উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: নির্বাচন সদনের ঠান্ডা ঘরে সোমবার বিকেলে যে উত্তাপ ছড়িয়েছিল, তা এখন বাইরে এসে দাবানলের আকার নিয়েছে (Election Commission vs Mamata)। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল প্রতিনিধি দল মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে দেখা করার পরেই শুরু হয় কাদা ছোঁড়াছুড়ি। মমতা যখন কমিশনের বিরুদ্ধে ‘জমিদারি মেজাজ’ এবং ‘দুর্ব্যবহারের’ অভিযোগ আনছেন, ঠিক তখনই পাল্টা বিবৃতিতে তৃণমূল বিধায়কদের বিরুদ্ধে গুণ্ডাগিরির অভিযোগ তুলল নির্বাচন কমিশন (Nirvachan Sadan)।
কমিশনের পাল্টা আক্রমণ: ‘হুমকি বরদাস্ত নয়’
কমিশনের বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ায় কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বা আধিকারিকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা সহ্য করা হবে না। কমিশনের দাবি, তৃণমূলের বিধায়করা প্রকাশ্য জনসভায় মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে হুমকি দিচ্ছেন ও এসআইআর কাজে যুক্ত বিডিও (ERO) এবং এসডিও-দের অফিসে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে কমিশনের সাফ কথা, আইন নিজের হাতে তুলে নিলে কমিশন চরম কড়া পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে।
বদলি ও এফআইআর নিয়ে টানাপোড়েন
সংঘাতের মাত্রা আরও বেড়েছে আধিকারিকদের বদলি নিয়ে। কমিশনের অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গ সরকার নিয়ম বহির্ভূতভাবে তিনজন আধিকারিককে বদলি করেছে। গত ২৭শে জানুয়ারি সেই বদলি বাতিলের অনুরোধ করা হলেও নবান্ন তাতে কর্ণপাত করেনি। এছাড়াও চারজন অভিযুক্ত আধিকারিকের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করার কথা থাকলেও রাজ্য সরকার তা এড়িয়ে যাচ্ছে বলে কমিশনের দাবি। বিএলও-দের সাম্মানিক নিয়েও সাফাই দিয়েছে কমিশন। ১৮ হাজার টাকার মধ্যে ৭ হাজার টাকা ইতিমধ্যেই মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে। সব মিলিয়ে, ভোটার তালিকাকে কেন্দ্র করে কেন্দ্র ও রাজ্যের এই প্রশাসনিক যুদ্ধ এখন কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।

