পঙ্কজ মহন্ত, বালুরঘাট: রাজনৈতিক পালাবদলের ঢেউ আছড়ে পড়ল ডালপুরির প্লেট আর চায়ের কাপে। রাজ্যে বিজেপি (BJP) ক্ষমতায় আসার আনন্দে যখন গেরুয়া শিবিরের উল্লাস তুঙ্গে, তখন বালুরঘাট (Balurghat) শহরের দুই ব্যবসায়ী তাঁদের জমানো পুঁজি খরচ করে শামিল হলেন এই উৎসবে। মঙ্গলবার সকাল থেকেই শহরের রঘুনাথপুর এবং সত্যজিৎ মঞ্চ এলাকা ছিল মানুষের ভিড়ে ঠাসা। সৌজন্যে— উত্তম রবিদাস ও বিশু সরকার।
রঘুনাথপুর এলাকার ডালপুরি বিক্রেতা উত্তম রবিদাস এদিন সকাল ৭টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সকলকে বিনামূল্যে গরম গরম ডালপুরি খাইয়েছেন। কোনো অনুদান বা সাহায্য ছাড়াই নিজের ইচ্ছায় কয়েকশো মানুষকে আপ্যায়ন করেছেন তিনি। কেন এমন উদ্যোগ? উত্তমবাবুর গলায় ঝরে পড়ল দীর্ঘদিনের ক্ষোভ। তিনি বলেন, “গত ১৫ বছরে রাজ্যে কোনো শিল্প হয়নি। শিক্ষিত যুবকরা কর্মসংস্থান না পেয়ে টোটো চালাচ্ছে কিংবা রাস্তার ধারে ঘুগনি বিক্রি করছে। এই অবস্থার পরিবর্তন দরকার ছিল। তাই বিজেপির জয়ে (BJP Victory Celebration) আমি সাধারণ মানুষকে ডালপুরি খাওয়াচ্ছি।”


অন্যদিকে, ডি মোড় সংলগ্ন সত্যজিৎ মঞ্চের পাশে ছোট এক চায়ের দোকানের মালিক বিশু সরকার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বিনামূল্যে চা ও বিস্কুট বিলি করেছেন। লোকসভা ভোটের সময়ও তিনি এমন প্রতিশ্রুতি দিয়ে তা রক্ষা করেছিলেন। বিশু বলেন, “কথা দিয়েছিলাম রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় এলে বিনামূল্যে চা খাওয়াবো। সেই কথা রাখতেই সকাল থেকে রাত পর্যন্ত যে দোকানে এসেছে তাকেই চা দিয়েছি।” তাঁর দোকানে রাজনৈতিক আড্ডায় শামিল হয়েছিলেন বিজেপির টাউন সভাপতি সমীর প্রসাদ দত্তও।
আর্থিক স্বচ্ছলতা খুব একটা না থাকলেও, রাজনৈতিক আদর্শ আর কথা দিয়ে রাখার এই মানবিক মানসিকতাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ। এদিন ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি আর ডালপুরি-চায়ের স্বাদে বালুরঘাটের অলিগলি এক অন্যরকম রাজনৈতিক আবেগের সাক্ষী থাকল।

