শুভজিৎ দত্ত, নাগরাকাটা: দুর্যোগের পর এক মাসের বেশি সময় কেটে গিয়েছে। এখনও চা বাগানের কাজ চালু হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে বামনডাঙ্গা-টন্ডু চা বাগান দ্রুত স্বাভাবিক করার জোরালো দাবিতে শ্রমিকরা সরব হলেন (Tea Garden)। বিষয়টি নিয়ে সেখানকার সবক’টি শ্রমিক সংগঠন বাগান পরিচালকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। জলপাইগুড়ি ডেপুটি লেবার কমিশনার শুভাগত গুপ্ত বলেন, ‘৫ নভেম্বরে দুর্ভাগ্যজনক ওই প্রাকৃতিক দুর্যোগের এক মাস পূরণ হয়েছে। সেকারণে নতুন সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সেদিন থেকে শ্রমিকরা ফাওলই পাবেন।’
বামনডাঙ্গা-টন্ডু চা বাগানের ম্যানেজার সুরজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় জানান, শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা এসেছিলেন। ওঁদের দাবিদাওয়ার কথা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি বাগানের সার্বিক সমস্যা নিয়ে শ্রম দপ্তরকে চিঠি দেওয়া আছে।
এদিকে ৫ অক্টোবরের জলোচ্ছ্বাসে ক্ষতিগ্রস্ত কালচিনির সুভাষিণী চা বাগানের শ্রমিকদের শ্রম দপ্তর সরকারি মাসিক অনুদান প্রকল্প ফাওলইয়ের আওতায় নিয়ে এল। ইতিমধ্যে ওই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছে। বামনডাঙ্গার ১১৬৪ জন ও সুভাষিণীর ১২৫৭ জন পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত মাসে ১৫০০ টাকা করে পাবেন। চলতি মাসের ৫ তারিখ থেকে ওই সিদ্ধান্ত বলবৎ হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে খবর, বামনডাঙ্গা-টন্ডু চা বাগানে স্কুল যাওয়ার জন্য পরিচালকদের দেওয়া গাড়ি পরিষেবা বর্তমানে পুরোপুরি বন্ধ। ফলে ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়াদের পাশাপাশি কলেজ ছাত্রছাত্রীরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিতে যাতায়াত করতে পারছে না। মাধ্যমিকের টেস্ট তারা কীভাবে দেবে এটাও বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাগানের কর্ণধার ঋত্বিক ভট্টাচার্যর বক্তব্য, ‘আমরাও বাগান খুলতে চাই। তবে প্লাবনের পর যা পরিস্থিতি তাতে সরকারি সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি।’
৫ অক্টোবরের বিধ্বংসী প্লাবনের পর বামনডাঙ্গা-টন্ডুর শ্রমিকদের সরকারি বেসরকারি নানা স্তর থেকে ত্রাণসামগ্রী মিলেছে। এখনও অনেকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন। তবে এই মুহূর্তে শ্রমিকদের প্রধান দাবি কাজ। সেখানকার তৃণমূল চা বাগান শ্রমিক ইউনিয়নের এক নেতা কৈলাস গোপের মন্তব্য, ‘চাল, ডাল ও জামাকাপড় মিলছে। তবে হাতে টাকা না থাকলে সংসারের অন্য খরচ কীভাবে হবে। তাছাড়া ত্রাণ স্থায়ী কোনও সমাধানও নয়।’
বিজেপি প্রভাবিত ভারতীয় টি ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের স্থানীয় নেতা ও গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য লক্ষ্মণ কাওয়ার জানান, শ্রমিকদের ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে। মজুরির টাকাও বকেয়া পড়ে আছে। সবার একটাই দাবি, দ্রুত বাগান স্বাভাবিক করা হোক। শীত চলে এসেছে। এখন চা গাছের পরিচর্যার কাজ শুরু না হলে নতুন মরশুমে কাঁচা পাতা মিলবে না।
বামনডাঙ্গা-টন্ডুর পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে আপ্রাণ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে নাগরাকাটা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সঞ্জয় কুজুর জানিয়েছেন।

