সুবীর মহন্ত, বালুরঘাট: এ যেন ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ সিনেমার পার্ট-৩। সময় সোমবার দুপুর। ঘটনাস্থল বালুরঘাট থানা চত্বর। সেই সিনেমার প্রথম পার্টে হিরো রাহুল ছিলেন মোটর গ্যারাজের কর্মী। আর নায়িকা প্রিয়াংকা ছিলেন বড়লোকের মেয়ে। সেখানে নায়িকার পরিবার তাদের ওই প্রেমের সম্পর্ক মেনে নেয়নি। ঠিক তেমনই স্টিলের কারখানার কর্মীর সঙ্গে ব্যবসায়ী পরিবারের মেয়ের সম্পর্ক মেনে নিতে পারল না তাঁর পরিবার। আর তা নিয়েই এদিন দুপুরে বালুরঘাট থানা চত্বরে হুলুস্থুল। বালুরঘাট থানার পুলিশ অবশ্য এবিষয়ে মন্তব্য করতে চায়নি।
সেই যুগল কিন্তু সাবালক। কিন্তু তরুণীর বিত্তবান পরিবার মেয়ের সঙ্গে ওই তরুণের সম্পর্ক মানতে নারাজ। মেয়ের অন্য জায়গায় বিয়ের আয়োজন করেছিলেন তাঁরা। বাধ্য হয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে তারাপীঠে চলে যায় সেই যুগল। সেখানেই বিয়ে করেন। বিয়ে করে সটান চলে আসেন বালুরঘাট থানায় (Balurghat Police Station) হাজিরা দিতে। কারণ তার আগে আবার মেয়ে নিখোঁজ বলে অভিযোগ করেছিল তরুণীর পরিবার। মেয়ে ফিরেছে সেই ছেলের হাত ধরে, আবার বিয়ে করে! রেগে অগ্নিশর্মা অবস্থায় তরুণীর বাড়ির লোকজনও খবর পেয়ে চলে আসেন থানায়। অন্তত ৪০ জন লোক থানা চত্বরে প্রবল বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। প্রথমে জোর করে মেয়েকে বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যেতে শুরু করেন টানাহ্যাঁচড়া। একদিকে নতুন শ্বশুর-শাশুড়ি ও স্বামী হাত ধরে টানছেন, আরেকদিকে বাপের বাড়ির লোকজন! এসবের মধ্যে নতুন জামাইয়ের হাতে আঘাত লাগে। রক্তপাত হয়। কিন্তু তাতে রণে ভঙ্গ দেননি নতুন দম্পতি। মেয়ের সাফ কথা, ‘আমি স্বামীর সঙ্গে শ্বশুরবাড়িতেই যাব।’
তরুণী বলেন, ‘আমার বাবার নিজস্ব গাড়ির ব্যবসা রয়েছে। আমি যাকে বিয়ে করেছি, সে গরিব। তাই আমাদের এই সম্পর্ক না মেনে আমাকে অন্যত্র বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা শুরু হয়েছিল। আমি ভালোবাসার টানে পালিয়ে ওর সঙ্গে বিয়ে করেছি। ওর সঙ্গেই থাকতে চাই।’ তখন আবার শুরু হয় অন্য নাটক। কান্নার রোল শুরু হয়। মেয়ের মা দাবি করেন, মেয়ের মুখ তাঁরা আর দেখতে চান না। আর গয়নাগাটি, পোশাক সহ মেয়ের গায়ে বাপের বাড়ির দেওয়া যা কিছু রয়েছে, সব তখনই খুলে দিতে হবে। এবার হস্তক্ষেপ করে পুলিশ। তারা এসে ধমক দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। তবে মায়ের দাবি মেনে থানা চত্বরে দাঁড়িয়েই ওই তরুণী কিন্তু বাপের বাড়ির দেওয়া গয়না খুলে দিয়েছেন। পোশাকও ফেরত পাঠিয়ে দেবেন বলে জানিয়েছেন।
সেই তরুণীর বাড়ি বালুরঘাট (Balurghat) শহর লাগোয়া খিদিরপুর এলাকায়। তিনি বালুরঘাট কলেজের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী। আর তরুণের বাড়ি চকচন্দন গ্রামে। তরুণী বাড়ি ছাড়তে তাঁর পরিবার প্রথমে তরুণের বিরুদ্ধে অপহরণের অভিযোগ দায়ের করেছিল। পুলিশ খোঁজ করতেই তাঁরা থানায় হাজির হন। তাঁরা জানিয়েছেন, এর আগে গত মাসেই রেজিস্ট্রি বিয়ে করেছেন। পুলিশ তাদের সমস্ত তথ্য নথিবদ্ধ করে ওই দম্পতিকে বাড়ি ফিরে যেতে বলে। তার আগেই থানায় চলে আসেন মেয়েটির বাড়ির লোকজন। তরুণীর মা বলেন, ‘যাকে ছোটবেলা থেকে এত কষ্ট করে মানুষ করলাম, সেই মেয়ে আজ আমাদের কথা শুনছে না। ওর কিছুতেই ভালো হবে না।’
আর সেই তরুণের অভিযোগ, ‘আমরা যখন বাইরে ছিলাম, আমাদের বাড়িতে গিয়ে ভয় দেখিয়েছে ওরা। এদিন সকাল থেকে আমাদের থানার সামনেই মারধর ও প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।’

