পঙ্কজ মহন্ত, বালুরঘাট: শিল্পীর হাতের জাদুতে চক বা পেন্সিলের মধ্যে দেবী দুর্গার মুখ ফুটে উঠতে দেখেছেন অনেকেই। কিন্তু এবার সবজি বাজার থেকে কিনে নিয়ে আসা লাউয়ের উপরে তুলির ছোঁয়ায় দেবী দুর্গার মুখ ভেসে উঠল বালুরঘাটে। যা ইতিমধ্যেই প্রশংসা কুড়িয়েছে শহরবাসীর। দুর্গাপুজোর প্রাক্কালে দেবীকে শ্রদ্ধা জানাতেই এই উদ্যোগ বলে জানান মেকআপ শিল্পী রীতা বসাক।
বালুরঘাট শহরের মঙ্গলপুর এলাকার বাসিন্দা রীতাদেবী পেশায় মেকআপ আর্টিস্ট হলেও সৃজনশীল ভাবনার কাজ করে হরদম। তিনি সবুজ লাউয়ের উপরে এঁকে ফেলেছেন দেবী দুর্গার মুখাবয়ব। যেখানে তাঁর ত্রিনয়ন, ঠোঁটের কোণের হাসি কিছুই বাদ যায়নি। প্রথমে তিনি সবজি বাজার থেকে একটি তরতাজা ও নিখুঁত লাউ কিনে নিয়ে আসেন। তারপর সেটিকে গঙ্গাজল ও দুধ দিয়ে শোধন করতেও ভোলেননি। তার জন্য স্নান করে পরিষ্কার জামা কাপড় পড়ে প্রদীপ জ্বালিয়ে সমস্ত আয়োজন করেন। পরে লাউয়ের উপরে দুর্গার ছবি ফুটিয়ে তোলার জন্য একমনে লেগে পড়েন রীতাদেবী। টানা পাঁচ ঘণ্টার পরিশ্রমের পরে দেবী দুর্গার সাবেকি রূপের ছবি ফুটে ওঠে। মূলত এক্রিলিক মাধ্যমে তিনি এই কাজ করেছেন। তবে চোখ আঁকানোর সময় আই লাইনার ব্যবহার করা হয়েছে বলে তিনি জানান। সাবেকি রূপ দেওয়ার জন্য সেই লাউয়ের উপরে ডাকের সাজও দেওয়া হয়েছে।
এই বিষয়ে শিল্পী রিতা বসাক বলেন, ‘বাজারে গিয়ে সঠিক আকার ও আয়তনের লাউ খুঁজতে হয়েছে। কিনে আনার পর লাউ মসৃণ ছিল। সেই মসৃণ উপরিতলে আঁকানো একটু কষ্টের। তার ওপরে আবার দুধ, গঙ্গাজল দিয়ে শোধন করার ফলে লাউয়ের গা আরও মসৃণ হয়ে গিয়েছিল। তাই জল রং বেস দিয়ে কাজ শুরু করলেও তা টেকসই হচ্ছিল না। পরে ফেব্রিক বেস ব্যবহার করি। তার ওপরে এক্রেলিক দিয়ে মায়ের রূপ ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছি। দুদিন আগেই রাত সাড়ে বারোটা পর্যন্ত এই কাজ করেছি। মোট পাঁচ ঘণ্টা সময় লেগেছে দেবীর রূপের আদল নিয়ে আসতে।‘
চিত্রশিল্পী ও চিত্র পরিচালক জয় নিরুপম ভাদুড়ী বলেন, ‘এমন শিল্প-কর্ম সচরাচর দেখা যায় না। কারণ কোনও সবজির উপর আঁকা অত সহজ কাজ নয়। তার মধ্যে দেবী দুর্গার মুখাবয়ব। যা ফুটিয়ে তুলতে অধ্যবসায় প্রয়োজন। তার এই সৃজনশীলতা অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার।’

