রূপক সরকার, বালুরঘাট: প্রায় ২১ দিন আগে বালুরঘাট সুপারস্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি হওয়া বৃদ্ধাকে সুস্থ করে এবং পরিচয় বের করে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হল। সোমবার বিকেলে ওই বৃদ্ধাকে বালুরঘাট জেলা হাসপাতালের মানসিক বিভাগ থেকে নতুন শাড়ি পরিয়ে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। দীর্ঘদিন পর বৃদ্ধাকে খুঁজে পাওয়ায় খুশি বৃদ্ধার আত্মীয়রা।
খোঁজ পাওয়ার পর জানা গিয়েছে, ওই বৃদ্ধার নাম ফুলমণি কিস্কু (৭০)। বাড়ি বালুরঘাট (Balurghat) ব্লকের ভাটপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের মাঝিগ্রামে। প্রায় মাস খানেক আগে থেকেই নিখোঁজ ওই বৃদ্ধা। কাউকে কিছু না বলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান তিনি। মানসিকভাবে অসুস্থ থাকায় এর আগেও এমনভাবে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। পরে আবার চলেও আসতেন।


চলতি মাসের ৭ তারিখে শহরে অসুস্থ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন ওই বৃদ্ধাকে। তবে নাম পরিচয় জানতে না পারায় অজ্ঞাতপরিচয় বৃদ্ধাকে বালুরঘাট সুপারস্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করে পুলিশ। ওই সময় বৃদ্ধার মাথায় আঘাত ছিল। যার কারণে তাকে বালুরঘাট সুপারস্পেশালিটি হাসপাতালের সার্জিক্যাল বিভাগে ভর্তি করা হয়। সেখানে প্রায় ২০ দিন থাকার পর মাথার আঘাত ঠিক হয়।
এদিকে সার্জিক্যাল বিভাগের চিকিৎসাধীন থাকার সময় গত শনিবার ওই বৃদ্ধাকে চিনতে পারেন প্রতিবেশী এক মহিলা। তিনি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আসলে বৃদ্ধাকে দেখে চিনতে পারেন। এরপরই ওই প্রতিবেশী মহিলা বৃদ্ধার বাড়িতে খবর দেন। রবিবার বৃদ্ধার বাড়ির সদস্যরা হাসপাতালে আসেন এবং তাঁকে শনাক্ত করেন।
এবিষয়ে ওই বৃদ্ধার পুত্রবধূ নমিতা কিস্কুর মন্তব্য, ‘শাশুড়ি মানসিকভাবে অসুস্থ। দুই ছেলের মধ্যে বড় ছেলে চোখে দেখতে পান না। মাঝেমধ্যেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতেন আবার চলেও আসতেন। মাসখানেক আগে বাড়ি থেকে বেরোনোর পর তিনি আর ফিরে আসেননি। আশেপাশের আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে খোঁজখবর করেছি, কিন্তু কোথাও খোঁজ পায়নি। অবশেষে গত শনিবার উনি হাসপাতালে ভর্তি আছেন তা প্রতিবেশীর কাছ থেকে জানতে পারি।’
বালুরঘাট জেলা হাসপাতালের সুপার কৃষ্ণেন্দুবিকাশ বাগ জানিয়েছেন, ‘ওই বৃদ্ধার পরিবার থানায় নিখোঁজ অভিযোগ দায়ের করেনি। তাই ওনার নাম পরিচয় জানতে খুব সমস্যা হচ্ছিল। পুলিশকে জানিয়েও কোন লাভ হয়েছিল না। অবশেষে ওঁর এক প্রতিবেশী দেখতে পাওয়ার পর তাঁর নাম পরিচয় জানা যায়।’

