সানি সরকার, শিলিগুড়ি: দুই দেশ এবং দুটি জায়গার মধ্যে রয়েছে বিস্তর তফাত। কিন্তু নিউজিল্যান্ডের (New Zealand) ডানেডিন এবং ভারতের বাগডোগরা বিমানবন্দর (Bagdogra Airport) সমস্যার দিক থেকে একই সারিতে দাঁড়িয়ে। সমাধানের ক্ষেত্রেও দুনেদিনের পথেই হাঁটল বাগডোগরা। বিদায় জানানোর জন্য উত্তরের অন্যতম বিমানবন্দরেও সময় বেঁধে দেওয়া হল তিন মিনিট। বিদায়বেলায় আলিঙ্গন বা অন্য কোনও কারণে বেঁধে দেওয়া সময়সীমা অতিক্রম করলে, নিউজিল্যান্ডের মতো এখানেও গুনতে হবে জরিমানা। যানজট নিরসনেই এই সিদ্ধান্ত, বক্তব্য কর্তৃপক্ষের। বিমানবন্দরের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে পরিবহণ ব্যবসায়ী এবং গাড়ি চালকদের সংগঠন থেকে বিমানযাত্রীরাও।
নিউজিল্যান্ডের ডানেডিন বিমানবন্দর থেকে ভারতের বাগডোগরা বিমানবন্দরের দূরত্ব আকাশপথেই ১১ হাজার ৫১০ কিলোমিটার। মাঝে রয়েছে আরব মহাসাগর, বঙ্গোপসাগর ছাড়াও তাসমানিয়া, কোরাল, সোলেমানের মতো একাধিক সমুদ্র। প্রশান্ত মহাসাগরের দ্বীপরাষ্ট্রটির সঙ্গে এশিয়ার এই জনপদের মধ্যে ভাষা এবং সংস্কৃতির বিস্তর ফারাক রয়েছে। কিন্তু যানজট রোধের ক্ষেত্রে নিউজিল্যান্ডের দুনেদিন বিমানবন্দরকেই মডেল করল বাগডোগরা।
কিন্তু কেন এমন সময়সীমা বেঁধে দেওয়া? বিমানবন্দরের আধিকারিকদের বক্তব্য, বিদায়পর্বে অনেকরই খেয়াল থাকে না এলাকাটি সংকীর্ণ। গাড়ি দাঁড় করিয়ে পরস্পর আলিঙ্গনাবদ্ধ হয়ে কাটিয়ে দেন অনেকটা সময়। তৈরি হয় তীব্র যানজট। ফলে সমস্যায় পড়তে হয় অন্য যাত্রীদের। যানজট নিরসনেই এমন সিদ্ধান্ত।
সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার ব্যাপারে প্রথম এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিল দুনেদিন বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। কাকতালীয়ভাবে হলেও নিউজিল্যান্ডের বিমানবন্দরটির মতো বাগডোগরা বিমানবন্দরেও বিদায় জানানোর ক্ষেত্রে বরাদ্দ হয়েছে সেই তিন মিনিট।
বাগডোগরা বিমানবন্দরে প্রবেশের ক্ষেত্রে এন্ট্রি গেটে পৌঁছাতেই এখন ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে তিন মিনিটের টোকেন। শুধু টোকেন ধরিয়ে দেওয়া নয়, তিন মিনিটের বিষয়টি বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে বিমানবন্দরে প্রবেশের সময়। শুক্রবার এমন টোকেন পেয়ে কার্যত হতভম্ব হয়ে পড়েছিলেন শিলিগুড়ির উত্তর ভারতনগরের তনুশ্রী সান্যাল। দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরে পা রাখার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। কিন্তু সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার এমন টোকেন কোনও দিন তাঁর হাতে আসেনি বলে দাবি তনুশ্রীর। তিনি বললেন, ‘প্রথমে কিছুটা অবাক হলেও পরে সমস্তটা শুনে বেশ মজাই লেগেছে।’ এক আধিকারিকের কথায়, ‘এছাড়া আর উপায় কী। কেউ কেউ তো এমন ভাবে হাগ করতে থাকেন যে, রাস্তা ছেড়ে দূরে যাওয়ার অনুরোধ করতে হয়। কেঁদেও ভাসিয়ে দেন অনেকে। আসলে প্রিয়জনকে কে ছাড়তে চায়!’
এই না ছাড়তে চাওয়ার জন্যই তীব্র যানজটের সৃষ্টি এবং বাকিদের সমস্যায় পড়তে হয়। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়সীমা অতিক্রম হলে কী করা হবে? বিমানবন্দর সূত্রে খবর, তিন মিনিট হলে প্রথমে গাড়ি সরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে অনুরোধ করা হবে। কিন্তু কাজ না হলে জরিমানা করা হবে। শুধু বিদায় জানানোর ক্ষেত্রে নয়, স্বাগত জানানোর ক্ষেত্রেও একই সময়সীমা বরাদ্দ করা হয়েছে। তবে ভিভিআইপিদের ক্ষেত্রে ছাড় থাকছে।
বাগডোগরা ট্যাক্সি ওনার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মিলন সরকার বলছেন, ‘পার্কিংয়ে অনেক জায়গা থাকলেও বিমানবন্দরের সামনে তেমন জায়গা নেই। ফলে প্রায়দিনই যানজট লেগে যায়। সমস্যাও তৈরি হয়। ফলে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্ত যথোপযুক্ত।’

