বাদুড়িয়া: উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়ায় এক যুবককে খুনের (Baduria Murder) পর দেহ টুকরো টুকরো করে খালের জলে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নেমে পুলিশ পাপিলা ২২ নম্বর বুথের বিএলও (BLO) রিজওয়ান হাসান মণ্ডল ওরফে মন্টু এবং সাগর গাইন নামে দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে। মৃত যুবকের নাম নাসির আলি (৩৬)।
গত ৯ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা থেকে নিখোঁজ ছিলেন নাসির। পরিবারের দাবি, ওই দিন সন্ধ্যায় নাসিরের ফোনে একটি কল আসে। ফোনকর্তা নিজেকে এইআরও (AERO) পরিচয় দিয়ে এসআইআর (SIR) সংক্রান্ত কাজের জন্য আধার ও ভোটার কার্ডের জেরক্স নিয়ে দেখা করতে বলেন। ফোন পেয়েই বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান নাসির, কিন্তু তারপর আর ফেরেননি। পরদিন চাতরা এলাকার একটি খাল থেকে তাঁর মোটরবাইক ও জুতো উদ্ধার হয়।
ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ নাসিরের বন্ধু তথা বিএলও রিজওয়ান ও তার এক সহযোগীকে গ্রেফতার করে। ধৃতদের পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর হাড়হিম করা তথ্য সামনে আসে। রিজওয়ানের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাদুড়িয়ার বিভিন্ন ব্রিজের তলায় ও খালে তল্লাশি চালিয়ে তিনটি প্যাকেট উদ্ধার করে পুলিশ। সেই প্যাকেটগুলো থেকেই উদ্ধার হয় নাসিরের দেহাংশ। তবে নৃশংসতার চরম সীমা ছাড়িয়ে খুনিরা দেহ টুকরো করলেও এখনও পর্যন্ত মৃতের মাথার হদিস পায়নি পুলিশ।
মৃতের স্ত্রী বিউটি খাতুন বিবি জানান, রিজওয়ানের সঙ্গে তাঁর স্বামীর বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। কোনো শত্রুতা ছিল না বলেই তাঁদের বিশ্বাস। কেন এমন নৃশংসভাবে নাসিরকে খুন করা হলো, তা নিয়ে ধোঁয়াশায় পরিবার ও এলাকাবাসী। পুলিশ খুনের প্রকৃত মোটিভ বা কারণ খতিয়ে দেখছে। অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছে নিহতের পরিবার।

