পঙ্কজ মহন্ত, বালুরঘাট: ধান কাটার মরশুম প্রায় শেষ পর্যায়ে। মাঠের সোনালি ধান ঘরে তোলার তোড়জোড়ে ব্যস্ত কৃষক। কিন্তু ধান ঘরে নিয়ে যাওয়ার গাড়ির কাদায় বালুরঘাটের (Balurghat) বিস্তীর্ণ গ্রামীণ সড়ক বেহাল হয়ে পড়ায়, দুশ্চিন্তায় সাধারণ মানুষ। শেষ মুহূর্তের বৃষ্টিতে জমে যাওয়া মাঠের জল এখনও শুকোয়নি। ফলে কাদা মাখা ট্র্যাক্টরের চাকা যখন পাকা সড়কে উঠছে, তখন সেই কাদা ছড়িয়ে পড়ছে রাস্তায়। পিচ্ছিল হয়ে পড়ছে রাস্তা। আবার সেই মাটি শুকিয়ে যাওয়ায় ধুলোও উড়ছে। সবমিলিয়ে বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে রাজুয়া, কাশিপুর, চকভৃগু–গোবিন্দপুর হয়ে তপন রুট এবং খাসপুর–হরতন মোড় থেকে সৈয়দপুর হয়ে বোল্লা, নলতাহার, বোয়ালদা, খাসপুরের রাস্তা। কাদা ও ধুলোয় নাজেহাল অবস্থা পথচলতি সাধারণ মানুষের। পিচ্ছিল রাস্তায় ঘটছে দুর্ঘটনাও।
রাস্তার ওপর শুকনো মাটি জমাট বাধা থাকলেও, গাড়ির চাকার সংস্পর্শে তা ধুলো হতে বেশি সময় নিচ্ছে না। গাড়ির যত বেশি গতি, ততই ধুলো ঝড়ের ব্যাপ্তি। কিছু রাস্তায় অবস্থা এমন যে, রাস্তাটি পাকা না মাটির, দূর থেকে দেখে বোঝা দুষ্কর। একেই দৃশ্যমানতা কম থাকায় গাড়ি চালাতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে, তার মধ্যে বাতাসে বালির সূক্ষ্ম কণা থাকায়, তা শ্বাসপ্রশ্বাসে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে। সাধারণের আশঙ্কা, বৃষ্টি নামলে শুকনো মাটি ভিজে পিচ্ছিল হয়ে উঠবে রাস্তা। দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়বে বহুগুণ। বিপদের মুখে পড়তে হতে পারে মূলত মোটরবাইকচালকদের। অতীতেও এমন ঘটনা ঘটেছে একাধিকবার।
একটি বেসরকারি সংস্থার কর্মী শান্তনু সরকার বলছেন, ‘রাস্তার সর্বত্রই মাটি শুকিয়ে রয়েছে। ধুলো উড়ছে। অসাবধানতায় ব্রেক কষলেই মোটরবাইক নিয়ে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকছে। বৃষ্টি হলে এই মাটি রাস্তায় মরণফাঁদ তৈরি করবে।’ স্থানীয় নয়ন সরকার মনে করেন, ‘ধান কাটার মরশুমে কয়েকদিন অন্তর গ্রামীণ রাস্তাগুলি পরিষ্কার করা হলে পরিস্থিতি এতটা খারাপ হত না। কাদা শুকিয়ে শক্ত হওয়ার আগে জল দিয়ে রাস্তা থেকে তা সরিয়ে দিলে সমস্যা কম হত।’ এক্ষেত্রে প্রশাসনের উদ্যোগের কথা বলছেন অনেকে। কৃষকদের দাবি, আমন ধান ঘরে তোলার সময় ট্র্যাক্টর ব্যবহার ছাড়া উপায় নেই। কাশীপুরের কৃষক বাপি দাস বলছেন, ‘জমিতে ট্র্যাক্টর নামাতেই হবে এবং ট্র্যাক্টরের চাকার খাঁজে লেগে থাকা কাদা রাস্তায় পড়বেই। ফসল ঘরে তোলার অন্য কোনও পথ নেই।’

