর্মীরা মালদা টাউন স্টেশনে আগেভাগেই বিষয়টি জানিয়ে রেখেছিলেন। সেইমতো সমস্ত ব্যবস্থা করা হয় মালদা টাউন স্টেশনে। আপৎকালীন পরিস্থিতিতে অস্থায়ী লেবার রুম বানানো হয়। রাত ২টা নাগাদ স্টেশনে ট্রেনটি পৌঁছাতেই তড়িঘড়ি নামানো হয় অন্তঃসত্ত্বাকে। প্রসবের পর তাঁদের মেডিকেলে পাঠানো হয়েছিল। এখন তঁারা মাতৃমায় চিকিৎসাধীন।

