সুবীর মহন্ত, বালুরঘাট: একটা বাচ্চা কুকুর একটা মরা পায়রা ছিঁড়ে ছিঁড়ে খাচ্ছে। আরেকটি বাচ্চা কুকুর আশপাশে ঘুরে বেড়াচ্ছে। সোমবার দুপুরে বালুরঘাট সদর হাসপাতালের (Balurghat Hospital) ইমার্জেন্সি বিভাগের গেটের অনতিদূরেই চোখে পড়ল এই দৃশ্য। অনেকেই তা দেখে পাশ কাটিয়ে চলে গেলেন। তবে রোগীর পরিজনরা রীতিমতো আতঙ্কিত। ইমার্জেন্সি বিভাগের মতো জায়গায় যদি এভাবে পথকুকুর (Stray Dog News) ঘুরে বেড়ায় তবে যে কোনও সময় সংক্রমণের আশঙ্কা (Infection Risk) করছেন তাঁরা।
অথচ এমনটা কিন্তু হওয়ার কথা নয়। গত নভেম্বর মাসেই হাসপাতাল চত্বরে ঢুকে পড়া গোরু বা কুকুরদের আশ্রয়স্থল তৈরি করা, কুকুরদের নির্বীজকরণ, টিকাকরণ নিয়ে পুরসভা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেছিল বালুরঘাট জেলা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে ও সংক্রমণ রুখতে হাসপাতাল ক্যাম্পাসে কুকুর, গোরু ইত্যাদি যাতে কোনওভাবেই প্রবেশ করতে না পারে, সেজন্য উদ্যোগী হয়েছিল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তৎকালীন বালুরঘাট পুরসভার চেয়ারম্যান নিজে ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। পুর কর্তৃপক্ষই তো পশুদের জন্য আশ্রয়স্থল তৈরি ও নির্বীজকরণের প্রক্রিয়া চালাবে বলে দায়িত্ব নিয়েছিল। কিন্তু তারপর কাজের কাজ কিছুই হয়নি। চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা নিয়ে আসায় সব তালগোল পাকিয়ে গিয়েছে। অভিভাবকহীন বালুরঘাট পুরসভা কবে সেই জট কাটিয়ে উঠবে, আর কবে হাসপাতালের এই গুরুত্বপূর্ণ কাজ সারবে, তার অপেক্ষায় সকলে।
বালুরঘাট জেলা হাসপাতালের সুপার কৃষ্ণেন্দুবিকাশ বাগ বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমরা পুরসভার সাহায্য চেয়েছিলাম। পুরসভার সঙ্গে বৈঠকও করেছি। তখন পুরসভা নিয়মিত হাসপাতালের আবর্জনা সংগ্রহ করবে বলে জানিয়েছিল। এছাড়াও নির্বীজকরণ ও আশ্রয়স্থল তৈরি করে দেবে বলে কথা দিয়েছিল। কিন্তু এখনও কোনও সহযোগিতা পাইনি।’
এদিন কুকুরদের ওই পায়রা খাওয়ার দৃশ্য দেখার পর সংক্রমণের আশঙ্কা করছেন রোগীর আত্মীয়রা। ওই পথ পেরিয়েই প্রতীক্ষালয় থেকে বিভিন্ন বিভাগে যান তাঁরা। শুধু সেখানেই নয়, ব্লাড ব্যাংকের সামনের রাস্তাতেও কুকুরদের ছোটাছুটি, মর্গের সামনে, হাসপাতাল ক্যান্টিনের সামনে বিভিন্ন এলাকায় পথকুকুরদের দেখা মিলবে। পাঁচিল ভাঙা থাকায় সেখান দিয়েও ঢুকে পড়ছে গোরু-ছাগল।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অবশ্য বলছে, হাসপাতাল চত্বর কুকুরমুক্ত করতে একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। হাসপাতালের প্রধান গেট শুধুমাত্র খোলা থাকবে। বাকি গেটগুলি বন্ধ রাখা হবে। নিরাপত্তারক্ষীদেরকেও বিশেষ সতর্ক করা হয়েছে। কুকুরদের টিকাকরণ হয়েছে।
হাসপাতাল চত্বরের বিভিন্ন জায়গায় উচ্ছিষ্ট খাবার ফেলে রাখা হয়। সেগুলি খেতেই কুকুরদের উৎপাত বাড়ে। ওই খাবার ও আবর্জনা যাতে দ্রুত হাসপাতাল ক্যাম্পাস থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়, সেই আবেদন করা হয়েছিল পুরসভার কাছে। কিন্তু পুরসভা অভিভাবকহীন হয়ে পড়ায় সেই কাজ বিশবাঁও জলে।
কয়েক মাস আগে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ভিতরে এক ভবঘুরের দেহ নিয়ে টানাটানি করেছিল কয়েকটি কুকুর। ওই মৃতদেহের পা খুবলে নেয় সেগুলি। সেই ঘটনার পর সারারাজ্যের পাশাপাশি বালুরঘাট হাসপাতালেও নিরাপত্তা বাড়ানোর আর্জি জানিয়েছিলেন রোগীর পরিজনরা। তখন পদক্ষেপ করা হবে বলে আশ্বস্ত করেছিল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু কাজের কাজ খুব একটা হয়নি। নিশ্চিন্তে হাসপাতাল ক্যাম্পাসে তো বটেই, কখনো- কখনো একতলা থেকে দোতলা পর্যন্ত কুকুরদের অবাধে যাতায়াত করতে দেখা গিয়েছে।

