সুবীর মহন্ত, বালুরঘাট: ১০ দিন পরেও রিপোর্ট এল না ল্যাবরেটরি থেকে। ফলে প্রসূতিদের সংক্রমণের কারণ স্পষ্ট নয় আজও। এমন পরিস্থিতিতে পৃথকভাবে কারণ খতিয়ে দেখতে বুধবার বালুরঘাট সুপারস্পেশালিটি হাসপাতালে (Balurghat Super Speciality Hospital) তদন্ত শুরু করল রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের বিশেষ দল। চার সদস্যের দলটি হাসপাতালে প্রসূতি সহ বিভিন্ন বিভাগ পরিদর্শনের পাশাপাশি অসুস্থ প্রসূতিদের পরিজন, ঘটনার সময় দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলে। তবে তদন্ত সংক্রান্ত বিষয়ে দলের কেউই মুখ খুলতে চাননি। তদন্তকারী দলের সঙ্গে থাকা দক্ষিণ দিনাজপুরের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ সুদীপ দাস বলেন, ‘রাজ্য থেকে যে তদন্তকারী দল এসেছে, তারা তদন্ত করছে। দলটি রিপোর্ট সরাসরি রাজ্যকে জমা দেবে। ওখান থেকেই তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ হবে।’
ইনজেকশন নাকি অন্য কোনও কারণ, কীভাবে একইদিনে সংক্রামিত হয়েছিলেন আটজন প্রসূতি, তা জানতে বিভিন্ন নমুনা পাঠানো হয়েছিল বাইরের ল্যাবরেটরিতে। কিন্তু তার রিপোর্ট এখনও মেলেনি বলে জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে খবর। তবে জেলা থেকে যে তদন্ত করা হয়েছিল, তাতে কিছু মেলেনি। এমন পরিস্থিতিতে আগামী ছয় মাস ওই প্রসূতিদের বিশেষ চিকিৎসা এবং নজরদারিতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে রাজ্যের তদন্তকারী দল। শুক্রবার প্রথম ওই প্রসূতিদের বিশেষ চিকিৎসার জন্য মেডিকেল টিম গঠন করা হচ্ছে বলে হাসপাতাল সূত্রে খবর। তদন্তকারী দলের সঙ্গে কথা বলে সন্তোষপ্রকাশ করেছেন প্রসূতিদের পরিজনরা। এমনই একজন বাপ্পা শীল বলেন, ‘তদন্তকারী দল আমাদের সঙ্গে কথা বলেছে। আমাদের অভাব-অভিযোগ, সমস্যার কথা তাঁরা মন দিয়ে শুনেছেন। পাশাপাশি রোগীদের বিশেষ নজরদারিতে চিকিৎসার কথা বলেছেন। আমরা খুশি।’


অন্যদিকে, পরিষেবা ও পরিকাঠামোর অভাবের অভিযোগ তুলে এদিন হাসপাতালে বিক্ষোভ দেখায় বিজেপির শহর কমিটি। কিছুক্ষণ বিক্ষোভ চলার পর বিক্ষোভকারীদের মধ্যে চারজনকে ডেকে নিয়ে কথা বলেন তদন্তকারী দলের সদস্যরা। সমস্ত অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে বিজেপিকে আশ্বাস দিয়েছে দলটি। বিজেপির শহর কমিটির সভাপতি সমীরপ্রসাদ দত্ত বলেন, ‘এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছিল এবং আট প্রসূতি অসুস্থ হয়ে পড়েন। কীভাবে ওই সংক্রমণ ছড়িয়েছিল, ওষুধের কোনও গাফিলতি ছিল কি না, সব বিষয়ে আমরা প্রকৃত তদন্ত দাবি করেছি। তদন্তকারী দলের সদস্যরা মনোযোগ সহকারে সমস্ত বিষয় শুনেছে এবং নিরপেক্ষ তদন্ত করবে বলে আমাদের আশ্বাস দিয়েছে।’
প্রসঙ্গত, গত ১৮ জুলাই রাতে দক্ষিণ দিনাজপুরের (Dakshin Dinajpur) বালুরঘাট সুপারস্পেশালিটি হাসপাতালে একযোগে অসুস্থ হয়ে পড়েন আট প্রসূতি। অভিযোগ, একটি ইনজেকশন দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই একে একে অসুস্থ হয়ে পড়েন সদ্য সন্তান জন্ম দেওয়া ওই মহিলারা। অসুস্থ প্রসূতিদের কাঁপুনি ও শ্বাসকষ্ট হতে থাকে। রাতভর অপারেশন থিয়েটারে রাখা হয় তাঁদের। পরের দিন তাঁদের সিসিইউ-তে স্থানান্তরিত করা হয়। দূরে রাখা হয়েছিল তাঁদের সন্তানদের। পাঁচদিন পরে প্রত্যেককে ছুটি দেওয়া হয়। তবে কী কারণে ওই প্রসূতিরা সংক্রামিত হয়ে পড়েছিলেন, তা এখনও অজানা। রাজ্যের তদন্ত কমিটি কি রিপোর্ট দেয়, এখন সেদিকেই নজর চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী এবং প্রসূতিদের পরিজনদের।

